ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

দোকানে দোকানে ‘গ্যাস নেই’, রেফারেন্সে ২৩০০ টাকায় মিলল সিলিন্ডার


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯-১০-২০২৬ দুপুর ৩:১৯

সকাল থেকে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও মিলছিল না রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। প্রতিটি দোকান থেকে ফিরতে হয়েছে ‘গ্যাস নেই’ শুনে। শেষ পর্যন্ত পরিচিত একজনের সূত্র ধরে একটি বড় দোকান থেকে সিলিন্ডার মিললেও দাম দিতে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার কিনতেই বাড়তি গুনতে হয়েছে ৪৬৩ টাকা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পূর্ব রামপুরার জামতলা ও খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার খুঁজতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন আহমেদ শিপন। বউবাজার, নতুনবাগসহ আশপাশের বিভিন্ন দোকান ঘুরে প্রায় এক ঘণ্টা পর সিলিন্ডার পান তিনি। তাও সাধারণ ক্রেতা হিসেবে নয়, পরিচিত সূত্র ব্যবহার করে।

আহমেদ শিপন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ঢাকায় বসবাস শুরু করার পর থেকে কখনো সরকারি নির্ধারিত দামে গ্যাস কিনতে পারিনি। কোথায় পাওয়া যায়, সেটাও জানি না। প্রতি মাসে শুনি, সরকার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সেই দামে কোনো দিন কিনতে পারিনি। এখন বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস টাকা দিয়েও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না, রেফারেন্স লাগছে। একজন নাগরিক হিসেবে এটা লজ্জার।’

তিনি বলেন, ‘গত রাত থেকে বাসায় গ্যাস নেই, রান্না বন্ধ। ছুটির দিনের সকালটা সিলিন্ডার খুঁজতেই গেল। আশপাশের সব দোকান ঘুরে শেষে একটি বড় দোকানে যাই। সেখানেও প্রথমে গ্যাস নেই বলে জানায়। পরে পরিচিত একজনের সূত্রে ওই দোকান থেকেই ২ হাজার ৩০০ টাকায় সিলিন্ডার পাই। অথচ সরকারি দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। শুনেছি, কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

শুধু আহমেদ শিপন নন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়া, পছন্দের ব্র্যান্ডের সংকট এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। দোকানে দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার মিলছে না; আবার কোথাও মিললেও দাম নিয়ে দর-কষাকষি করতে হচ্ছে। ফলে রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তিতে পড়ছেন পরিবারগুলো।

গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। নতুন মূল্য নির্ধারণের পরও সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।

এদিকে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করতে গিয়ে পরিবেশকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। এ বিষয়ে গত ৬ অক্টোবর বিইআরসিকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে পরিবহন, ওঠানো-নামানো, গোডাউন, কর্মচারী, বিদ্যুৎ বিল ও লাইসেন্স ফিসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সমিতির হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গোডাউনে সিলিন্ডার আনতে খরচ হয় ৫০ টাকা। ট্রাকে ওঠানো-নামানো এবং খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে লাগে আরও ৩৫ টাকা। কর্মচারী, গোডাউন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয় ২৫ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি সিলিন্ডারে ৪০ টাকা মুনাফা ধরলে পরিবেশক পর্যায়ে মোট ১৫০ টাকা প্রয়োজন। অথচ পাঁচ বছর ধরে কমিশন হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ১০০ টাকা ঘাটতি থাকছে বলে দাবি সংগঠনটির।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন কোম্পানির মূল্য তালিকায় পার্থক্য থাকায় বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য স্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খানের সই করা চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।

এলপিজি পরিবেশকরা বলছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকটি কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। মেঘনা ফ্রেশ, ওমেরা, আইগ্যাস, যমুনা, পেট্রোম্যাক্স ও বিএমসহ কয়েকটি কোম্পানি বাজারে এলপিজি সরবরাহ করছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাদের। অন্য কিছু কোম্পানি অল্প পরিমাণে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে, আবার কোনো কোনো কোম্পানি সরবরাহ না করেও বাড়তি দামের মূল্য তালিকা দিয়েছে। কোম্পানিভেদে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্যতালিকা ১ হাজার ৭৪০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ১৫০ টাকা লোকসান হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তবে ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ ও লোকসানের দাবি থাকলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার দায় ভোক্তাদের ওপর চাপানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সরবরাহ কম থাকার সুযোগে কোথাও বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, গণশুনানি ছাড়া এসব খরচ সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে রোববার কমিশন সভায় আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। সে সময় পরিবেশকদের কমিশন সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন সেই কমিশন বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন পরিবেশকরা। অন্যদিকে, বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়া এবং সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

aliul / aliul

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা বনানীতে, দাফন মিরপুরে

মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

দোকানে দোকানে ‘গ্যাস নেই’, রেফারেন্সে ২৩০০ টাকায় মিলল সিলিন্ডার

শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা : ববি হাজ্জাজ

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮০, মামলা ৫১

দুর্বৃত্তদের হাতে পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবজির বাজারে

মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

শাহজালালে যাত্রীর শরীরে লুকানো ছিল ৩ ‘সোনার ডিম’

প্রবাসীদের বিমানবন্দর হয়রানি বন্ধে কড়া নির্দেশনা সংসদীয় কমিটির

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা জোরদারে রাষ্ট্রপতির আহ্বান