ঢাকা রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

আজীবন শিল্পী পরিচয়ই তুলে ধরতে চাই: পূজা


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬-৯-২০২৪ দুপুর ২:৯

কিছুদিন ধরে পূজাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হ্যাঁ, কণ্ঠশিল্পী বাঁধন সরকার পূজার কথাই বলছি, যাকে নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারণ একটাই, কাছাকাছি সময়ে তাঁর গাওয়া ১০টি গান কোটি ভিউর মাইলফলক স্পর্শ করেছে। 

এর চেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, কোটি ভিউর কোনো গানই নাটক, সিনেমায় প্লেব্যাকের জন্য গাওয়া নয়; বরং তাঁর গাওয়া ‘দূরে দূরে’, ‘এত কাছে’, ‘চুপি চুপি’, ‘একটাই তুমি’, ‘তোমার আমার ভালোবাসা’, ‘তুমি ছাড়া’, ‘কেন বারে বারে’, ‘মানে না মন’, ‘তোমায় ছেড়ে’, ‘সাত জনম’– সব গানই অডিও-ভিডিও আকারে প্রকাশিত মৌলিক গান। তবে এই তালিকার কোনো গানই পূজার একক কণ্ঠে গাওয়া নয়; বরং প্রতিটি গানই কোনো না কোনো শিল্পীর সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়া। সেখানে পূজার সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন তাহসান খান, ইমরান মাহমুদুল, আরেফিন রুমী, কাজী শুভ ও মিলন। আর এই বিষয়টাই শ্রোতাদের বেশি অবাক করেছে এবং হয়ে উঠেছে তাদের নিত্যদিনের আলোচনার বিষয়।

অনুরাগীদের মন্তব্য, পূজার গাওয়া মেলোডি সুরের শ্রুতিমধুর গানগুলোয় মিষ্টি প্রেমের গল্প কিংবা বিরহের কথাই বারবার উঠে আসে। তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় গানগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে পূজা মোলো-রোমান্টিক গান প্রাধ্যান্য দিলেও সুর ও সংগীতায়োজনে বৈচিত্র্য তুলে ধরার চেষ্টা করে গেছে। সে কারণেই তাঁর একাধিক গান সহজেই শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করতে পেরেছে।

অনুরাগীদের এমন মন্তব্য যে অনেকটাই নির্ভুল তা পূজার গান তৈরির ভাবনা থেকেও স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘কণ্ঠ আর গায়কীতে যে নিজস্বয়তা আছে, সেটা তো বদলে ফেলা যাবে না। তাই নতুন গানের বিষয়ে সবসময় যা ভাবনায় থাকে তা হলো– গায়কীতে নিজস্বয়তা ধরে রেখেই নতুন কিছু করা। গানের কথা সহজ ভাষায় লেখা হতে পারে, কিন্তু তা যেন সস্তা না হয়। সুরে মেলোডি থাকলেও তা পরিচিত কিংবা আগের কোনো গানের মতো হোক- সেটাও চাই না। সংগীতায়োজনেও থাকতে হবে নতুন। আমি মনে করে, ভালো গানের জন্য এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা জরুরি। সেই ভাবনা নিয়েই নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’

পূজার কথায় বোঝা গেল, তার নতুন গানের আয়োজন থেমে নেই। কিন্তু কবে প্রকাশ পাবে সেই গানগুলো? জানাতে চাইলে পূজা বলেন, ‘লিপস্টিক’, ‘কর্পোরেট’সহ নতুন যে সিনেমাগুলো প্লেব্যাক করেছি, সেগুলো হয়তো দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একে একে প্রকাশ পাবে। এর বাইরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য কিছু গান করছি। সেগুলো একে একে প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে। সে গানগুলোয় যেখানে শ্রোতারা নতুন এক পূজাকে আবিষ্কারের সুযোগ পাবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

অডিও গানের পাশাপাশি নাটক, সিনেমায় প্লেব্যাক নিয়মিত প্লেব্যাক করে যাচ্ছেন পূজা। প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন অনেকের। তাই এই শিল্পীর কাছে জানতে চাওয়া, ভার্সেটাইল শিল্পী হওয়ার বাসনা নিয়েই কী গানের ভুবনে পা রেখেছিলেন?

এ প্রশ্নে পূজা বলেন, হ্যাঁ, অনেকের মতো আমিও ভার্সেটাইল শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন লালন করেছি সবসময়। সেজন্যই ক্লাসিক্যাল দিয়ে হাতেখড়ি হলেও পরে আধুনিক গানে চর্চা শুরু করেছিলাম। আর নিজেকে পরিণত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতেই সংগীতের প্রতিটি মাধ্যমেই কাজ করে যাওয়া। কারণ একটাই, গান ছাড়া অন্য কিছু করার কথা ভাবতে পারি না। আজীবন শিল্পী পরিচয়ই সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।’

তবে শিল্পী জীবনের সাফল্য নিয়ে কখনোই একক কৃতিত্ব দাবি করেন না। প্রতিটি আয়োজনের সঙ্গে যারা যুক্ত, সেসব গীতিকার, সুরকার, সংগীতায়োজক, প্রযোজক, প্রকাশকদেরও অবদানের কথাও স্বীকার করেন তিনি।

পূজার কথায়, অডিওতে যেমন গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, সংগীতায়োজক– সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করেন, তেমনি প্লেব্যাকের সময়েও নাটক, সিনেমার কাহিনিকার ও নির্মাতাদের ভূমিকা থাকে। তাই আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালেই নয়।

এমএসএম / এমএসএম