ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪১ বছর পর বিমান হামলার তদন্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮-৯-২০২৬ দুপুর ৪:৩

১৯৮৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার ১৮২ নম্বর ফ্লাইটে বোমা হামলার তদন্তের পরিধি কমানোর উদ্যোগের খবরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা। তাদের আশঙ্কা, কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) দীর্ঘদিনের এই তদন্তকে আরও ছোট পরিসরে নিয়ে যেতে পারে।

এমনকি তদন্তটি কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ করে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের ১২ সেপ্টেম্বর কানাডার টরন্টোতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে আরসিএমপি।

পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুরোধে ওই বৈঠক হয়। সেখানে তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারগুলোর সদস্যদের অবহিত করা হয়।
নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, চার দশকের বেশি সময় ধরে তারা এই হামলার উত্তর খুঁজছেন। তাই তদন্তের পরিধি কমানো বা মামলাটি নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাবনার কথা শুনে তারা হতবাক হয়েছেন।

১৯৮৫ সালের ২৩ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার ১৮২ নম্বর ফ্লাইটটি কানাডার মন্ট্রিয়ল থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর উড়োজাহাজটিতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ৩২৯ আরোহীর সবাই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৬৮ জন ছিলেন কানাডার নাগরিক। ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও ওই ফ্লাইটে ছিলেন। কানাডার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে।

নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কানিষ্কা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় লাজার। ওই হামলায় তিনি তার বাবা, মা ও ছোট বোনকে হারিয়েছেন। তদন্ত বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে চিঠি দিয়েছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর লেখা ওই চিঠির একটি কপি এনডিটিভির হাতে এসেছে।

লাজারের চিঠি অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পরিবারগুলোকে জানানো হয়, এয়ার ইন্ডিয়া তদন্তকারী দলের সদস্যসংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে আরসিএমপি। একই সঙ্গে তদন্তকে ‘নিষ্ক্রিয়’ অবস্থায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পরিবারগুলোর কাছে এই খবর নতুন করে পুরোনো ক্ষত সামনে এনেছে।

লাজার জানান, ফৌজদারি মামলার বিচার শেষ হওয়ার পর গত ২০ বছরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটিই ছিল প্রথম এ ধরনের বৈঠক। সেখানে তদন্তের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তাতে পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আরসিএমপি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত বন্ধ করেছে-এমন তথ্য এখনো সামনে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা মূলত পুলিশ যে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে, তা নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন।

কানিষ্কা হামলার তদন্ত শুধু বোমা বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের খোঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হামলার আগে কানাডার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কীভাবে সম্ভাব্য হুমকির তথ্য মোকাবিলা করেছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসে। পরে কানাডার সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি জন মেজরের নেতৃত্বে একটি প্রকাশ্য তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন হামলার আগে ও পরে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা খতিয়ে দেখে। কানাডা সরকার পরবর্তী সময়ে স্বীকার করে, ওই তদন্তে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যর্থতা চিহ্নিত হয়েছিল।

একই সময়ে জাপানের নারিতা বিমানবন্দরেও একই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে দুজন লাগেজকর্মী নিহত হন। পরে দুটি ঘটনাই একটি বড় আন্তর্জাতিক তদন্তের অংশ হয়ে ওঠে।

কানিষ্কা হামলার বিচারপ্রক্রিয়াও ছিল দীর্ঘ ও জটিল। জন মেজর কমিশনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুটি ফৌজদারি বিচার হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঘটনায় ইন্দরজিৎ সিং রেয়াত দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ২০০৫ সালে আরও দুই আসামি খালাস পান। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর এ ঘটনায় আর কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।

নিহতদের পরিবারের বর্তমান উদ্বেগ মূলত তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাদের বক্তব্য, তদন্ত কমিয়ে বা বন্ধ করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে অনুসন্ধানের সব যুক্তিসংগত পথ সত্যিই শেষ হয়েছে কি না। শুধু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে মামলাটির গুরুত্ব কমে যাওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তারা।

২০২৫ সালে হামলার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আরসিএমপি জানিয়েছিল, তদন্তে শত শত কর্মকর্তা কাজ করেছেন। তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে তদন্ত করেছেন, প্রমাণ পরীক্ষা করেছেন, উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পুনর্গঠন করেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আরসিএমপি দীর্ঘদিন ধরে কানিষ্কা তদন্তকে কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জটিল তদন্তগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

নিহতদের পরিবারের ক্ষোভের আরেকটি কারণ হলো, তাদের কাছ থেকে নতুন তথ্য বা সূত্র চাওয়া হয়েছে বলে যে আলোচনা হয়েছে। লাজার তার চিঠিতে বলেছেন, কয়েক দশকের তদন্তের পরও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নতুন সূত্র চাওয়া তাদের জন্য কষ্টদায়ক। তবে পরিবারগুলোর বক্তব্য এমন নয় যে প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক, তদন্ত অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে হবে। তাদের দাবি, তদন্ত কমানোর আগে অনুসন্ধানের সব যুক্তিসংগত পথ শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হোক।

লাজারের চিঠিতে তদন্তের সময়কার কিছু ব্যর্থতার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তদন্তের সময় কিছু প্রমাণ হারিয়ে গিয়েছিল এবং নজরদারির কিছু রেকর্ডিং মুছে ফেলা হয়েছিল। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী পরে মারা যান বা হুমকির মুখে পড়েন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয় পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ বা ব্যাখ্যা; এগুলোর সবগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সরকারি তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে তদন্ত নতুন করে জোরদারেরও দাবি জানানো হয়েছে। লাজারের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে কানাডা সরকার ও আরসিএমপি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দিতে ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যা এখনো কেউ দাবি করেনি। তিনি পুরস্কারটি পুনরায় চালু ও এর অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের কাছ থেকে নতুন করে তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 
লাজার আরও বলেছেন, বর্তমান তদন্তকারী দল যদি মনে করে তারা আর তদন্ত এগিয়ে নিতে পারছে না, তাহলে অন্য কোনো তদন্তকারী দল বা অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তার বক্তব্য, বর্তমান তদন্তের সীমাবদ্ধতার কারণে ১৯৮৫ সালের হামলার অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

চিঠিতে সাবেক কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের দেওয়া আশ্বাসের কথাও উল্লেখ করেছেন লাজার। তার দাবি, হারপার নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধিদের বলেছিলেন, হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করতে কানাডার কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাবে। মামলাটি যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছিল।

এবার একই বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির কাছে আবেদন জানিয়েছেন লাজার। চিঠির অনুলিপি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কানাডার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী, কানাডা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আরসিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

কানিষ্কা হামলার ৪১ বছর পরও নিহতদের পরিবারের কাছে মূল প্রশ্নটি একই-হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে কি না। তাদের দাবি, তদন্তের সব সম্ভাব্য পথ শেষ হওয়ার আগে দীর্ঘদিনের এই অনুসন্ধানকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া উচিত নয়।

তবে এখন পর্যন্ত আরসিএমপি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত বন্ধ করেছে-এমন কোনো তথ্য সামনে আসেনি। ফলে তদন্তের পরিধি কমানো বা মামলাকে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়টি বর্তমানে সম্ভাব্য পরিবর্তন হিসেবেই রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি (ভারত)

aliul / aliul

মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান ইরানের

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬

ইন্দোনেশিয়ার নৌবহরে যুক্ত হলো প্রথম রণতরী

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন/নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

বেলজিয়ামে পার্লামেন্টের টয়েলেটে ১৩ ঘণ্টা আটকা ছিলেন এমপি

ফিলিপিন্সের স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৪

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬

সৌদিকে রক্ষায় যত দূর যাওয়ার দরকার যাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী

৪১ বছর পর বিমান হামলার তদন্ত

বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে ইতালি

প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর ‘আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন’ রাজা চার্লস

তৃণমূলের প্রতীক জোড়াফুল হাতছাড়া হলো মমতার

ইয়েমেনের এক শহরে ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হুথি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি সেনাবাহিনীর