ঢাকা মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানি খাত এখন আর চ্যালেঞ্জ নয়, বড় সমস্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১-৯-২০২৬ বিকাল ৫:৫৮

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে এখন আর শুধু ‘চ্যালেঞ্জ’ বলার সুযোগ নেই, বরং এটি ক্রমেই বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. রফিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, এই সংকট সমাধান কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়; সরকার, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রমাণভিত্তিক পথ : নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও ইনভেন্টরি স্টাডির ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের অতীতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমাবদ্ধতা ধরে রাখার সুযোগ নেই। প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশের বিপুল জ্বালানি বাজার এখন আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে দেশের মোট আমদানির একটি বড় অংশ ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য। পেট্রোলিয়ামের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসেরও উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ ২০১৫ সালে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ১০ শতাংশেরও কম ছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কৃষি খাত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। স্বাধীনতার সময় প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণা, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ে কৃষিবিদদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই ধরনের গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী মডেল জ্বালানি খাতেও প্রয়োজন। দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল মানবসম্পদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা। তবে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যের অভাবও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা তৈরি করছে। এ কারণে একটি আন্তর্জাতিক মানের সমন্বিত কেন্দ্রীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে খাতসংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একক উৎস থেকে মানসম্মত তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিইপিআরসির এই সদস্য বলেন, জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে গবেষণা ও স্টাডিভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারে না কিংবা প্রয়োজনীয় গাইডলাইনের অভাবে তহবিল ফেরত যায়। অথচ দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে কার্যকর গবেষণা করতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গবেষণা করানোর পরিবর্তে দেশীয় গবেষকদের সক্ষমতা আরও বেশি কাজে লাগানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও স্টাডি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে নীতি তৈরি করা গেলে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত, সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবায়নগত সমস্যাও কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে শুধু আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও শিল্পখাতের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সেই সমস্যার সমাধানে যুক্ত করা গেলে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। গবেষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাব সুবিধা, বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ একটি কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সরকারের প্রয়োজন, শিল্পখাতের বাস্তবতা এবং একাডেমিয়ার গবেষণা সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি খাতকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম। অনুষ্ঠানে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনভেন্টরি অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন আইউবির লেকচারার মোহাম্মদ রেজওয়ান উদ্দিন এবং ‘রিনিউয়েবল এনার্জি এক্সপেনশন স্টাডি’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রফেসর খসরু মোহাম্মদ সেলিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি, জলবায়ু ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিক, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

এমএসএম / এমএসএম

কোনো চাপ নয়, চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে

জ্বালানি খাত এখন আর চ্যালেঞ্জ নয়, বড় সমস্যা

সীমান্তে ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ও থার্মাল ড্রোনে নজরদারি করা হবে

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভ্যাবের শুভেচ্ছা

মক্কা চুক্তিতে অংশ নেওয়ার আগে আরও যাচাই-বাছাই করবে বাংলাদেশ

খুব অল্প সময়ে লোডশেডিং কমে যাবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

‘ইন্টারনাল পলিটিক্স নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না’

এদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি: স্পিকার

ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩

দোকানে মাংস বিক্রি করতে হলে ‘পরীক্ষিত’ সিল থাকতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

রোজার পর এসএসসি পরীক্ষা, আপাতত পেছানোর পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

স্থানীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে আজ

২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিলো যুক্তরাষ্ট্র