ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপি গ্যাস!


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫-১১-২০২৬ দুপুর ১১:২৮

এলপি গ্যাস ১২ কেজির দাম ২০৬০ টাকা ঘোষণা করা হলেও, সারাদেশ থেকে বাড়তি দামে বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। খোদ রাজধানীতে ২৩৫০ টাকা এবং রংপুর শহরে ২২৫০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবেশকরা দাবি করেছেন, ১২ কেজি এলপি গ্যাস তাদের পাওয়ার কথা ১৯০৫ টাকায়। মাত্র ৪টি কোম্পানি নির্ধারিত দরে দিলেও জেএম আই, ইউরো এলপিজি, জি গ্যাস, যমুনা এলপিজি, বেক্সিমকোসহ বেশিরভাগ কোম্পানি বেশি দাম নিচ্ছে। জেএমআই আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে ২১৯০ টাকা। ক্যাশমেমো দিচ্ছে বিইআরসি নির্ধারিত ১৯০৫ টাকার, আর বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে অন্য একাউন্টে।

পরিবেশকদের সংগঠনের এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের কোরেশি বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমদানিকারকরা বেশি দাম নিলে বাজার কিভাবে স্বাভাবিক হবে! কোন কোন কোম্পানি ২৩০০ টাকা পর‌্যন্ত আদায় করছে। আমরা যে বেশি দামে কিনছি তার প্রমাণসহ ভোক্তা অধিদপ্তরকে অবগত করেছি। তারা কিভাবে বাড়তি টাকা অন্য একাউন্টে নিচ্ছে সেই তথ্য প্রমাণসহ।

তিনি বলেন, আমরা আজকে বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছি। এলপিজি আমদানি করছে না এমন কয়েকটি কোম্পানি বেশি দাম নিচ্ছে সে তথ্যও দিয়ে এসেছি।এছাড়া অনেক কোম্পানি যথাযথ গাড়িভাড়া দিচ্ছে না। ক্ষেত্র বিশেষে আগের থেকে গাড়ি ভাড়া কমানো হয়েছে।

সংগঠনটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মনি মুক্তা পাল বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমার গোডাউন মীরসরাইয়ে অবস্থিত। কুমিল্লা থেকে পৌঁছানোর খরচ বাবদ আগে (১২ কেজি) দিত ২৫ টাকা, এখন দিচ্ছে ১৬.৮৩ টাকা। ডিজেলের দাম বেড়েছে ভাড়া বাড়ানোর কথা, সেখানে কমানো হয়েছে।বিইআরসির ভুল ক্যালকুলেশনের কথা বলছে আমদানিকারকরা।আমরা বিষয়টি বিইআরসিকে জানিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনেক কোম্পানি বেশি দাম আদায় করছে। সেগুলো সেভাবে বিক্রি করা ছাড়া উপায় কি। আর যেগুলো নির্ধারিত দামে পাচ্ছি, সেগুলো সেভাবেই বিক্রি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আমদানিকারক কর্তৃক পরিবেশকের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার শর্তে ১২ কেজি দাম ১৯০৫ টাকা। পরিবেশক খুচরা বিক্রেতার ঘরে পৌঁছে দিয়ে ১৯৯০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতা ৭০ টাকা লাভে ২০৬০ টাকায় বিক্রি করার কথা। সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত দাম ছিল ১৫৮৫ টাকা, দুই দফায় যথাক্রমে ২৫২ টাকা এবং ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা করা হয়েছে।

রংপুর শহরে অবস্থিত রয়েল অর্কিড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী আব্দুলাহ ইবনে আনিস খান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সত্য বলতে কি রংপুরে এখনও ২২০০ থেকে ২২৫০ টাকা দরে বেচাকেনা চলছে। সোমবার (২ নভেম্বর) মাত্র দর ঘোষণা হয়েছে। আমার মনে হয় সপ্তাহ খানের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আগে থেকে বেশি দামে বিক্রির একটু প্রবনতা ছিল, এখনও অনেকের মধ্যে রয়ে গেছে।

সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে অস্থির হয়ে পড়েছে এলপিজির বাজার।অন্তর্জাতিক বাজারদর উর্ধমূখী হলে আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে দেন। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টেও বাজারে কৃত্রিম সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। এতে করে ১৫৮৫ টাকার এলপিজি কোথাও কোথাও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা হতে থাকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক দফায় এলপিজি খাতে নজির বিহীন অরাজকতা ছড়ায়। কিন্তু কখনও কোন আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজীর নেই।

সংকটকে পূঁজি করে নানান সুবিধা আদায় করে নিয়ে গেছে আমদানিকারকরা। সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া সংকটের কথা বলে আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ দশমিক ৭৬ টাকা। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের সংকটে আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ট্যাক্স কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইটচার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়। তারপরও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পরে এলপিজি আমদানির চালকের আসন থেকে সরে যায় বেক্সিমো, ওরিয়ন, বসুন্ধরাসহ কয়েকটি কোম্পানি। সেই জায়গা দখল করে নেয় আজম জে চৌধুরীর ইস্টকোস্ট গ্রুপ, হাসান মাহমুদ রাজার কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রুপ, এনার্জি প্যাক, যমুনা স্পেসটেক এলপিজি, বিএম এলপিজিসহ হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি।

বাজারে থাকা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডার সংকটকে প্রকট করছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। ওইসব সিলিন্ডার অন্য কোম্পানি নিতে চাইছে না। এতে করে অনেক ভোক্তা নতুন সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এলপি গ্যাসের গণশুনানিতে ওরিয়ন, বেক্সিমকো, ইউনিগ্যাসসহ কয়েকটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন ওরিয়ন এলপিজির সিওও অনিক কুমার সেন। তিনি বলেন, নানা কারণে বেশি কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। দেড় কোটির মতো সিলিন্ডার রয়েছে আমাদের। যেসব কোম্পানি আমদানি করছে তাদের মাধ্যমে আমাদেক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় তাহলে বাজারে আর সংকট থাকবে না। এখানে তারা একটি কমিশন নিতে পারে।

aliul / aliul

সোনার দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ১২ হাজার ৭২ টাকা

নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপি গ্যাস!

বিক্রি হচ্ছে মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস বিল বকেয়া ৩৪৮ কোটি টাকা

দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম

নয় মাসে ইসলামী ব্যাংকের ৩,২৮৬ কোটি টাকা লোকসান

গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, কিছুটা কমবে: পেট্রোবাংলা

দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

১২ কেজি এলপিজির নতুন দর ২০৬০ টাকা, বাড়ল ২২৩ টাকা

‘আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশ

অক্টোবরে এলো ৩৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি প্রবাসী আয়

'শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন', কাজে ফেরার আহ্বান মন্ত্রীর

‘এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ানো ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত, পারফরম্যান্স দেখাতে হবে’