ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের পুঁজি ও ইচ্ছা ট্রাম্পের নেই
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান লড়াই চরম আকার ধারণ করলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানে কোনো ধরনের স্থল আগ্রাসন বা সেনা অভিযানের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউস একটি রক্তক্ষয়ী স্থলযুদ্ধ এড়াতে চাইছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
কাতারস্থ জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানে স্থল অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা খুবই কম। এর অন্যতম কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সেনাদের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অত্যন্ত সতর্ক এবং তারা কোনোভাবেই একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থল অভিযানে জড়াতে চায় না।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে স্থল অভিযান চালানো হলে তা হবে অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী ও ভয়ানক। অনেকে হয়তো বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ঝটিকা অভিযান বা রেইড চালিয়ে ফিরে আসার কথা ভাবতে পারেন, কিন্তু ইরান ভেনেজুয়েলার মতো কোনো সহজ লক্ষ্য নয় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই খুব সহজে তার অস্ত্র, সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রবেশ করিয়ে দিতে পারবে।
মাসগ্রেভ আরও জানান, ইরানে সেনা পাঠাতে হলে মার্কিন বাহিনীকে বিশাল পরিসরে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। আর এই দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্বটি ইরানের জন্য মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা আঘাত হানার বড় সুযোগ তৈরি করে দেবে। ফলে সরাসরি বলতে গেলে, এই ধরণের যেকোনো অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য চরম বিপর্যয় ও রক্তপাতের কারণ হতে পারে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জগুলো দখল করার জন্য কোনো সামরিক অভিযান হতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিশ্লেষক বলেন, যদি তেমন কিছু ঘটেও, তবে তা হবে গোলন্দাজ বাহিনীর আওতার মধ্যে এবং এর রূপ হতে পারে অনেকটা ইউক্রেন যুদ্ধের মতো।
ইউক্রেন যুদ্ধ যেমন একটি রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন নিজের সেনাদের এমন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিতে চাইবে না। এ কারণেই মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে স্থল সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আকাশপথে বিমান হামলা ও বিমান অভিযান জোরদার করার নীতি বেছে নিয়েছে।
পল মাসগ্রেভ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্তব্য করেন যে, স্থল সেনা ব্যবহার করে নিজের উদ্দেশ্য সফল করার মতো প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পুঁজি, দৃঢ় ইচ্ছা কিংবা মানসিক প্রস্তুতি—এর কোনোটিই এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আকাশপথ ও দূরপাল্লার লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Parna / Parna
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা, আরও এক মার্কিন সেনা নিহত
ককরোচ পার্টির পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা ছত্রভঙ্গ করে দিলো পুলিশ
মার্কিন বিমানে হামলার দাবি ইরানের
বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার ফিরিয়ে আনবে সোনার বাংলা: অমিত শাহ
মুসলিমদের ইতিহাসে এত ভয় কেন মোদী সরকারের? কাশ্মীরে কীসের অভিযান চলছে
ইসরাইলি বসতি পণ্য আমদানিতে বেলজিয়ামের নিষেধাজ্ঞা
ভারতে হড়কা বান-ভূমিধসে নিহত অন্তত ১৯
দুর্নীতির তদন্তের মুখে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট
সরকারবিরোধী দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে গাজায় স্পেনের পক্ষে উচ্ছ্বাস
ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের পুঁজি ও ইচ্ছা ট্রাম্পের নেই
এক সপ্তাহে ৮৩টি ভূমিকম্প, নতুন করে কাঁপলো ইরান