দুর্গাপূজার ছুটিতে অতিরিক্ত ভাড়া ঠেকানোসহ যাত্রী নিরাপত্তার দাবি
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, গণপরিবহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। একইসঙ্গে সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত ও ৬৭৪ জন আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত ও ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। অর্থাৎ গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ জন সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া, মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক ১৫৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী এবং ৫৩ জন চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
সেপ্টেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৯১টি যানবাহনের মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি থ্রি-হুইলার ও ১১৩টি বাস ছিল। দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, ১০৯টি পথচারীকে ধাক্কা বা চাপা দেওয়ায়, ৯৮টি মুখোমুখি বা একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে এবং ৬১টি পেছন থেকে আঘাতের কারণে ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সর্বোচ্চ ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৫২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত ও চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে, ২৩টি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জানায়, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টার ঘাটতি, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মহাসড়কে অপর্যাপ্ত সার্ভিস লেন, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দুর্বলতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
সংবাদ সম্মেলনে যুবায়ের সিকদার বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং গণপরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ি ও পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত করবেন। এ সময় গণপরিবহনের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের কাছে দেওয়া সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিড গান ব্যবহার করে যানবাহনের গতি নজরদারি, ই-প্রসিকিউশন চালু, চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষাপদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সড়ক বিভাজক স্থাপন, দৃশ্যমান সাইনবোর্ড বসানো এবং ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিংয়ের মাধ্যমে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ এবং ডোপ টেস্ট কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে চালকদের টানা আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো বন্ধ, দূরপাল্লার বাসে বিকল্প চালক রাখা এবং চালক ও সহকারীদের নির্দিষ্ট বেতন, নিয়োগপত্র ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি মহাসড়কে ধীরগতির ও অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সুপারিশও করা হয়।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার কার্যকর রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার এবং অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বা ছাদে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে তাকে সতর্ক করতে হবে, মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে এবং মহাসড়ক পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। ভ্রমণের সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা এবং বাড়ি ছাড়ার আগে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগসহ বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি কামারুন নাহার, সাধারণ সম্পাদক সায়মুন নাহার জিদনী, সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, অর্থ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার এবং উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ও মো. আজাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
aliul / aliul
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্ব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান
লাইসেন্স ছাড়া চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট, ঝুঁকিপূর্ণ বলে নোটিশ করেছিল ফায়ার
হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, দেখেই বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
৩১ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের অগ্নিনিরাপত্তায় প্রস্তুত ফায়ার সার্ভিস
দুর্গাপূজার ছুটিতে অতিরিক্ত ভাড়া ঠেকানোসহ যাত্রী নিরাপত্তার দাবি
সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি দ্রুত চালুর দাবি
বাউলসম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮১, মামলা ৪০
দিনভর রোদ ও ভ্যাপসা গরম, শেষরাতে নামবে হালকা শীত
আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক