ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

খালিয়াজুরীতে ভবন সংকটে ব্যাহত পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান


মৃণাল কান্তি দেব, খালিয়াজুরী photo মৃণাল কান্তি দেব, খালিয়াজুরী
প্রকাশিত: ২৯-৮-২০২৬ দুপুর ১২:৪৮

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ভবন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। একটি ছোট টিনের দোচালা ঘরে গাদাগাদি করে ছয়টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা না থাকায় যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষক-কর্মচারীদেরও বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহও কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামোগত ভবন না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ভবনের অভাবে ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে গিয়ে এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “স্কুলে কিতা আইতাম, বইতে পারি না, পড়তে পারি না, স্যারেরাও বইতে পারে না। এক ক্লাস করতে গেলে অন্য ক্লাসের ছাত্ররা বাইরে খাড়ইয়া থাকি। পরে আরেক ক্লাস শুরু অইলে আমরাও বাইরে খাড়ইয়া থাকি বা খেলা-ধুলা করতা থাহি। পরে স্যারেরা ডাইক্কা ডাইক্কা আনে, কয় আয় ক্লাসে আয়।”
এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
অফিস সূত্রে জানা যায়, পিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা ফাউন্ডেশনসহ তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ভবনটিতে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ থাকার কথা। টেন্ডার শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শুরু করলেও ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পাইলিং ও কলামের কিছু কাজ ছাড়া দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এরপর থেকে ঠিকাদারের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ঠিকাদারি কাজে জড়িত ঠিকাদারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ভবন নির্মাণকাজে এমন ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজসেবক মানিক তালুকদার বলেন, “এই স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই ঠেলা-ধাক্কার মধ্য দিয়ে চলছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনতলা ভবনের অনুমোদন হয় এবং নির্মাণকাজও শুরু হয়। কিন্তু এখন প্রায় দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। মাঝে একবার পাইলিংয়ের কাজ করার পর কলামের কাজের জন্য লোহার খাঁচা তৈরি করা হয়েছিল। পরে দেখছি আর কোনো কাজ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা, ভবনের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পাঠে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। শিক্ষক যারা আছেন, তাদেরও বসার কোনো জায়গা নেই। একটি ছোট টিনের দোচালা ঘরে কোনো রকমে পাঠদান চলছে। কিন্তু সেখানে একসঙ্গে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করা মোটেই সম্ভব নয়। তাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন, যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হোক।”
পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামচরণ সরকার বলেন, “বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি ভেঙে নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ভবনের ৫ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে বলে পরিলক্ষিত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সাল থেকে আমি এই স্কুলে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই একটি দোচালা টিনের ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু এই ছোট টিনশেড ঘরে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান দুই শিফটেও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। না পারি শিক্ষকদের বসতে দিতে, না পারি ছাত্র-ছাত্রীদের একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করাতে। এ বিষয়ে অনেকবার টিও স্যারকে অবগত করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া যে ঠিকাদার কাজ শুরু করেছিলেন, তাকে মুঠোফোনে ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না। পরে শুনেছি, পিডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।”
খালিয়াজুরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিমেল কদর বলেন, “পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি অবগত আছি। স্কুলটি কোনো রকমে চলছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কী কারণে এমন করছে, তা জানা নেই। স্কুলটির পাইলিংয়ের কাজ করার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলামের কাজ শুরু করেছিল। পরে দেখি আর কোনো কাজ হচ্ছে না। যাই হোক, পিডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এখন যা করার কর্তৃপক্ষ করবে। হয়তো পরবর্তী প্রকল্প শুরু হলে এ উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের ভবনের কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে।”
নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল আজম বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবনের কাজ যাতে দ্রুত করা যায়, সেই লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।”

Aminur / Aminur

বোয়ালমারীতে ধানের জমি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

কুড়িগ্রামে ৪০ বছরের মুয়া‌জ্জি‌নি শে‌ষে ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শুক্কুর আলী

চাকিরপশার বিলের শতবর্ষের ইতিহাস নদী থেকে বিল হারাচ্ছে মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য

রেলের কারখানায় নকল যন্ত্রাংশের ব্যবহার, অর্থ লোপাট, ঝুঁকিতে সেবা!

পারখী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন

বরিশালে ছাত্রশিবিরের এসএসসি A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ফটিকছড়িতে ‘মির্জারহাট মারকাযুদ দাওয়াহ্ মহিলা হিফয খানা’র শুভ উদ্বোধন ও সবক প্রদান অনুষ্ঠিত

খালিয়াজুরীতে ভবন সংকটে ব্যাহত পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

বরিশালে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ ৪ বালু উত্তোলনকারী আটক

পটিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজট

কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রুপ নিয়েছে: গত ৭ দিনে আক্রান্ত ৪৩২

দুমকিতে যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ ,আহত ৩