দুর্গাপুরে পূজামণ্ডপে বরাদ্দকৃত সরকারি চাল নিয়ে চালবাজি
এবার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজশাহীর দুর্গাপুরে ১৬টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করবেন সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ। পূজা উদযাপনে সহায়তা দিতে সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে মন্দিরপ্রতি ৫০০ কেজি করে (জিআর) চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দকৃত এই চাল নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চালবাজি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আপ্যায়নের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
১৬টি মণ্ডপে বরাদ্দকৃত চালের ডিও আটকে দিয়ে চালের পরিবর্তে মন্দির কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে টাকা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে মন্দির কমিটির নেতাদের শাসিয়ে দেয়া হয়েছে বিষয়টি কাউকে না জানাতে। ন্যূনতম বাজারদর হিসেবে ৫০০ কেজি চালের দাম প্রায় ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা হলেও মণ্ডপপ্রতি দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে চালবাজি করে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বাণিজ্য করেছে সিন্ডিকেটটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতা জানান, উপজেলায় এবার ১৬টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে। এ কারণে সরকারিভাবে প্রতি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ডিও গ্রহণ করে আমরা মন্দির কমিটির নেতাদের ডেকে দিয়ে দিয়েছি। তারা ডিও দিয়ে চাল উঠিয়েছে নাকি বিক্রি করে দিয়েছে, সেটি আমার জানা নেই।
সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে চালের ডিও দেয়া হলেও ডিও আটকে দিয়ে সিন্ডিকেটপ্রধান বিরেন্দ্রনাথ সরকার বীরেন মন্দির কমিটির নেতাদের ডেকে মাত্র ২০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়েছেন। এতে পূজা উদযাপন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন মন্দির কমিটির নেতারা। তারা ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতেও পারছেন না।
মন্দির কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চালের ডিলার হিসেবে পরিচিত বীরেন সরকার তাদের ডেকে ২০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়েছেন আর বলেছেন এ ব্যাপারে কেউ জিজ্ঞাসা করলে ৫০০ কেজি করে চাল পেয়েছি বলে স্বীকার করতে। একদিকে টাকা কম, অন্যদিকে মন্দির কমিটির সদস্যদের কাছে জবাবদিহিতা; এমতাবস্থায় আমরা চরম বেকায়দায় পড়েছি।
এ প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের প্রধান ডিলার বীরেন সরকার বলেন, বরাদ্দকৃত এই হাইব্রিড চাল ৪২ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়েছি। চাল কেনার অধিকার আমার আছে। ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে মন্দির কমিটির নেতাদের ডেকে ২১ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া কিছু খরচাপাতি হয়ে থাকে।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুবা আক্তার বলেন, আমরা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের ডেকে নিয়ে ৫০০ কেজি হারে ১৬টি মণ্ডপে বরাদ্দকৃত চালের ডিও বুঝিয়ে দিয়েছি। এরপর আমাদের আর কিছু জানার বা করার নেই।
উপজেলা খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) জানান, দুদিন ধরে বরাদ্দকৃত চাল খাদ্য গোডাউন থেকে বের হচ্ছে। শ্রমিক খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা খরচ হয়। এর বেশি খরচ নেয়ার সুযোগ নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের ডেকে বরাদ্দকৃত চালের ডিও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা চাল বিক্রি করবে নাকি নিয়ে যাবে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে মন্দির কমিটির নেতারা চাইলে নগদায়ন করতে পারেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দীন-আল-ওয়াদুদ বলেন, বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে কিনা সেটা তদারকির দায়িত্ব আমাদের। কোথাও এমনটি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি দেখব।
T.A.S / জামান
হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ইয়াবা, চাইনিজ কুড়াল ও নগদ টাকাসহ মাদক কারবারি আটক
ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ চেষ্টায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির ‘তাল বেলাল’
বাউফলে অসচ্ছল ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান ও ঢেউটিন বিতরণ
আড়ানী পৌর এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ,আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
খাম্বার সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
ত্রিশালে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু
খাল খনন শেষে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সাটুরিয়ার ইউএনও
বাঘার জনপদে নতুন উদ্যমে জেগে উঠল ‘স্বপ্নসারথি’ কিশোরীরা
ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ধর্মপাশায় ওসি কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন