অপহরণের নাটক সাজিয়ে কণ্ঠ নকল করে মুক্তিপণ আদায়, চক্রের দুজন গ্রেপ্তার
নিজেদের কাছে কোনো ভিকটিম না রেখেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতো একটি অনলাইন প্রতারক চক্র।
ফেসবুকে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি দেখে পরিবারের সদস্যদের নম্বর সংগ্রহ করে অপহরণকারী পরিচয়ে ফোন দিতো চক্রটি। পরে ভিকটিমের কণ্ঠ নকল করে মারধর ও নির্যাতনের অভিনয় করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করত তারা।
এমন একটি প্রতারক চক্রের মূল হোতা মো. ফয়সাল আহমেদ (৩১) ও তার সহযোগী মো. আল-আমিনকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
পৃথক অভিযানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) এসআরবি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।
মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় করা সাধারণ ডায়েরি ও এক ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রটির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। হৃদয়ন আনসারী (২৫) নামে এক তরুণ গাজীপুর থেকে রাজধানীর মগবাজারে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে তার পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ফোন করে দাবি করেন, হৃদয়ন তাঁদের জিম্মায় রয়েছেন। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও হৃদয়নের কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেন।
এসআরবি-৩-এর এই কর্মকর্তা বলেন, বিকাশ ও নগদ নম্বরের সূত্র ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে ব্যাটালিয়নটি। গত ২৮ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিকাশের দোকান এবং টাকা দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে পৃথক অভিযানে ফয়সাল ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে অপহরণকারী পরিচয়ে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করতেন। টাকা আদায় করতেন বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, চক্রটির কাছে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভিকটিম থাকত না। পরিবারের সদস্যরা অপহৃত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে চক্রের সদস্য আল-আমিন ওই ব্যক্তির কণ্ঠ নকল করে কথা বলতেন। এ সময় মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন- এমন অভিনয় করে পরিবারের সদস্যদের আবেগতাড়িত করা হতো। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্বজনেরা টাকা পাঠাতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা এভাবে প্রতারণা করে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের এমএফএস লেনদেন পর্যালোচনা করেও এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এসআরবি-৩ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পিসিপিআর (পূর্ব অপরাধের রেকর্ড) পর্যালোচনায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অপহরণ মামলা ও সাধারণ ডায়েরির তথ্য পাওয়া গেছে।
মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, কারও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে অবশ্যই থানায় সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করতে হবে। হারানো ফোনে ব্যবহৃত সিম বন্ধ না করলে প্রতারক চক্র ওই সিম ব্যবহার করে নতুন করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) হিসাব খুলে প্রতারণা করতে পারে। এতে প্রকৃত মালিক অপরাধে জড়িত না থেকেও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এসআরবি-৩। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
aliul / aliul
ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর নির্দেশ
অপহরণের নাটক সাজিয়ে কণ্ঠ নকল করে মুক্তিপণ আদায়, চক্রের দুজন গ্রেপ্তার
ডেঙ্গু প্রতিরোধে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে চিরুনি অভিযান শুরু
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
৬ বছর বয়সেই নেবে এনআইডি তথ্য, প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউপিতে ভোটের প্রস্তুতি
প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা সমাস্যার সমাধান সম্ভব নয় : শামা ওবায়েদ
সেলফি তুলতে গিয়ে জানালা থেকে পড়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩
কারিগরি-প্রযুক্তিগত শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : জাহিদ
ওএইচসিএইচআরের মিশনপ্রধানের পরিচয়পত্র পেশ
গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা গ্রেপ্তার
দক্ষিণখানে মাদক কারবারিদের দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে এক নারী নিহত