ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

মঙ্গলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভ্রমণের রেকর্ড করল নাসার পারসিভিয়ারেন্স


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩-১০-২০২৬ দুপুর ৩:৮

মঙ্গলগ্রহে সবচেয়ে বেশি দিন অবস্থান এবং সবচেয়ে বিস্তৃত এলাকা ভ্রমণের রেকর্ড করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’। ২০২১ সালে মঙ্গলে পৌঁছানোর পর এ পর্যন্ত এই রোভার মঙ্গলে ৪৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।

পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহটিতে অতীতে অণুজীবের অস্তিত্বের অনুকূল পরিবেশ ছিল কি না, তা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে পরিচালিত মিশনের সাড়ে পাঁচ বছরের মাথায় ছয় চাকার ও গাড়ির আকারের ছয় চাকার এই রোবট বা রোভার এই মাইলফলক স্পর্শ করল। এই যাত্রাপথে পারসিভিয়ারেন্স সৌরজগতের অন্যতম সদস্য মঙ্গল গ্রহের প্রাচীন ভূখণ্ড বা এলাকাগুলো পরিদর্শন করছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির কর্মকর্তা স্টিভেন লি রয়টার্সকে বলেন, “পারসিভিয়ারেন্সের প্রকৌশলগত হার্ডওয়্যার ও যন্ত্রপাতি চমৎকার অবস্থায় রয়েছে এবং এর সমস্ত বিকল্প বা ‘রিডান্ড্যান্ট’ সিস্টেম এখনও সচল রয়েছে।”

নাসার ২ মঙ্গল-রোভার—‘পারসিভিয়ারেন্স’ ও ‘কিউরিওসিটি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক লি আরও বলেন, “সমস্ত সিস্টেমের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এগুলো ২০৩০-এর দশক এবং সম্ভবত তার পরেও কার্যকরভাবে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম।”

এর আগে ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নাসার রোভার ‘অপরচুনিটি’ মঙ্গলের পৃষ্ঠে ২৮.০৬ মাইল (৪৫ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করেছিল; পারসিভিয়ারেন্স সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, এই দুটি রোভারই চাঁদের বুকে চলা যেকোনো রোভারের অতিক্রান্ত দূরত্বের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

জেজেরো গহ্বর (ক্রেটার) পরিভ্রমণ

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত পারসিভিয়ারেন্স মূলত মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের 'জেজেরো গহ্বর বা ক্রেটার এলাকাটিতে তার কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করেছে। ধারণা করা হয়, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলটি পানিতে প্লাবিত ছিল এবং এখানে একটি হ্রদের অববাহিকা বা জলাধার ছিল।

সম্প্রতি গহ্বরটির পশ্চিম প্রান্তের কাছে অবস্থিত ‘ল্যাক ডি চার্মস’ নামের এলাকা হয়ে ‘ইডুবি’ নামের একটি অঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথে রোভারটি এই মাইলফলক অর্জন করে।

পারসিভিয়ারেন্সের সহযোগী রোভার ‘কিউরিওসিটি’ বর্তমানে মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থিত 'গেল ক্রেটার' এলাকায় বিচরণ করছে।

লি আরও জানান, পারসিভিয়ারেন্সের গতি কমে আসার কোনো লক্ষণ তারা দেখতে পাননি। তবে তা সত্বেও রোভারটির চলাচল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।  

রয়টার্সকে লি বলেন, “পারসিভিয়ারেন্সের গতি বা চলাচলের ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে এটা দেখানোর জন্য যে এটি ১০০ কিলোমিটার  বা তার বেশি পথ পাড়ি দিতে সক্ষম; এই প্রক্রিয়ায় এর হার্ডওয়্যারকে ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার উপযোগী করা যায় কি-না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।”

নাসা পারসিভিয়ারেন্সের সাফল্যের পেছনে এর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার সক্ষমতা—অর্থাৎ 'অটো-ন্যাভ' নামের স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন সিস্টেমের—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে। লি জানান, রোভারটির ৯০ শতাংশ যাত্রাই কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।

“পারসিভিয়ারেন্স তার সামনের ভূখণ্ডের স্টেরিও (ত্রিমাত্রিক ধারণা দেয় এমন) ছবি তোলে, একটি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) সফটওয়্যার ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করে এবং গন্তব্যের দিকে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথটি বেছে নেয়।”

লি আরও জানান, পারসিভিয়ারেন্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘ভিশন কম্পিউট এলিমেন্ট’। এটি একটি দ্রুতগতির কো-প্রসেসর কম্পিউটার যা রোভারটিকে ছবি প্রক্রিয়াজাত করতে এবং চলাচলের সময় প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে তার স্বয়ংক্রিয় চালনা সফটওয়্যারটি দ্রুত চালাতে সহায়তা করে।

“আগের রোভারগুলোর তুলনায় এটি ভিন্ন; কারণ আগের রোভারগুলোকে যাত্রার প্রতিটি ধাপ শুরুর আগে ‘চিন্তা’ করার জন্য বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য থেমে থাকতে হতো।”

“পারসিভিয়ারেন্স আমাদের অতীতের মঙ্গল-অভিযাত্রী রোভারগুলোর—যেমন সোজোর্নার, স্পিরিট, অপরচুনিটি এবং কিউরিওসিটি—২৯ বছরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি রোভারই আগের অভিযানের শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগিয়েছে এবং অন্য গ্রহে চলাচলের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে আরও উন্নত করেছে।”

সম্ভাব্য জৈবচিহ্ন

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে আসছেন যে পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও এক সময় প্রাণের বিকাশ হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের এই বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে মঙ্গলের ভৌগলিক ও আবহাওয়াগত অবস্থা।

তবে এ ব্যাপারে বহুদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারছিলেন না বিজ্ঞানীরা। রয়টার্সকে লি জানান, পারসিভিয়ারেন্সের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো একটি সম্ভাব্য 'বায়ো-সিগনেচার' বা জৈব-চিহ্ন—অর্থাৎ প্রাচীন অণুজীবের অস্তিত্বের সম্ভাব্য প্রমাণ আবিষ্কার করা, যা গত বছর প্রকাশ করা হয়েছিল।

মঙ্গলে যে এক সময় পানি ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে সেই গ্রহের একটি লালচে রঙের পাথরে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পাথরটি ৩২০ কোটি থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগে এমন একটি নদীর খাতে তৈরি হয়েছিল যা একসময় জেজেরো ক্রেটারে অবস্থিত হ্রদে জল সরবরাহ করত।

লি বলেন, ‘ল্যাক ডি চার্মস’ এলাকার ভূখণ্ড থেকে গ্রহের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া—যেমন বিশাল উল্কাপাতের প্রভাব সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সূত্র পাওয়া যেতে পারে। মঙ্গল গ্রহের ইতিহাসের শুরুর দিকে এমন একটি উল্কাপাতের জেরেই জেজেরো ক্রেটার গঠিত হয়েছিল।

লি কক্ষপথ থেকে প্রাপ্ত এমন প্রমাণের কথা উল্লেখ করেন যা থেকে বোঝা যায়, ক্রেটারের কিনারা বা প্রান্তের কিছু এলাকা একসময় উষ্ণ বা গরম ভূগর্ভস্থ পানি-সমৃদ্ধ 'হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম' বা তাপীয় জলপ্রবাহ ব্যবস্থা ছিল।

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকাগুলো হয়তো একসময় জীবনের বিকাশের অনুকূল উষ্ণ ও জলপূর্ণ ভূগর্ভস্থ পরিবেশ প্রদান করত। বস্তুত, অনেক জীবাশ্মবিদ ধারণা করেন যে পৃথিবীতে জীবনের সূচনা এ ধরনের পরিবেশেই হয়েছিল।”

রোভারটির প্রাথমিক অভিযান পরিকল্পনায় মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে নাসা সম্প্রতি এর অভিযানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে, যার আওতায় ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এটি ওই গহ্বরের কিনারা বা প্রান্তভাগ অনুসন্ধান করবে।

লি জানান, রোভারটির প্লুটোনিয়ামচালিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে এবং এতে "আরও বহু বছর ব্যবহারের উপযোগী শক্তি অবশিষ্ট রয়েছে।"

aliul / aliul

সৌদির তিন স্থাপনা থেকে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা হুথিদের

ইয়েমেনের রাজধানীতে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে সৌদি

‘ভয়ে’ হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তা নিলো না সৌদি

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দেখালেন কিম

অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতিগত তাগিদ

নিরাপত্তা শঙ্কায় এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রাসাদে যাচ্ছেন প্রিন্স সালমান

প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে স্থল হামলার পরিকল্পনা ইরানের

সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে এল নিনোর প্রভাব: দাবানল, বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

দিল্লিতে আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের হাত রয়েছে: পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

মঙ্গলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভ্রমণের রেকর্ড করল নাসার পারসিভিয়ারেন্স

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ : সিজেপির ২ শীর্ষনেতা আটক

হুথিদের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় সব দেশকে এক হওয়ার আহ্বান আমিরাতের

ইরানে সম্ভবত আমরা ‘বাড়াবাড়ি’ করে ফেলেছি : ট্রাম্প