দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান তৃণমূল ভোটারদের অন্যতম আকর্ষণ
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড,সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কারণে আলোচনায় এসেছেন সাবেক অধ্যক্ষ ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান। স্থানীয়দের কাছে তিনি‘শহীদ খান’ নামেও পরিচিত।
দীর্ঘ শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা শহীদুল্লাহ খানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া,বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতার অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন তাঁর অনুসারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ঝানজাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুস সাত্তার খান এবং মাতা মরহুমা জোবেদা আক্তার খাতুন খোর্শেদা। পিতা মরহুম আব্দুস সাত্তার খান ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭২ (ফেব্রুয়ারি) এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত কাকৈরগড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।
বীর উত্তম জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত জাগদল ও বিএনপি-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত কাকৈরগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান ঢাকা বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস (সমাজকল্যাণ) সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজে সমাজকল্যাণ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পূর্বধলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে। ঝানজাইল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা, ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ময়মনসিংহে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান বাড়ি মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় শহীদুল্লাহ খান। ১৯৭০ সালে ঝানজাইল বাজারে মালঞ্চ সংসদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৭২ সালে ঝানজাইল শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ পথচলা। ময়মনসিংহের বহুরূপী নাট্য সংস্থা, যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠী, অক্ষর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, আলোচক, অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী ও উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে । ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহে প্রথম মুকাভিনয় (মাইম) প্রদর্শনেও অগ্রণি ভূমিকা পালন করেন।
রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বীর উত্তম জিয়াউর রহমান যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন, তখন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার শুরু। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নকালেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
দুর্গাপুরে ফিরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি, ২০১৪ সালে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং ২০১৬ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য এবং সাবেক নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।
১৯৯০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। ওই নির্বাচনে তাকে ৩৪ ভোটের ব্যবধান দেখিয়ে জোরপূর্বক পরাজিত দেখানো হয়েছে।
দীর্ঘ শিক্ষকতা,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে শহীদুল্লাহ খান এবারও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান জানান,দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার মানসিকতাই আমার বড় শক্তি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আমার প্রার্থিতা,দলীয় সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সমীকরণই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) যদি মনে করেন,আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন,তাহলে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো। অন্যথায় যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে শহীদুল্লাহ খানকে এলাকার অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর প্রতি একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগকে পুঁজি করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাঠে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে মাঠে নিরলস কাজ করছেন শহীদুল্লাহ খান। নির্বাচনী মাঠে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা পূর্ণ জনসমর্থনে রূপ নেবে।
এমএসএম / এমএসএম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
মেহেরপুরে সাংবাদিক কাজলের পৈতৃক ভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ
বিলাইছড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহে সার ডিলারশিপ নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি
সুবর্ণচরে ভূয়া চিকিৎসক রাসেলের অপচিকিৎসায় প্রাণ হারাতে বসেছে ১ শিশু
শিবগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড
মধুখালীতে কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভা
কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নিয়োজিত ১ হাজার ৭১ কর্মী
বকশীগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর ঝোপে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
তেঁতুলিয়ায় ১০ কেজির বার্মিজ অজগর উদ্ধার