ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

মাছ ধরতে ১ লাখ টাকা চাঁদা, ফের দাবি ২ লাখ: খালিয়াজুরীতে জেলেদের হয়রানির অভিযোগ


মৃণাল কান্তি দেব, খালিয়াজুরী photo মৃণাল কান্তি দেব, খালিয়াজুরী
প্রকাশিত: ২৮-৮-২০২৬ দুপুর ৩:২৯

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে জেলেদের কাছ থেকে প্রথমে ৩০ হাজার, পরে আরও ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তুতির পর আবারও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জেলেদের মারধর, মাছ ধরতে বাধা এবং দুটি নৌকা, তিনটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বিশুরীকান্দা এলাকায়। এ ঘটনায় বলরামপুর গ্রামের জেলে মো. মুজিবুর মিয়া (৩১) খালিয়াজুরী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মেন্দিপুর ইউনিয়নের বানুয়ারী গ্রামের আল আমিন চৌধুরী (৩৫), আলী হোসেন (৩০), সারোয়ার চৌধুরী (৪০) ও নয়ন মিয়ার (৩৮) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মুজিবুর মিয়াসহ স্থানীয় ২৪টি পরিবার হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সম্প্রতি বিশুরীকান্দা এলাকায় মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্তরা জেলেদের বাধা দিয়ে সেখানে মাছ ধরতে হলে টাকা দিতে হবে বলে জানান। পরে দুই নৌকার জেলেরা প্রথমে আল আমিন চৌধুরী ও আলী হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা দেন। কিছুদিন পর আবার সেখানে মাছ ধরতে গেলে আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হলে জীবিকার তাগিদে সেই টাকাও দেওয়ার প্রস্তিতি নিই। 

অভিযোগকারীর দাবি, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ১৮ জন জেলে দুইটি নৌকা নিয়ে ওই এলাকায় মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্তরা জানান, আগের ১ লাখ টাকা দিয়ে আর সেখানে মাছ ধরা যাবে না। ভাসা পানি থাকা পর্যন্ত মাছ ধরতে হলে আরও ২ লাখ টাকা দিতে হবে।

এ সময় জেলেরা নতুন করে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আগের ১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করেন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির মধ্যে আল আমিন ও আলী হোসেনের নেতৃত্বে জেলেদের মারধর এবং তাঁদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৬০০ টাকা, তিনটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জেলেদের ব্যবহৃত দুটি নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন মুজিবুর মিয়া। তাঁর দাবি, নৌকা দুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

মুজিবুর মিয়া বলেন, “আমরা মাছ ধরে পরিবার চালাই। মাছ ধরতে গেলেই বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয় এবং টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার রাতে আমাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার পাশাপাশি নৌকা ও মোবাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।”

অভিযোগকারী আরেক জেলে শহীদুল্লাহ্ বলেন,  দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা দুই নৌকা ২৪ জেলে বাধ্য হই টাকা দিতে। তবে অভিযুক্ত আলামিন ও আলী হোসেনের সাথে তাদের দাবীর ১ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি সাবস্থ্য হয় বোয়ালী গ্রামের মিলন মিয়া সম্মুখে এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা দেওয়াও হয় এবং বাকী ৭০ হাজার টাকা ২৬ আগষ্ট দিবাগত রাতে নিয়ে যাওয়া হয় তাদেরকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ঐ দিন রাতে বিশুরী কান্দায় মাছ ধরতে গেলে আলামিন ও আলী হোসেনের নেতৃত্বে অজ্ঞাত ২৫/২৫ জনের একটি দল ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। তাতে আমরা আপত্তি করলে করি এবং আমাদের দেওয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে কথাকাটির মাঝেই আমাদের মারধর শুরু করে এবং আমাদের সাথে থাকা ৭০ হাজার টাকা( পুর্ব প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেওয়ার জন্য) ও তিনটি স্মার্ট ফোন ও তিনটি বাটন ফোন ও দুইটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও জালসহ নিয়ে যায়। তখন আমরা কান্দাতে নেমে জাল ধরছিলাম। তখন আপনারা আসলেন কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের আল আমিন নামে একজন হাওড়ে ভ্রাম্যমান অবস্থায় মাছ কিনে সে দেখতে পেয়ে আমাদের পানি থেকে উদ্ধার করে বাড়ীতে পৌঁছে দেয়। 

অভিযুক্ত আল আমিন মিয়া বলেন, আমি আগড়ডুবি জলমহালের অংশীদার। আসল মালিক আলী হোসেন। তিনি টাকা চাওয়ার বিষয়টা অস্বীকার করে বলেন, আমাদের ফিসারীর পাশে বলরামপুরের জেলেরা মাছ ধরতে আসলে আমরা বাধা দেই। আমমাদের কথা না শুনে বোয়ালীর নেতা মান্নান চৌধূরী ও মিলন মিয়ার সাথে চুক্তি হইছে।  আমি বলছি এই ফিসারীতে আমাদের অনেক ক্ষতি হইছে, এখানে যদি মাছ ধরতে হয় তাহলে আমাদের কিছু হাদিয়া দিতে হবে। আপনারা জেলেদের সাথে চুক্তি হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নিছেন। এখন দুই লাখ চাঁদা দাবী করছেন, এটা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের কথায় না মেনে জাল দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে, আমরা তাদের জাল, ইঞ্জিন চালিত দুইটি নৌকা, দুইটি স্মর্ট ফোন ও দুইটি বাটন ফোন নিয়ে আসছি। থানার দারগা আসছিল আমি স্বীকার করেছি। বলছি তারা আসলে ঐ জিনিস ও নৌকাসহ দিয়ে দিব। তবে শহীদুল্লাহ্ মিয়া আমার সাথে যে কথা বলেছে, কি কথা বলেছে তার রেকর্ড আছে। 
 
আরেক অভিযুক্ত আলী হোসেন বলেন,  ফিসারীটা মূলতঃ সাতগাঁও এর মেম্বার শফিকুলের। এটা আমি হায়দার ভাইয়ের  ভাই রব্বানী ভাইয়ের কথায় দেখা শুনা করি। আমি আষাঢ় মাসে থেকে বলরামপুরের জেলেদের না করছি ঐ এলাকায় মাছ ধরতে কিন্তু তারা কোন কথা শুনেনা। তারা বলে বোয়ালীর মিলন মিয়া ও পপুলার মিয়ার সাথে রফাদফা হইছে।  আপনি বোয়ালীর মিলন মিয়ার উপস্থিতিতে ১ লাখ টাকা সাব্যস্থ করেছেন এখন দুই লাখ টাকা চাচ্ছেন এমনকি ৩০ হাজার টাকা নগদ নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা মিছা কথা। তবে আমাদের কথা না মানায় আমরা নৌকা, জাল ও দুটি স্মার্ট ফোন, দুইটি বাটন ফোন নিয়ে এসেছি এবং এটা বোয়ালীর মান্নান চৌধূরীকে জানিয়েছি দিয়ে দিতে। কিন্তু না নিয়ে আমাদের বলে দিয়ে আসতে। আমরা নিয়ে যাইনি। আসলে দিয়ে দিব। তারা তো ফিসারীর সীমানার বাহিরে মাছ ধরছে তাহলে বাধা দেন কেন? জানতে চাইলে তিনি আমি মূর্খ মানুষ এত কিছু বুঝিনা তবে ফিসারীর ১০০ কিঃ মিঃ দূরে জাল বাইতে পারবে। 
 
 
 
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউ,পি সদস্য মোঃ রইছ তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত জেলেদের জাল ও মোবাইল নিয়ে গেছে বলে অভিযুক্তরা তাকে( মেম্বার) জানিয়েছে । ইউ,পি সদস্য আরও বলেন, এই আগরাডুবি বিলটি আওয়ামী সরকারের সময় সাতগাঁও এর অলিদ মাস্টার ও শফিকুল মেম্বারের প্রজেক্ট। তাদের কাছ থেকে বানুয়ারী গ্রামের আলামিন ও আলী হোসেনরা জমা নিয়েছে। আর এখন তারা জেলেদের কাছে মাছ ধরার জন্য জমা হিসেবে টাকা নিতে পারে। মুল বিলে দিয়ে তো আর তাদের খরচ উঠবে না। জেলেরা বলছে তারা বিলে মাছ ধরতে যায় না। তারা বিল থেকে অনেক দূরে মাছ ধরছিল  এমন প্রশ্ন করতেই ইউ,পি সদস্য প্রতিবেদকে জানায় পরিস্থিতি বুঝেন না আপনি বলে উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। 
 
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে কোন বাধা নাই। তবে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার বিধি নিষেধ চলমান প্রক্রিয়া। তিনি জানান, এ বিষয়ে আমাকে কেউ  মৌখিকভাবে জানিয়েছিল তাকে ওসি সাহেবের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে বলেছি সম্ভবতঃ অভিযোগ করেছে। তিনি  বলেন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে কোন ধরণের চাদা দিবে কেন? অভিযোগ প্রমাণিত হলে কি ধরণের ব্যবস্থা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়মিত মামলা হবে। তবে শাস্তির বিষয়টা আদালতের উপর নির্ভর। আইনানুযায়ী যে শাস্তি হয় সেটাই হবে। 
 
এ বিষয়ে খালিয়াজুরীর মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানায়,  বিশুরীকান্দা জায়গাটি ইজারা ভূক্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জলাশয় ইজারা দেওয়া হয় এসিল্যান্ড অফিস থেকে। আমাকে তথ্য নিয়ে জানতে হবে বিষয়টি। তিনি আরও জানান, খালিয়াজুরীতে মাছ ধরা এক মাসের নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন আর সেই নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে নিষিদ্ধি জাল দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি চলমান আছে কিন্তু বেড় জাল দিয়ে মাছ ধরার কোন  বিধি নিষেধাজ্ঞা নেই। জলাশয় থেকে দূরেও মাছ ধরতে বাঁধা দেওয়া  হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলাশয়ের একটা নির্দিষ্ট সীমানার বাহিরেও  কয়েকগুন এলাকা নিয়েও জেলেদের মাছ ধরতে বাধা হয়। এটা মোটেই কাম্য নয়।  আগরডুবি জলাশয়টি বিগত সময়ে সাতগাঁও এর অলিদ মাস্টার ও শফিকুল মেম্বারের নেওয়া সেই জলমহাল অন্যত্র কাউকে লিজ দিতে পারে কি না জানতে চাইলে, তিনি জানাও যার নামে ইজারা দেওয়া হয় সেই কেবল উক্ত জলাশয়ে মাছ ধরবে।অন্য কাউকে সাব লিজ দেওয়ার কোন বিধান নাই। 
 
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য এসআই মঞ্জুর কে পাঠানো হয়েছে। জেলেদের দুটি ইঞ্জিত চালিত নৌকাসহ অন্যান্য সামগ্রী তারা ফেরত দিয়ে দিবে। আর যদি তারা মালামালগুলো ফেরত না দেয় কিম্বা অভিযোগকারীরা মামলা করতে চায় তাহলে মামলা নেওয়া হবে। 

ভুক্তভোগী জেলেরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়ে যাওয়া নৌকা ও মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জেলেদের নির্বিঘ্নে মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এমএসএম / এমএসএম

আদমদীঘিতে জমিতে ধান গাছ বিনষ্ট করার অভিযোগ

মোহনগঞ্জে ডিঙ্গাপোতা হাওরে কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধের দুই হাজার ব্লক লুট

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ

বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলি: অস্ত্রসহ আটক এক

পাঁচবিবিতে ২শ পিস ট্যাপেন্টাডল সহ যুবক আটক

সুনামগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্যসহ আটক-২

মাছ ধরতে ১ লাখ টাকা চাঁদা, ফের দাবি ২ লাখ: খালিয়াজুরীতে জেলেদের হয়রানির অভিযোগ

নতুন কমিটির উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মিরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের চিত্র

রেড ক্রিসেন্ট কুড়িগ্রাম ইউনিটের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত শামসুল-মোস্তফা প্যানেলের জয়

হারিয়ে যাচ্ছে ভাদ্র মাসের তালের পিঠার স্বাদ

ভূরুঙ্গামারীতে বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি শিপন ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার

টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের সরকারি বিভিন্ন মালামাল বিক্রির অভিযোগ

বড়লেখা সীমান্তে অস্র,গুলিসহ ভারতীয় নাগরিক আটক