দশমিনায় সময়সীমা শেষ হলেও শুরু হয়নি অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের ৩ ভবনের নির্মাণকাজ
‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর দশমিনায় ‘বীর নিবাস’-এর নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে কার্যাদেশের সর্বশেষ সময়সীমা অতিক্রম হলেও তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ এখনও শুরু হয়নি।
জানা যায়, ওই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির মাধ্যমে প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৮ টাকা, যা পরবর্তীতে বর্ধিত হয়ে ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা ব্যয়ে পাকা ভবন নির্মাণের নির্দেশ আসে।
উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, ওই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন বরাদ্দ সংক্রান্ত অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি উপজেলার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে ১৯টি আবেদনপত্র প্রাপ্ত হয়ে আবেদনকারীদের সার্বিক অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ১২ জনের নাম সুপারিশ করে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মন্ত্রণালয় থেকে ১২ জনের বিপরীতে ৮ জনের নামে ঘর বরাদ্দ হয়ে আসে।
জানা যায়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রকাশ্য লটারির মধ্যদিয়ে ২৬ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মেসার্স খন্দকার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. কামরুল খন্দকার উপজেলায় ওই প্রকল্পের ৮টি পাকা ভবন নির্মাণের ঠিকাদার নির্বাচিত হয়, যার কার্যাদেশে ৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখে কাজ আরম্ভ ও ২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের সর্বশেষ সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলায় ওই প্রকল্পের ৮টি ভবনের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের সর্বশেষ সময়সীমা অতিক্রমের দুই সপ্তাহ পরও ৫টি ভবনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লাল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল গণি হাওলাদার ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজেম আলী শিকদারের ছেলে নাসির শিকদারের নামে পৃথক পৃথক বরাদ্দকৃত তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খন্দকার কনস্ট্রাকশন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. কামরুল খন্দকার জানান, প্রকল্পের সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল হোসেন ওই তিনটি ভবনের কাজের সাইট আমাকে বুঝিয়ে দেননি।
উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের আরজবেগী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লাল মিয়া সাংবাদিকদের জানান, পিআইও রবিউল হোসেন আমাকে সন্ধ্যার পর দেখা করতে বলছিলেন। আমি দেখা করিনি তাই আমার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেনি।
উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের গুলি গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজেম আলী শিকদারের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে নাসির শিকদার জানান, আমার নামে বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরের নির্মাণকাজ শুরুর ব্যাপারে পিআইও রবিউল হোসেন স্যারের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে শুধু দেখা করতে বলেন।
উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গণি হাওলাদারের ছেলে মো. ইয়াকুব হোসেন জানান, আমি ঠিকাদারের কাছে কাজ শুরুর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিআইও রবিউল হোসেন স্যার কাজ শুরু করতে নিষেধ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দশমিনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রবিউল হোসেন মুঠোফোনে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লাল মিয়া বালু দ্বারা নতুন ভরাট করা জমিতে ঘর নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। নতুন ভরাটকৃত জমিতে ঘর নির্মাণ করা নিষেধ মন্ত্রণালয়ের। এমন নির্দেশনার আলোকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারিনি। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজেম আলী শিকদারের ছেলে নাসির শিকদারের জমি সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ওই ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। এখন তার নামে ওই জমির নামজারি হয়েছে। এখন কাজ শুরু করা যাবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গণি হাওলাদার পূর্বে একটি ঘর পেয়েছেন, যদিও সেটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নয় কিন্তু সরকারি। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ওই ভবনের কাজ শুরু করা হবে। কাউকে আমার সাথে দেখা করতে বলার বিষয়টি আদৌ সত্য নয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই প্রকল্পের বিভাগীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমি যতদূর জানি এই মুহূর্তে ওই তিনটি ঘরের নির্মাণকাজ শুরু করার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। পিআইও দেখা করতে বলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ পরিদর্শন ও মনিটরিং করি। এমন অভিযোগ কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা করলে ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলাপ করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দশমিনা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার, আবাসন বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও দশমিনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আবদুল কাইয়ুম জানান, আমি প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি বাড়ি গিয়ে কঠোরভাবে কাজ মনিটরিং করি। ওই তিনটি ভবন নির্মাণে একটু জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে কেউ কাউকে দেখা করতে বলার কোনো সুযোগ নেই। সম্মানীত বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করলে আমি অবশ্যই অভিযুক্তর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
শাফিন / জামান
আদমদীঘিতে দুই মাদক কারবারির জেল-জরিমানা
মান্দায় নিজ অর্থায়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফর রহমানের রাস্তা সংস্কার
জয়পুরহাটে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২৬ দিনব্যাপী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ
কুড়িগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন
ঠাকুরগাঁওয়ে সূর্যপুরী আম জিআই পণ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি
বাঘার তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনে চমক: স্মার্ট প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে ২৮ জুন জাতীয় মঞ্চে লড়বে শাহদৌলা কলেজের এনামুল-আকাশ-মাহি
নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড
বিরামপুরে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও মদ-সহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
একদিনে ১১ জনকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা: ১০ জন আদালতে, নিখোঁজ যুবক ফিরলেন পরিবারের কাছে
জয়পুরহাটে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আনন্দ উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী
সিংড়ায় মৎস্যচাষীদের মাঝে মৎস্য উপকরণ বিতরণ