ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

২০ তম বিসিএস ব্যাচের মেধাবী ও পেশাদার কর্মকর্তারা পদোন্নতি বন্ঞিত,, পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে ন্যায় বিচার চান


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯-৪-২০২৬ দুপুর ৩:০

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনে একটি দক্ষ, পেশাদার ও ন্যায়সংগত সিভিল সার্ভিস কাঠামো অপরিহার্য। তবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তর—অতিরিক্ত সচিব পদে সাম্প্রতিক পদোন্নতি প্রক্রিয়া—সে অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে ১১৮ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এ পদোন্নতিতে ২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিধিমালা অনুসরণের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে ও বাইরে এই পদোন্নতিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থাহীনতা ও মনোবল সংকট তৈরি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন  সরকার পদোন্নতি প্রদানে প্রচলিত “পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২” যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এমনকি যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বা যাদের নাম বিতর্কিত ঘটনায় এসেছে যেমন ডিসি কেলেংকারী সহ দুদকে অভিযোগ, , তারাও পদোন্নতি পেয়েছেন—যা প্রশাসনিক ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।
২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে বর্তমানে প্রায় ২৯৭ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। এদের প্রায় সকলেই যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন এবং প্রায় সবাই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য। কিন্তু ২৭ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে মাত্র ১০০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৬৫% যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।
তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোতে পদোন্নতির হার ছিল অত্যন্ত উচ্চ—১৫তম ব্যাচে ৯৬%, ১৭তম ব্যাচে ৯৫.৬% এবং ১৮তম ব্যাচে ৯৭.৭%। সেখানে ২০তম ব্যাচে এই হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৪.৮%-এ। এই বৈষম্য প্রশাসনিক ভারসাম্য ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেধা তালিকার শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। মেধা তালিকার প্রথম ৫০ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন। একইভাবে, মেধা তালিকাভুক্ত মোট যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রায় ৬০% পদোন্নতি পাননি। এতে স্পষ্টতই মেধা ও জ্যেষ্ঠতা—দুই গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডই উপেক্ষিত হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা এবং পেশাদার, নিরপেক্ষ কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক ট্যাগের কারণে বাদ পড়েছেন। এই প্রবণতা প্রশাসনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একটি বৈষম্যমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ে এখনো বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সচিব পদ শূন্য রয়েছে। এই বাস্তবতায় যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দেওয়া প্রশাসনিক দক্ষতার পরিপন্থী।
এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশঙ্কা সামনে এসেছে—যদি ২০তম ব্যাচের পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমাধান না করে পরবর্তী ব্যাচের পদোন্নতি দেওয়া হয়, তাহলে সিনিয়র কর্মকর্তাদের জুনিয়রের অধীনে কাজ করতে হতে পারে। এতে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, বরং পুরো সিভিল সার্ভিসের কাঠামোগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

বর্তমান সরকারের ঘোষিত বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে এই বিতর্কিত পদোন্নতি প্রক্রিয়ার দ্রুত পুনর্বিবেচনা অপরিহার্য। একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও বিধিমালা-অনুসারী রিভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এমএসএম / এমএসএম

অস্ত্র-ড্রোনসহ ‘উগ্রবাদী সংগঠনের’ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে শোকজ

২০ তম বিসিএস ব্যাচের মেধাবী ও পেশাদার কর্মকর্তারা পদোন্নতি বন্ঞিত,, পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে ন্যায় বিচার চান

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে কর্মচারীদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের অভিযোগ

খিলক্ষেতে উন্নয়নের অঙ্গীকারে শওকত উল ইসলাম সৈকত

টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ: আব্দুল হাসেমের পাশে দাড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা: দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়নের নির্দেশ পূর্ত প্রতিমন্ত্রীর

আইসিটি অধিদপ্তরে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার দাপট

রাজধানীর মিরপুরে টেলিগ্রামের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি বিক্রির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

অবশেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ট্রেডিং এন্ড কনস্ট্রাকশনের সাথে জাগৃক এর চুক্তি বাতিল

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তেল নিয়ে তেলেসমাতি ব্যবসা

রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান: মিরপুর ও শেওড়াপাড়ায় নকশা বহির্ভূত ৯ ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

তাপদাহ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান