ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

এখনো সিনামার দাগ বয়ে বেড়াচ্ছি : শাবনাজ


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০-১০-২০২৬ দুপুর ১১:৩৩

১৯৯১ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেন কিশোরী শাবনাজকে। সিনেমাটির নাম ‘চাঁদনী’। ছিপছিপে গড়নের সেই কিশোরী দুর্দান্ত অভিনয় করেন সিনেমাটিতে। একসময় সফল এই অভিনেত্রী বড়পর্দা ছেড়ে পুরোপুরি সংসারি হয়ে গেলেন।
৩৩ বছর ধরে নাকি সিনেমার দাগ বয়ে বেড়াচ্ছেন। এটি আসলে কীসের দাগ?
১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাভ’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে গ্লাস ভেঙে হাত কেটে গিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। সে ক্ষতের দাগ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি।
কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমায় অভিনয় করলেন না কেন?
১৯৯৩ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অগ্রিম পারিশ্রমিকও নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হিন্দি সিনেমার রিমেক বলে সিনেমাটিতে আর অভিনয় করিনি।
আপনার প্রথম সিনেমা ‘চাঁদনীর জন্য কেমন পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন?
প্রথম সিনেমার জন্য সে সময় ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম।
আপনি তো প্রথম সিনেমা দিয়েই সাড়া ফেলেছিলেন?

এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। ভাগ্যও বলতে পারেন। কেননা, চাঁদনী সিনেমা সেই সময়ে সব শ্রেণির দর্শক গ্রহণ করেছিলেন। সবার ভালো লাগার মতোই একটি সিনেমা

ছিল “চাঁদনী”। গল্প, নির্মাণ, সবার অভিনয়, লোকেশন-

সবই ভালো ছিল। জীবনের প্রথম সিনেমা দিয়ে সাড়া ফেলাকে ভাগ্যই বলব।

পরিচালক এহতেশাম সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কেমন?

অনেক বড় মাপের পরিচালক এহতেশাম। এ দেশের চলচ্চিত্রে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। কাজেই, এমন একজন গুণী পরিচালকের সিনেমার প্রতি সবারই আলাদা আগ্রহ ছিল। আমার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘চাঁদনী’ মুক্তি পেল। সারা দেশে ঝড় তুলল। পরিচালক হিসেবে আমার তাঁকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।

তারপর তো শাবনাজ-নাঈম জুটি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল...

সত্যি কথা বলতে সেই সময় চাঁদনী ছবি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা আমাদের জুটিকে গ্রহণ করেন। এ দেশের সিনেমায় অনেক সফল জুটি এসেছে। দর্শকদের ভালোবাসায় সেসব জুটি সিক্ত হয়েছেন। তেমনিভাবে আমাদের জুটিও তারা ভালোবাসা দিয়ে সিক্ত করেছেন।

কাজের সফলতার ক্ষেত্রে মূলমন্ত্র কী?

সততা, দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি ভালোবাসা-এসব শুধু শিল্পীর নয়, সবার জন্যই দরকার। পরিচ্ছন্ন ইমেজটাও দরকার। আমি মনে করি, এটিই জীবনে সফলতার মূল মন্ত্র।

সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও মানুষের প্রবল ভালোবাসা পাচ্ছেন-কীভাবে দেখেন? 

খুবই ভালোভাবে দেখি। শিল্পী জীবনের বড় উপহার মানুষের ভালোবাসা পাওয়া। সবাই পায় না। এখনো মানুষের ভালোবাসা পাই। কাজের প্রশংসা করে। এগুলো অনেক বড় পাওয়া। এজন্য দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞতা।

১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্রেমের সমাধি’র হেনা চরিত্রের একটি সংলাপ নতুন করে আবার ভাইরাল হয়, এর কারণ কী?

বিষয়টি খুব ভালো লাগছে, কারণ মানুষ আবার সিনেমাটির কথা মনে করেছে এবং আমাদের অভিনয় শিল্পীদের সঙ্গে তাদের আবেগ সংযোগ স্থাপন করতে পারছে। আসলে সিনেমাটি মুক্তির পর সবাই ভুলে যেতে পারত, তবে ৩২ বছর পরও সিনেমাটি এবং তার সংলাপ নিয়ে চর্চা হওয়া সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। এর পেছনের কারণ হচ্ছে অনবদ্য গল্প, নির্মাণ আর অভিনয়। এমন গল্পের সিনেমা কখনো দর্শক ভোলে না, কালজয়ী হয়ে যায়।

সিনেমা থেকে দূরে এসে কেমন আছেন?

ভালো আছি। অনেক ভালো আছি। দুই সন্তান, স্বামী, সংসার-সব মিলিয়ে ভালো আছি। সবার ভালোবাসা ও আশীর্বাদে ভালো আছি। ছোটবেলা থেকেই রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। মানুষের সেবায় এগিয়ে আসার জন্য জীবনে প্রথম বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড সেন্টার’-এ প্রথম রক্ত দেই ১৯৯৬ সালের ১ ডিসেম্বর। এরপর থেকে অদ্যাবধি অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সবশেষে জানতে চাইব, অভিনয়ে ফিরবেন কি না?

না, সেই সময় এবং ইচ্ছা কোনেটিই আর নেই। সংসার, ধর্মকর্ম আর অসহায় মানুষের সেবা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই।

শান্তা / শান্তা