ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ
২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পৃথিবীর কোনো ভাষাই হারিয়ে যাবে না‘ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, গুইমারা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা দুর্গম সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নে স্থাপন করেছে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা শিখন কেন্দ্র, গুইমারা’। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান ভাষা শিখন কেন্দ্রটির চলমান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। এছাড়াও গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুল আমিন, গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দিন, গুইমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আলমসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা শিখন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী জানান, এই ভাষা শিখন কেন্দ্র মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা ভাষা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে। বর্তমানে উক্ত ভাষা শিখন কেন্দ্রে ৩০ জন মারমা ও ৩০ জন ত্রিপুরা ছাত্র-ছাত্রী তাদের নিজ ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করছে। সিন্দুকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাষা শিখন কেন্দ্রে আনন্দের সাথে নিজেদের ভাষা পড়তে ও লিখতে শিখছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ বর্তমানে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে শিক্ষার্থীদের মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করছেন। সরকার প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে (১ম-৩য় শ্রেণি পর্যন্ত) বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ করলে ও দক্ষ শিক্ষক না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় তাদের মাতৃভাষার লিখিত রূপ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।
গুইমারা উপজেলায় স্থাপিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা ভাষার লিখিত রূপ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে এবং বিলুপ্তপ্রায় ভাষাসমূহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ভাষা শিখন কেন্দ্রটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ৬ মাসব্যাপী কোর্স প্ল্যান ডিজাইন করা হয়েছে। মৌলিক ভাষা (লেখা ও পড়া) জ্ঞান সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের পর শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ করা হবে। চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত কল্পে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ভাষা শিখন কেন্দ্রটি দক্ষতার সাথে পরিচালনার নিমিত্তে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রধান শিক্ষক, সিন্দুকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ স্বাক্ষরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে ভাষা শিখন কেন্দ্রটির সকল ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি (সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ভাষা) সংরক্ষণে সরকারের এ শুভ উদ্যোগ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছে এবং সাধুবাদ জানিয়েছে। পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি রক্ষা ও পাহাড়ে চলমান অস্থিরতা কমাতে গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।
এমএসএম / জামান
কবিরহাট পৌরসভার প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী নূর জাহান গাজীর মৃত্যু
বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় এই সরকার, ভোলায় - প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় খুনের মামলার আসামি চারদিন পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
পরীক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনে একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে এনইউ'র চুক্তি
মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ, টুঙ্গিপাড়ায় দুই ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা
কুড়িগ্রামের চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১
গলাচিপায় স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ঋণের চেক বিতরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
গলাচিপায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
জিয়ানগরে আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস উদ্যাপিত
নেত্রকোণায় মহিলা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ,শিক্ষক ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন
চারঘাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করলো র্যাব-৫
আত্রাইয়ে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন