হুথিদের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় সব দেশকে এক হওয়ার আহ্বান আমিরাতের
ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশকে এক হওয়ার এবং যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাশ এ আহ্বান জানিয়েছেন।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান— এ ৬টি দেশ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ হিসেবে পরিচিত। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি নামে এই দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাও রয়েছে।
গত কাল ১২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ড. গারগাশ বলেন, “আগ্রাসনকারীরা সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল ভেবে আসছে এই ভুল ধারণার ওপর ভর করে আছে যে আমরা দুর্বল প্রতিপক্ষ এবং যে কোনোভাবে সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাই। আর ইতোমধ্যে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই তাদের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য।”
বর্তমানে সৌদি আরবে লাগাতার হুথি-হামলার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং যৌথ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ একান্তভাবে প্রয়োজন উল্লেখ করে এক্সবার্তায় তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চরের নিরাপত্তা এমন একটি যৌথ দায়িত্ব, যা উপেক্ষা বা বিলম্বিত করা যায় না। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উপসাগরীয় যৌথ কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমাদের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, যা অন্যদের সীমা অতিক্রম করতে উৎসাহিত করেছে।”
সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য এল। এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের (যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল) একটি সম্প্রসারিত প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি বাহিনীর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে। সে বছর হুথি যোদ্ধারা পুরো উত্তর ইয়েমেনে ও রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি পালিয়ে যান। আবদারাব্বুহ মনসুর হাদিকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি- আমিরাত সামরিক জোট। তবে ২০১৯ সাল থেকে এই জোট থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে আমিরাত এবং ২০২৫ পুরোপুরি এ জোট থেকে সরে দাড়ায়। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আছে আর দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।
সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক, ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং সৌদির বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধনেও সক্ষম হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূল এবং এ সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি গত মাসে দখল করেছে হুথিরা। এর ফলে বিদেশে সৌদির তেল রপ্তানি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সর্বশেষ গত শনি, রোব এবং সোম— পর পর তিন দিন সৌদির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে হুথি যোদ্ধারা। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন মোট ১৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক।
সূত্র : খালিজ টাইমস
aliul / aliul
সৌদির তিন স্থাপনা থেকে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা হুথিদের
ইয়েমেনের রাজধানীতে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে সৌদি
‘ভয়ে’ হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তা নিলো না সৌদি
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দেখালেন কিম
অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতিগত তাগিদ
নিরাপত্তা শঙ্কায় এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রাসাদে যাচ্ছেন প্রিন্স সালমান
প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে স্থল হামলার পরিকল্পনা ইরানের
সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে এল নিনোর প্রভাব: দাবানল, বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দিল্লিতে আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের হাত রয়েছে: পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী
মঙ্গলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভ্রমণের রেকর্ড করল নাসার পারসিভিয়ারেন্স
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ : সিজেপির ২ শীর্ষনেতা আটক
হুথিদের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় সব দেশকে এক হওয়ার আহ্বান আমিরাতের