ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ইরান নিয়ে দ্বিমত: দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ভাটা স্পষ্ট


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭-৮-২০২৬ বিকাল ৫:৫২

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ব্যাপক আকারে কমিয়ে’ আনতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কারণ হিসেবে যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিতে সিউলের অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

মহড়া শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই মহড়ায় অংশ নিতে সম্মত হওয়ায় তিনি ‘খুশি নন’। একই সঙ্গে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ বিষয়টি তুলে ধরেন।

ট্রাম্প লেখেন, কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারা ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার’ মার্কিন প্রচেষ্টায় যোগ দিতে চান কি না। জবাবে তারা নাকি বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ!’

ট্রাম্প লেখেন, এসব মহড়া শুধু ব্যয়বহুলই নয় বরং একটি দেশের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বার্তা পাঠাবে যে দেশ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং সম্মানজনক আচরণ করেছে।

রয়টার্সের তথ্য মতে, ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে প্রতিবছর যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া। এই বছর তাদের এই যৌথ সামরিক মহড়া ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) নির্ধারিত সময়েই মহড়া শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ব্লু হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক মহড়া নিয়ে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ব্লু হাউস থেকে জানানো হয়েছে, তারা ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে তারা আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের পথ খুলে দেবে এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা এগিয়ে নিতে আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে মার্কিন প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে কোরীয় উপদ্বীপে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়াও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নগুলো হোয়াইট হাউসে পাঠিয়ে দেন। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানতে চাওয়া অনুরোধের জবাব দেয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার ব্যয় ভাগাভাগি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা নিয়েও সিউলের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধ রয়েছে।

উত্তর কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করে।

গত সপ্তাহেই উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর কয়েক দিন আগেও দেশটি একই ধরনের স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল।

স্টিমসন সেন্টারের গবেষণা কর্মসূচি ৩৮ নর্থের প্রধান জেনি টাউন বলেন, এই সিদ্ধান্ত পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সুযোগ তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে সিদ্ধান্তটি যেভাবে নেওয়া হয়েছে, তাতে উত্তর কোরিয়ার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে অনেকবার নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় উত্তর কোরিয়ার নেতাকে ‘লিটল রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেছিলেন ট্রাম্প। এর জবাবে ট্রাম্পকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে আক্রমণ করেছিলেন কিম।

তবে, পরবর্তীতে দুজন তিনটি শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। কিমের সঙ্গে চিঠি বিনিময়ের পর ট্রাম্প এমনকি বলেছিলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।’ কিন্তু এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কোনোটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করতে পারেনি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) কোরিয়া কর্মসূচির প্রধান ভিক্টর চা মনে করেন, ট্রাম্প হয়ত উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন। এর কারণ ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছে।

এমএসএম / এমএসএম

ইরান নিয়ে দ্বিমত: দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ভাটা স্পষ্ট

পশ্চিমবঙ্গে হোটেলে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৭

ফের ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ায় ফের জোরালো ভূমিকম্প

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী

হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরান-ওমানের চুক্তি স্বাক্ষর

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতার ঝুলন্ত লাশ মিলল দলীয় কার্যালয়ে

ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প : নিহত বেড়ে ৩৮

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ২

আগামী সপ্তাহে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : এনডিটিভি

ইরানের বিরুদ্ধে ‘অভূতপূর্ব’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলি কারাগারে আটক ৪৭৬৯ ফিলিস্তিনি