দুই শতাধিক প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দিয়েছেন শেকৃবির তিন ভিসি

উপাচার্যদের মূল দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১২ বছরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে তিনজন উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘নিয়োগ’ বাণিজ্য। নিয়োগের মাধ্যমে অর্থ কামাইসহ আত্মীয়স্বজন ও দলের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করেছিলেন তারা। নিজ দলের নেতাকর্মী ও আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়ে এই তিন উপাচার্য কামিয়েছেন বিপুল অর্থ।
তিন উপচার্য হলেন- অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া এবং অধ্যাপক শাহাদাত উল্লাহ। এই তিন উপাচার্য অন্তত দুই শতাধিক প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, সিন্ডিকেট সভা ও নিয়োগ বোর্ডে যুক্ত থাকা এক কর্মকর্তা জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তা পদে ২০ লাখ এবং কর্মচারী পদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষ কর্তাদের কোটা রয়েছে। সে অনুযায়ী উপ-উপাচার্য, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের তৎকালীন চার নেতা, কৃষক লীগের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুজন শীর্ষ নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কৃষিবিদ নেতারও কোটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়োগে। এরমধ্যে ব্যতিক্রম একটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর আগে নেয়া টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন একজন উপাচার্য। আর ওই সময়ের বেশিরভাগ নিয়োগই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা।
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৬৪ জন শিক্ষক, ২৮১ জন কর্মকর্তা ও ৩৩৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ওই তিন উপাচার্যের আমলে নিয়োগ পেয়েছেন ২৯২ জন, যার মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ১০৬ জন। ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট উপাচার্য হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ। আইনবহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগে ২১ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা, ইউজিসির অনুমতি ও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং স্বজনপ্রীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে। তাঁর স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সবার মুখে মুখে।
২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বরের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির চারটি অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে ৭৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে সিন্ডিকেটের আনুমোদন আদায় করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ১০১ জনকে, যা বিজ্ঞপ্তির চাহিদার চেয়ে ২৬ জন বেশি। সেকশন অফিসার পদেও অতিরিক্ত আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ইউজিসির অনুমতি না থাকার পরও ইনস্টিটিউট অব সিড টেকনোলজিতে পাঁচজনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন এই উপাচার্য।
কৃষিতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগ বোর্ডে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপাচার্যের জামাতা ও বিভাগের অধ্যাপক মির্জা হাসানুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই উপাচার্য আপন ভাগ্নেকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিতে জামাতাকে বিশেষজ্ঞ পদে বসান। অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কোষাধ্যক্ষের মেয়েকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি একটি সি গ্রেডের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন।
স্বজনপ্রীতির বাইরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতিও এই উপাচার্য বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রলীগের নেতারাসহ হল কমিটির নেতাকর্মীদেরও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষিকা বা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নবাব সিরাজ উদ দৌলা হলের সাধারণ সম্পাদক এবং কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সাধারণ সম্পাদককে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। শেরেবাংলা হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদধারী নিয়োগ পেয়েছিলেন মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে। এভাবে ছাত্রলীগ নেতা ও তাঁদের স্ত্রীরা পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছিলেন ছাত্রলীগ কোটায়।
অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৬ আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এই উপাচার্য ৫৪ জন শিক্ষক ও ১৪ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন। এসব নিয়োগের বেশির ভাগই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর দুই ছেলেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চাকরি করছেন। এর মধ্যে একজন নিয়োগ পান শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া যখন উপ-উপাচার্য ছিলেন। উপাচার্য হয়ে অন্য ছেলেকেও চাকরি দেন তিনি। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদে উপাচার্যের নিজ জেলা নরসিংদীর অন্তত সাতজনকে চাকরি দিয়েছেন তিনি। উপাচার্যের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় তুলনামূলক কম সিজিপিএধারী প্রার্থীরা নিয়োগ পেয়েছেন। সুশীল শিক্ষকের আড়ালে তাঁর স্বজনপ্রীতির নমুনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেকে।
শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম নজরে আসার পর শহীদুর রশীদ ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি।
শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া তৎকালীন পোস্ট-গ্রাজুয়েট স্টাডিজের ডিনের ছেলেকে এনিম্যাল নিউট্রিশন, জেনেটিকস ও ব্রিডিং বিভাগে কম সিজিপিএ থাকার পরও প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন। একইভাবে মেডিসিন ও পাবলিক হেলথ বিভাগে কম সিজিপিএধারী ছাত্রলীগের আশীর্বাদপুষ্ট একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকর্তা পদে চাকরি দিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। শহীদুর রশীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল ইউজিসি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই গত ৬ আগস্ট শিক্ষার্থীদের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
এর আগে ২০১২ সালের ২৬ জুলাই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক শাহাদাত উল্লাহ। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ১০ জনকে নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ২৯ জনকে। নিকটাত্মীয়দের নিয়োগ দিতে নিয়োগের নীতিমালা পরিবর্তন করেছিলেন তিনি। নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে নিজ শ্যালককে নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ওই উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অবশ্য এরই মধ্যে অধ্যাপক শাহাদাত উল্লাহ মারা গেছেন।
এসব অনিয়মের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অনিয়মের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ওই কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর সে আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএসএম / জামান

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিত ছাত্রদলের বিক্ষোভ

গকসু নির্বাচন: তিন দিনে মনোনয়ন ফরম ৮৭, উত্তেজনায় ভরপুর গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ অক্টোবর

দেশের স্বার্থেই কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু করতে হবে- ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন

সভায় বসেছে প্রকৌশলীদের দাবি নিয়ে গঠিত কমিটি

ইবিতে ইকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়নে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলছে

শিক্ষার্থীদের অধিকার ও রেজিস্টারের পদত্যাগের দাবিতে চবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ৷

সামুদ্রিক শৈবাল দিয়ে পুষ্টিকর স্যুপ উদ্ভাবন শেকৃবির গবেষকের

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

নজরুলকে নিয়ে যথাযথ গবেষণা হয়নি: কবির মৃত্যুদিবসে জাককানইবি ভিসি

হত্যাচেষ্টা মামলায় ডাকসু ভিপি প্রার্থী জালাল গ্রেপ্তার
