ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

প্রশাসনের চোখের সামনে এক যুগধরে অপ্রতিরোধ্য অবৈধ বাল ব্যবসায়ী সুইট-সুজা


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২৩-৮-২০২৪ দুপুর ৪:১০
রাত দিন একাকার। বাল্কহেড বসানো জোড়ায় জোগায়। যমুনার বুক চিরে অনর্গল বেরিয়ে আসছে মোটা বালির দানা। রাতারাতি পহাড় হয়ে যাচ্ছে। দিনের আলো ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ট্রাক-ট্রলির আগমন। বালির ¯প আবার নাই হয়ে যায়। পর্বের ঠিক করা গ্রহকদের বাড়িবাড়ি পৌছে যায়। আবার শুরু। এভাবে এক যুগধরে অবৈধ  ভাবে বালি উত্তোল করে আসছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরখালি এলাকার এক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সুইট এবং তার ভাই সুজাউদদৌলা সুজা। থানার ওসি কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেক নজরেই টিকে আছে দুই ভাই। জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া শত কোটি টাকার মালিক দুই ভিলেনের সাথে পকেটের মান উন্নয়ণ হয়েছে উল্লেখিত দুই কর্মকর্তারও। এমন অভিযোগ জোড়ালোভাবে উঠেছে। সুইট-সুজা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তার নিজস্ব গুন্ডাবাহিনীর সদস্য প্রায় ২০০জন। তাদের অত্যাচারে পুরো উপজেলাবাসী অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ভায়ে কেউ তাদের অপকর্ম নিয়ে কথা বলতে পারে না। কথা বললেই তাদের নিজস্ব আদালতে তুলে নেয়া হয়। সেখানে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাঘাটা-ফুলছড়ির সাবেক সাংসদ মাহমুদ হাসান রিপন তার ক্ষমতার প্রধান উৎস। তার সেল্টারেই দুই ভাই তাদের নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। তাদের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি সাঘাটা থানার ওসি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানলেও সুবিধাভোগের কারণে এক যুগেও তাদের কিছুই হয়নি। সম্প্রতি আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে দলটির নেতাকর্মীরা প্রায় বিলুপ্ত হলেও সাঘাটার ওই দুই চুরোপুটি নেতার দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি। 
 
তারা যমুনায় প্রতিদিন অবৈধভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার বালি উত্তোলন করে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। নদীর কিনারায় বালি উত্তোলন এবং লোড-আনলোড করার ফলে বহু ফসলি জমি ভেঙ্গে নদী গর্বে চলে গেছে। ক্ষতির শিকার এলাকাবাসী এসব মুখবুজে সহ্য করে যাচ্ছে। প্রশাসনকে বলে এক যুগেও কোন সমাধান পায়নি কেউ। উল্টো যারা বালি উত্তোলনে বাঁধা দিয়েছেন তাদেরকেই নির্যাতন, হয়রানি করেছে পুলিশ প্রশাসন। সুইচ সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের পর পর কয়েব বার চুরি করা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন তিনি চেয়ারম্যান থাকায় ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন। কোন মানুষকে তোয়াক্কা করেন না। তোয়াক্কা করেন না প্রশাসনকেও। তাদের ভয়াবহ ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আমাদের আরো গভীরভাবে অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত হাতে আসলে ভিন্ন পর্বে তুলে ধরা হবে দুই ভায়ের রাজত্ব বর্ণনা। 
 
স্থানীয় বাঁশহাটা গ্রামের তরুণ সোহেল রানা বলেন, সুইচ চেয়ারম্যান এবং তার ভাই সুজা দীর্ঘ বারো বছর ধরে অবৈধভাবে যমুনা থেকে বালি উত্তোলন করে আসছে। নদীর কিনারা থেকে এসব বালি তোলায় ফলে প্রতিবছর পড় ভেঙ্গে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষের আবাদী জমি নষ্ট হয়েছে। প্রতিদিন বালি বহনকারী ট্রাক ট্রলির অত্যাচারে গ্রামের সব সড়ক নষ্ট হয়েছে। গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গরু-ছাগল মারা গেছে। অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তাদের এমন অবৈধ কাজে বাঁধা দিলে উল্টো বিপদে পড়তে হয়েছে। তাদের গুন্ডাবাহিনী বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নানাভাবে নির্যাতন করে। ফলে এখন আর কেউ কথা বলার সহস পায় না তাদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় কিনা জানতে চাইলে সোহেল বলেন, পুলিশকে বললে উল্টো অভিযোগকারীদের শাসন করে যায়। উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তাও অর্থের কাছে মাথানত করে থাকে। কাউকে বলে কোন কাজ হয় না। সাংবাদিকরাও এসে ছবি তুলে নিয়ে যায় কিন্তু কোন পত্রিকায় এসব খবর কেউ ছাপায় না। 
 
 শরীফ ইসলাম নামে স্থানীয় এক বলেন, সুইট-সুজা যমুনা থেকে বালি উত্তোলন করেই খ্যান্ত হয়নি। তারা চরের জায়গা জমিও দখল করে রেখেছে। একরের পর একর জমি তারা নিজেদের দখল করে ফসল বিক্রি করে নেয়। বন্যার পড়ে কাশফুলের ক্ষেত কোটি টাকায় বিক্রি করে। জমিন মালিকরা প্রতিবাদটুকুও করতে পারে না। গেলো ১৮ আগস্ট সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে কিছু মহিলা দল বেঁধে সাংবাদিকের কাছে আসেন কষ্টের কথা বলতে। তারা নাম প্রকাশের ভায়পায়। তাদের ভাষ্য হলো, দেশের আইন-কানুন নূন্যতমও নেই বলে কথা শুরু করেন। তারা বলেন, সুজা-সুইট যেভাবে এলাকার মানুষকে অত্যাচার করে যাচ্ছে পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে এমনটা হয় না। তাদের বিচার দেশের মাটিতে হবে এমন বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে অনেক আগেই। ওই মহিলার দল আরো বলেন, আমার খবরে দেখেছে দেশের কোথাও হাসিনার দলের লোকজন নেই। সবাই পালিয়ে আছে। কিন্তু আমাদের এখানকার আওয়ামী লীগ নেতা সুইট এবং তার ভাই সুজা কীভাবে দাম্ভিকতার সাথে এখনো অন্যায় করে যাচ্ছে। এমনটা ভেবে তারা অনেকটা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। 
বিষয়টি নিয়ে সুজাউদদৌলা সুজার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য এসব বালি তোলা হচ্ছে। বালি অন্য জায়গায় বিক্রি হচ্ছে সেটি তিনি অস্বীকার করেন। পরে এলাকার মানুষদের অত্যাচার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাই বারবার এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। যদি অত্যাচার করতো তাহলে তিনি চেয়ারম্যান হতে পারতো না। এসময় তিনি গর্ব করে বলেন আমরা খারাপ হলে আমাদের নামে মামলা থাকতো। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন আমাদের নামে একটি মামলাও নেই। 
 
সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সুইটের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।সাঘাটার থানার অফিসার ইনচার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি মাত্র কয়েকদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। তখন দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ছিল।  এখন এসব বিষয়ে অভিযান শুরু হবে আশাকরি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। 
 
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসাহাক আলী বলেন, আমরা এর আগে দুই বার সেখানে অভিযান চালিয়েছি। তাদের বসানো বাল্কহেড পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছি। এখন পুলিশকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেনা সদস্যদের নিয়ন্ত্রে রয়েছে পুলিশ। তারপর আমরা ওখানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সাধারণ মানুষে প্রশাসনের বিষয়ে যা বলেছে তার ঠিক নয়। 

এমএসএম / এমএসএম

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে একদিনে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

দোহাজারীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

শিবচরে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরু ছিনতাই, আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

প্রধান উপদেষ্টার রোডম্যাপ সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করার নীল নকশা: ডা. তাহের

টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারের বাড়িতে ডাকাতির মূলহোতা'সহ ৭ ডাকাত গ্রেপ্তার

আনোয়ারায় শ্রমিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে যুবলীগ নেতা শাহ জালাল

কোটালীপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত হল কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

‎কুতুবদিয়ায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ সদস্য গ্রেফতার

রায়গঞ্জে বিপিএলের ধাঁচে ফুটবলার নিলাম, গ্রামে উৎসবের আমেজ

মানিকগঞ্জে শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

শেরপুরে গোয়ালঘরে কয়েলের আগুন ৮টি গরু ও ৪টি ছাগল পুড়ে ছাই

শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি, ভাড়া করা ঘরে চলছে পাঠদান