ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক এস. এম. মিজানুর রহমান রাজ


শেখ নাহিদ photo শেখ নাহিদ
প্রকাশিত: ১৬-৫-২০২৬ দুপুর ২:২৯

একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি ও প্রাণপ্রবাহ লুকিয়ে থাকে তার তৃণমূলের ভাবাবেগ, ত্যাগ এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্বের মেলবন্ধনের ভেতর। প্রতিকূল সময়ে যারা আদর্শের পতাকা হাত থেকে ফেলে দেননি, বরং প্রতিপক্ষের মামলা-হামলা, জেল-জুলুম আর চরম রাষ্ট্রীয় নির্যাতনকে আলিঙ্গন করে মাঠ আগলে রেখেছেন সংগঠনের ক্রান্তিকালে ও পুনর্গঠনে তারাই হয়ে ওঠেন অবিকল্প কাণ্ডারি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও বৃহত্তম সাংগঠনিক ইউনিট হলো ঢাকা মহানগর উত্তর। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ইউনিটের সাংগঠনিক পুনর্গঠন যখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় চলে এসেছে যোগ্য, ত্যাগী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রশ্নটি। আর এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি সগৌরবে, অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছেন তিনি হলেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক, তৃণমূলের আস্থার প্রতীক এস. এম. মিজানুর রহমান রাজ।
চার দশকের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম ও নেতৃত্বে এস. এম. মিজানুর রহমান রাজের রাজনৈতিক জীবন কোনো আকস্মিকতার ফসল কিংবা ড্রয়িংরুম রাজনীতির দান নয়; এটি দীর্ঘ চার দশকের এক নিরবচ্ছিন্ন, রক্তঝরা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ছাত্ররাজনীতির সোনালী দিন থেকেই তিনি নিজেকে একজন কুশলী ও নির্ভীক সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। দেশের অন্যতম প্রধান ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে  সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে মেধা ও সাহসের স্বাক্ষর রেখেছেন, তা আজও ছাত্রদলের ইতিহাসে অনুকরণীয়।

এরপর তিনি বৃহত্তর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত সফলতার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতিতে তার এই অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির কঠিন পঙ্কিল পথ পেরিয়ে যুবরাজনীতিতে প্রবেশ করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক, বাড্ডা-রামপুরা-ভাটারা জোনের সাবেক টিম লিডার এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি নিজেকে কেবল একজন জনপ্রিয় নেতাই নন, বরং একজন শীর্ষ স্তরের দক্ষ ও আধুনিক সংগঠক হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

রাজনীতিতে 'পরীক্ষিত' শব্দটির একটি গভীর ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। ক্ষমতার ছায়ায় বসে, সুযোগ-সুবিধার ভাগ নিয়ে নেতা হওয়া সহজ; কিন্তু বিরোধী শিবিরের তীব্র স্রোত, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন আর ফ্যাসিবাদের বুলেটের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সংগঠনকে বাঁচিয়ে রাখা কেবল প্রকৃত নায়কদের পক্ষেই সম্ভব। মিজানুর রহমান রাজ সেই ঘরানারই একজন ব্যতিক্রমী নেতা, যার ধমনীতে মিশে আছে রাজপথের ধুলোবালি আর লড়াইয়ের রক্তকণিকা।
বিগত দেড় দশক ধরে চলা স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ত্যাগ ও সাহসিকতা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। তার রাজনৈতিক জীবনের কিছু অকাট্য পরিসংখ্যানই বলে দেয় তিনি কতটা অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন:
মামলার পাহাড়: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার নামে দায়ের করা হয়েছে ২৬৮টি রাজনৈতিক মামলা।
অন্যায় সাজা: ফ্যাসিবাদী আদালতের ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের মাধ্যমে ৭টি মামলায় তাকে মোট ১৯ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্ঠ: রাজপথ থেকে তাকে ১০ বার গ্রেপ্তার করে কারাবরণ করানো হয়েছে। প্রতিটি বারই তিনি জেল থেকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ফিরে এসেছেন।
ক্রসফায়ারের মুখ থেকে ফিরে আসা: রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তাকে আড়াই মাস রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি 'ক্রসফায়ার'-এর মতো চরম মরণফাঁদ থেকেও মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরে এসেছেন।
১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক বীরত্ব: ৮ই ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, প্রথম ১৪৪ ধারা ভেঙে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনে বুক চিতিয়ে স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন এই অকুতোভয় সেনানি।

২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গ্রেপ্তার হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দমন-পীড়ন আর আতঙ্কের সেই পরিবেশেও রাজপথ ছাড়েননি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এর আগেও বন্দি অবস্থায় পিজি হাসপাতালে বাথরুমে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন তারেক রহমান। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথে নামেন এস এম মিজানুর রহমান রাজের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

সে সময় রাজধানীতে প্রথম দিকের যে কয়েকটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ফার্মগেটের বিক্ষোভ কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথম প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। একই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নেতৃত্বে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে ফার্মগেটে এস এম মিজানুর রহমান রাজের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাহসী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কঠোর নজরদারি ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি জানান দেওয়ায় আন্দোলন-সংগ্রামে রাজের ভূমিকা নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

তিনি কেবল ড্রয়িংরুমে বসে নির্দেশ দেওয়া বা ফেসবুকে রাজনীতি করা নেতা নন; বরং যেকোনো আন্দোলনের সম্মুখভাগে থেকে, টিয়ারশেল ও বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে কর্মীদের আগলে রাখা এক সত্যিকারের ফ্রন্টলাইন ফাইটার।
আজ যখন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের জোর প্রস্তুতি চলছে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় একটি নামই সবচেয়ে বেশি ধ্বনিত হচ্ছে এস. এম. মিজানুর রহমান রাজ। কর্মীদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, পোস্টার-ব্যানারে সাজানো আকুতি ও বিপুল প্রত্যাশা কোনো কৃত্রিম বা ভাড়াটে আয়োজন নয়। এটি মূলত রাজের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সততা, কর্মীদের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং সুখে-দুঃখে পাশে থাকার এক অনিবার্য ও স্বাভাবিক ফসল। তৃণমূল আজ কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই তাকেই এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের 'সভাপতি' হিসেবে দেখতে চায়।
একটি গতিশীল, আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম যুবদল গঠনে মিজানুর রহমান রাজের মতো দূরদর্শী, অভিজ্ঞ এবং মাঠের নাড়ি-নক্ষত্র জানা নেতার কোনো বিকল্প হতে পারে না। নেতৃত্ব কেবল পদের অলঙ্কার বা অহংকার নয়; এটি একটি বিশাল ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের সব যোগ্যতা ও সাংগঠনিক পরিপক্বতা যে এস. এম. মিজানুর রহমান রাজের রয়েছে, তা তার গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাসই সাক্ষ্য দেয়।
তৃণমূলের এই দাবি ও প্রত্যাশা এখন সময়ের এক যৌক্তিক পরিণতি। জাতীয়তাবাদী শক্তির আগামী দিনের রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে একটি দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করতে মিজানুর রহমান রাজের বিকল্প ভাবার কোনো সুযোগ নেই। সময়ের ব্যবধানে সঠিক ও ন্যায়সংগত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে রাজের হাত ধরেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের এক নতুন, গৌরবময় ও বিপ্লবী অধ্যায়ের সূচনা হবে এটাই আজ মাঠপর্যায়ের অবিকল্প রায়।

এমএসএম / এমএসএম

পঙ্গু হাসপাতালে সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে হুমকি ও গ্রেপ্তার একজন

জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক এস. এম. মিজানুর রহমান রাজ

জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে দেশের আবহাওয়া

বিএনএস সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত

অবৈধ দুইতলা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া, পুকুরের ভরাট অংশ অপসারণ

হামে শিশু হত্যার দায়ে ইউনূসের বিচারের দাবিতে পেশাজীবিদের মানববন্ধন

আরজেএফ’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

গণশুনানিতে আসা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হনঃ ডিসি ফরিদা

ডিএমপির নতুন কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স

‎কাগজে ‘পরিত্যক্ত’, বাস্তবে রমরমা বাণিজ্য: ডিএনসিসি’র ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে অবৈধ কমিটির রাজত্ব ও নির্বাচন

বিশ্ব মা দিবসে মহীয়সী মা’দের সম্মাননা দিলো উত্তরা ১২ নং সেক্টর সোসাইটি