অভয়নগরে কিস্তির চাপে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পানিবন্দি মানুষ
'মাছ চাষ করার জন্য ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম, যার সাপ্তাহিক কিস্তি আসে ২ হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছি। সেখানে মাসিক কিস্তি ৬ হাজার টাকা। এ বছর মাছের ঘেরে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আশা করেছিলাম মাছ বিক্রি হবে তিন লাখ টাকার। কিন্তু জলাবন্ধতায় ঘের ডুবে সব মাছ বের হয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে আবার হাঁটুপানি। এর মাঝে এনজিওকর্মীরা কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিস্তির চাপে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’ কথাগুলো বলছিলেন অভয়নগর উপজেলার ডাঙ্গামশিয়াহাটি গ্রামের মৃত নগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে অচিন্ত মণ্ডল।
শুধু অচিন্ত মণ্ডল নন, এমন বিপাকে পড়েছেন ভবদহ অঞ্চলের পানিবন্দি সব ঋণগ্রহীতা। এমন অবস্থার মধ্যেও এনজিওকর্মীরা কিস্তির জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে সুন্দলী ইউনিয়নের সড়াডাঙ্গা গ্রামের অনুপম রায় বলেন, বাজারে একটি স্টেশনারি দোকান আছে। দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দোকানে মাল কেনার জন্য জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে কিস্তি বাবদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছি। টাকা না দিলে মাঠকর্মী বাড়ি থেকে যায় না। চলতি মাসের কিস্তির টাকা দেয়ার সময় হয়েছে, বারবার ফোন দিচ্ছে।
উপজেলার ধোপাদী গ্রামের আব্দুর রশিদ মোল্যা বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। ছেলের বিদেশে যাওয়া হয়নি, টাকা দালাল আত্মসাৎ করেছে। ক্ষেত-খামার ডুবে যাওয়ায় কোনো কাজ নেই। এ অবস্থায় এনজিও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। ভয়ে কিস্তির দিন স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাই।
আদদ্বীন ফাউন্ডেশনের মাঠকর্মী বিথীকা মণ্ডল বলেন, কিস্তি আদায়ের জন্য উপর থেকে চাপ আছে। তাই সমস্যা জেনেও ভবদহ এলাকায় কিস্তির জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে।
ব্র্যাকের মাঠকর্মী শাহিন আহমেদ বলেন, আমার এরিয়ার ভেতর অনেকে কিস্তির টাকা দিচ্ছে। তাই এলাকায় যাই। প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা না দেয়া পর্যন্ত কিস্তির টাকা আদায় করা হবে।
ঋণের টাকা আদায়ে চাপ দেয়ার বিষয়ে প্রগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা প্রশাসন থেকে ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের কোনো চিঠি পাইনি। এ কারণে আমরা কিস্তি আদায় করছি। কোনো গ্রাহককে চাপ দেয়া হচ্ছে না।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আমি ডিসি সাহেবকে কিস্তি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি। ডিসি সাহেব এখনো ব্যবস্থা নেননি। এনজিওগুলো কিস্তি আদায় বন্ধ না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, কোনো এনজিওকর্মী নির্দয়ভাবে কিস্তির টাকা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
T.A.S / জামান
সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও শাহাদাতে কারবালার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা
নানা আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
জয়পুরহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা
টাঙ্গাইল পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান
মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড
নেত্রকোণায় তিন উপজেলা ও তিন পৌর শাখার ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন
বাগেরহাটের মোল্লহাটে তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে কৃষক নিহত
অভয়নগরে প্রথম জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন
বিলাইছড়িতে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন ইউএনও মো. জাকির হোসেন
মোহনগঞ্জে পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন
শালিখায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত
মান্দায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত