দুই মুসলিম নারীর টানা পঞ্চম জয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে টানা পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই মুসলিম নারী সদস্য রশিদা তলাইব ও ইলহান ওমর। মঙ্গলবারের নির্বাচনে মিশিগানের ১২ নম্বর কংগ্রেস আসনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জেমস ডি হুপারকে পরাজিত করেছেন তলাইব। অন্যদিকে মিনেসোটার ৫ নম্বর কংগ্রেস আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন ইলহান ওমর।
তলাইব মিশিগানের যে অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন, তার মধ্যে ডেট্রয়েট ও এর আশেপাশের এলাকা অন্তর্ভুক্ত। তিনি মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন নীতি নিয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার সদস্য তলাইব গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েল সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের অন্ধ সমর্থনের বিরুদ্ধে বারবার তোপ দাগিয়েছেন।
তার এই স্পষ্ট অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কেন্দ্রিক ডেমোক্রেটিক পার্টির কৌশলগত আলোচনায় তাকে এক প্রভাবশালী রাজনীতিকে পরিণত করেছে।
গত বছরের অক্টোবরে গাজায় পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডারের গ্রেপ্তার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তলাইব। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করার কারণে তলাইবকে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে ২০২৩ সালে প্রতিনিধি পরিষদে তাকে নিন্দা প্রস্তাবের মুখোমুখিও হতে হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন মার্কিন রাজনীতি উত্তপ্ত, তখন তার এই পুনর্নির্বাচন কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের জোরালো উপস্থিতি বজায় রাখল।
শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সোমালি-আমেরিকান ইলহান ওমর ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস ও এর পাশের অঞ্চলগুলো রয়েছে।
তিনি অভিবাসীদের অধিকার ও প্রগতিশীল নীতিমালার পক্ষে সবসময় সোচ্চার থেকেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন; যিনি তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিবাসীবিরোধী মন্তব্য ব্যবহার করে আসছেন।
এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগের মুখে পড়ার মাঝেই ইলহান ওমরের এই জয় এলো। তবে তিনি শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই দুই আইনপ্রণেতাই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মার্কিন আইনসভায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছেন।
চলমান মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের ক্ষমতার ভারসাম্য, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের অন্তত ২১৮টি আসনের প্রয়োজন হয়।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
aliul / aliul
দুই মুসলিম নারীর টানা পঞ্চম জয়
ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরলেন ট্রাম্প
নিজেদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ফা’যের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান
রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একটি কারণ ইরান যুদ্ধ, স্বীকার করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আব্দুল এল সায়েদ
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলো ডেমোক্রেটিক পার্টি
ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ৬ দিন পর স্পেনের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
ইরানে আপাতত হামলার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর রায় দেবে আন্তর্জাতিক আদালত
ইসরায়েলকে সামরিক অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, বললেন ট্রাম্প
কয়েক হাজার ইনজেকশনসহ বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড যাওয়া যাত্রী আটক
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত আব্দুল এল সায়েদ, জিতবেন তিনি?