হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হয়
মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ আদায় অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাত নামাজ আদায়ের সমান সওয়াব পাওয়া যায়; আর মদিনার মসজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজ আদায় অন্য মসজিদে এক হাজার রাকাত নামাজ আদায়ের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
মসজিদুল হারামে ঢোকার আগে প্রথম তাওয়াফে পুরুষদের তাঁর ইহরামের কাপড় একটু অন্যভাবে পরতে হয়। শুধু ইহরামের ওপরের অংশটি (রিদা) ডান কাঁধের ওপর থেকে সরিয়ে হাতের নিচে থেকে নিয়ে নিতে হবে—এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইদতিবা’।
মসজিদে ঢোকার সময় দোয়া পাঠ করুন:
‘আল্লাহুম্মা মাফ্তাহিল আব্ওয়াবা রাহমাতিকা’
অর্থ: ও আল্লাহ, তোমার দয়ার দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দাও।
এবার তালবিয়া পড়া বন্ধ করুন। এরপর সোজা চলে যান কাবা শরিফের দিকে; এ সময় তাহিয়াতুল মসজিদেরও দরকার নেই; বরং এখন প্রথম কাজ হচ্ছে, তাওয়াফ সম্পন্ন করা; রাসুল (সা.) তা–ই করেছেন। তিনি অজু করে সরাসরি তাওয়াফ সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে আপনার চোখের সামনে দেখা যাবে সেই চিরচেনা কাবাঘর; এটি একটি আবেগঘন মুহূর্ত। কারণ, আপনি আপনার চোখের সামনে সেই স্বপ্নের কাবাকে দেখছেন! চোখের অশ্রু এ সময় ধরে রাখা কষ্টকর হবে!
তাওয়াফ
কাবা শরিফের চারদিকে ঘোরাকে বলা হয় তাওয়াফ; আর এই তাওয়াফ শেষ করতে হয় কাবা ঘরের সাতটি চক্করের মাধ্যমে, যেটি শুরু হবে হাজরে আস্ওয়াদ থেকে। এবার চিনে নিন কাবার কোন দিকে কী রয়েছে।
তাওয়াফ শুরু করতে প্রথমেই চলে যান ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ বরাবর; হাজরে আস্ওয়াদকে ‘ব্ল্যাক স্টোন’ও বলা হয়। সহিহ হাদিসে আছে, ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) বেহেশত থেকে এই পাথর পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিলেন। সম্ভব হলে কাবার এক কোনায় স্থিত এই হাজরে আস্ওয়াদকে ডান হাতে ছুঁয়ে তারপর চুমু খেতে হবে;
কিন্তু হজের সময় প্রচণ্ড ভিড়ে এটা করা সম্ভব নয়; আর এটা করার চেষ্টাও করবেন না, এতে আপনি বিপদে পড়তে পারেন; তাই দূর থেকে হাজরে আস্ওয়াদের দিকে মুখ করে দাঁড়ান, ডান হাত তুলুন এবং ইশারা করে হাতটি হাজরে আস্ওয়াদের দিকে বাড়ান, তারপর সেই হাতে চুমু খান;এবার হাজরে আস্ওয়াদকে আপনার বাঁ দিকে রেখে বলুন:
‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করলাম; আল্লাহ সর্বশক্তিমান
কাবার রয়েছে চারটি কোনা; প্রথমটি হলো হাজরে আস্ওয়াদ, দ্বিতীয়টি হলো ইরাকি কর্নার, তৃতীয়টি হলো সিরিয়া কর্নার, আর চতুর্থটি হলো ইয়েমেনি কর্নার।
এবার ইরাকি কর্নারের দিকে হাঁটা শুরু করুন ও কাবাকে বাঁয়ে রেখে গোলাকারভাবে প্রদক্ষিণ করুন। হাঁটতে হাঁটতে যখন আপনি ইয়েমেনি কর্নারে পৌঁছাবেন, তখন ডান হাত তুলুন এবং ইশারা করে হাতটি ইয়েমেনি কর্নারের দিকে বাড়ান এবং বলুন:‘রাব্বানা আ’তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাউ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাউ ওয়া কিনা আজাবান্নার’
অর্থ: ও আল্লাহ, এ দুনিয়া ও পরকালে আমাদের কল্যাণ দান করো এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো।
রাসুল (সা.) ইয়েমেনি কর্নার পার করার সময় ইয়েমেনি কোনা ছুঁতেন; আপনি দূর থেকে ইশারা করে হাত তুললেই হবে। এভাবে আপনি এরপর পৌঁছে যাবেন আবারও হাজরে আস্ওয়াদে। পূর্ণ হলো একটি চক্কর।
এবার আবারও দূর থেকে হাজরে আস্ওয়াদের দিকে মুখ করে দাঁড়ান, এবার দুই হাত তুলুন, হাতের তালু কাবার দিকে থাকবে—ঠিক যেমন নামাজের সময় হাত তোলা হয়; এবার বলুন: ‘আল্লাহু আকবার’ অর্থ: আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
এবং পুনরায় দ্বিতীয় চক্কর শুরু করুন। আগের নিয়মেই এই চক্করটি পুনরাবৃত্তি করুন—ইয়েমেনি কর্নার পার করার সময় দোয়াটি পড়ুন। এভাবে সাত চক্কর পূরণ করুন; আপনার তাওয়াফ হয়ে যাবে।
Israt / Israt
অঙ্গীকার রক্ষা ইসলামে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গোপনে ভালো কাজ বিপদমুক্তির হাতিয়ার
স্থলপথে সৌদিতে ইরাকের হজযাত্রীদের প্রথম কাফেলা
বিনয় ও নম্রতা মুমিনের অপরিহার্য গুণ
ইসলামে সর্বজনের হিতাকাঙ্ক্ষা
হজযাত্রীদের সুবিধার্থে মিকাতের আধুনিকায়ন করল সৌদি
আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ ও ফজিলত
হজভূমি: পৃথিবীর প্রথম ঘর কাবা
কোরআনের বাণী: আল্লাহ কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি
নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা
হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা
ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়া অমার্জনীয় পরিণতি