বাম্পার ফলনেও ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন
চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। কিছু খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পৌছে গেছে ৬০ রুপিতে। পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরও আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ পেঁয়াজের ঘাটতি নয়, বরং অসময়ের বৃষ্টি ও পচনের কারণে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি। এর আগে আখের ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত রেড রট রোগের কারণে আখ চাষ ব্যাহত হয়ে চিনির দাম বেড়েছিল। আর এবার আবহাওয়াজনিত সংকটের মুখে পড়লো পেঁয়াজ।
যেভাবে বৃষ্টিতে নষ্ট হলো পেঁয়াজ
ভারতে চলতি বছর ৩০৭.৩৭ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে বেশি। তবে রবি ফসল কাটার সময় অসময়ের বৃষ্টি পরিস্থিতি পুরো বদলে দেয়।
মার্চ ও এপ্রিলে অসময়ের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যায় এবং পেঁয়াজের স্তরে স্তরে আর্দ্রতা ঢুকে পড়ে। পরবর্তীতে এসব পেঁয়াজ যখন গুদামে সংরক্ষণ করা হয়, তখন ভেতরের জমানো পানিই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। জুন ও জুলাই মাসের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পেঁয়াজের কোয়ার ভেতরে ছত্রাক জমে ভেতরে ভেতরে পচন শুরু হয়।
পচনের হার বৃদ্ধি
সাধারণত প্রতি বছর উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ শতাংশের মতো নষ্ট হয়। তবে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পচনের কারণে চলতি বছর ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নষ্ট হওয়া পেঁয়াজের পরিমাণ প্রায় ১১০ থেকে ১২০ লাখ টন। ফলে পাইকারি বাজারগুলোতে (মান্ডি) ভালো মানের পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে, যা সরাসরি বাজারের ওপর চাপ তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষকের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণ
ভারতে প্রতি মাসে প্রায় ১৭ লাখ মেট্রিক টন বা বছরে প্রায় ২০৪ লাখ টন পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। ৩০৭ লাখ টন উৎপাদনের কারণে শুরুতে সরবরাহ ব্যবস্থা সুবিধাজনক মনে হলেও বিশাল অংশ পচে যাওয়ায় সমীকরণ বদলে গেছে।
সংরক্ষিত পেঁয়াজের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বীজ বপন, সার, মজুরি ও পরিচর্যার পেছনে হওয়া মোট উৎপাদন খরচ অবশিষ্ট ভালো পেঁয়াজ থেকেই তুলতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে বাজারে পৌঁছানো ভালো মানের পেঁয়াজের প্রকৃত খরচ দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩২ রুপি।
কৃষকদের বেশি দামের দাবি
মহারাষ্ট্র পেঁয়াজ চাষি সমিতির সভাপতি ভারত দিঘোলে জানান, ফসল তোলার সময় অসময়ের বৃষ্টি এবং ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় কৃষকদের ওপর আর্থিক বোঝা অনেক বেড়ে গেছে। তার মতে, বাড়তি খরচ হিসাব করে লাভে থাকতে হলে কৃষকদের পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি অন্তত ৪০ রুপি দাম পাওয়া প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি হস্তক্ষেপে বাজার ব্যবস্থা দমিয়ে পেঁয়াজের দাম কমানোর চেষ্টা করা হলে মহারাষ্ট্রে বড় ধরনের কৃষক বিক্ষোভ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ৪৩ শতাংশই আসে মহারাষ্ট্র থেকে।
সরকারের ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালুর সিদ্ধান্ত
বৃদ্ধি পাওয়া পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে থাকা নিজেদের জরুরি মজুত (বাফার স্টক) ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লি, চেন্নাই, কোচি ও গুয়াহাটির মতো বড় শহরগুলোর মান্ডিতে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ পাঠাতে বিশেষ ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিবহন খরচ ও পচনের ক্ষতি বহন করে সরকার জনগণকে ভর্তুকি মূল্যে কেজি প্রতি ৩৫ রুপিতে পেঁয়াজ দিচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ানো, মজুতদারি রোধ করা এবং দাম কমানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
আবারও দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা
সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পেঁয়াজ চাষিদের মাঝে। কৃষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এমন সময়ও গেছে যখন তারা উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি এবং মান্ডিতে কেজি প্রতি মাত্র ২ থেকে ৪ রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। সে সময় তাদের লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।
আবহাওয়াজনিত ক্ষতির পর এখন যখন কিছুটা ভালো দামের আশা তৈরি হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকারের এই হস্তক্ষেপে দাম আবার কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। তাদের শঙ্কা স্পষ্ট, কয়েকটা দিন ভালো যাওয়ার পরই যদি দাম হু হু করে পড়ে যায়, তবে তাদের আবারো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।
aliul / aliul
মস্কোতে নামল মার্কিন সামরিক বিমান, ক্রেমলিন বলছে কিছু জানা নেই
বাম্পার ফলনেও ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন
রাশিয়ায় কেন নামলো রহস্যময় মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ
প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ
মার্কিন আকাশের কাছাকাছি বিমানে আঘাত হানবে চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র
চীনে নীরবে ঘটছে যে বিপ্লব
অবৈধ অভিবাসন ও আইনভঙ্গ : সৌদিতে ৬ দিনে ১৪ হাজার ২ শতাধিক গ্রেপ্তার
ইরানের ৫ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার তথ্য চায় যুক্তরাষ্ট্র, মিলবে ১ কোটি ডলার
সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়া বাদ, ট্রাম্পকে শারার ধন্যবাদ
বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের পথে শিক্ষার্থীদের মিছিল, ব্যারিকেড ভাঙতেই জলকামান
হাজার মাইল দূরের বিমান লক্ষ্য করতে হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরি চীনের
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের