দেশ জুড়ে জিনাত রেজওয়ানার আদম ব্যবসার ফাঁদ: সিলেট সহ সারাদেশে ৪৬ মামলা
জিনাত রেজওয়ানা। বসবাস করেন ঢাকার সেনানিবাসে। বাস্তবে তিনি একজন বিমানবালা। তবে দেশজুড়ে পরিচিত তিনি একজন আদম ব্যবসায়ী হিসাবে। বিগত সরকারের শাসন আমলে ছিলেন ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী অঘোষিত পিএস ছিলেন। নিজেকে পরিচয় দিতেন ¬¬আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় হিসেবে। বিমানবালার চাকরির সুবাধে শেখ হাসিনার দেশে বিদেশে যাতায়াতকালে ঘনিষ্টতা তৈরী করেফেলেন। সাবেক এমপি নিজাম হাজারির পিএস পরিচয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল সম্পদের পাহাড়। সিলেট সহ সারাদেশে রয়েছে তার আদম ব্যবসার নেটওয়ার্ক। পালাতক নিজাম হাজারির অর্থপাচার সহ সকল অবৈধ লেনদেন হতো জিনাতের মাধ্যমে। এখনো পলাতক এমপি নিজাম হাজারীর আমেরিকার সকল সম্পত্তি ও ব্যবসার মুল নিয়ন্ত্রক জিনাত রেজওয়ানা।
সম্প্রতি বছর থেকে সিলেটে কেয়ার ভিসায় ইউরোপে এবং ভিজিট ভিসায় কানাডায় যাওয়ার প্রবতা বৃদ্ধি পায়। সেই সুবাদে প্রবাসী আধ্যুসিত সিলেটে অঞ্চলে জিনাত গড়ে তুলেন নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট। এই ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন সিলেটের অনেক ট্রাভেলস ব্যবসায়ী সহ স্থানীয় দালালরা।
প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন মানুষকে বৃটেনে ও কানাডায় পাঠানোর জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জিনাত রিজওয়ানাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত বছরের ৫ই আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর তারা আর জিনাত রিজওয়ানাকে খোঁজে পাচ্ছেন না। ফলে বিপাকে পড়েছেন তারা।
ইতিমধ্যে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানায় দায়েরকৃত জিআর-২৭১/২০২৪ নং মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হলেও তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। গ্রেফতারী পরোয়ানাটি এখন রাজধানী ঢাকার ভাসানটেক থানায় রয়েছে। কারণ তিনি বসবাস করেন সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত এলাকায়।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে বিদেশ নেয়ার নামে প্রতারণা করে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় এজহার দাখিল করেছেন প্রতারণার শিকার বিশ্বনাথ উপজেলার সোহেল মিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জিনাত রিজওয়ানা তৎকালিন প্রভাবশালী এমপি নিজাম হাজারীর প্রভাব খাটিয়ে সারাদেশে গড়ে তুলেছিলেন আদম ব্যবসার আড়ালে এক ভংঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ। এই ফাঁদে পড়ে নিঃশ্ব হয়েছেন বিদেশগামী থেকে শুরু করে ট্রাভেলস এজেন্সীর মালিকগণ। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে রিজওয়ানার অফিস। তালাবদ্ধ অফিসে লোকজনও নেই। তাই জিনাত রেজওয়ানার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না প্রতারিতরা। এমনকি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মতো সংরক্ষিত এলাকায় তার বাসা হওয়ায় তার সাথে দেখাও করতে পারছেন না সাধারণ ভূক্তভোগিরা।
জিনাতের প্রতারনার তালিকায় রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক সিলেটী। ইতিমধ্যে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা জনৈক ব্যাক্তি বিদেশ যাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও সিলেটের অন্তত ১৫/১৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা সকলেই এখন নিরোপায় হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বছরের ১৪ নভেম্বর ৯ কোটি ২ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে এক ভূক্তভোগী ফেনী সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় জিনাত রিজওয়ানা কে ১নং আসামী এবং ফেনী সদর আসনের পলাতক এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারী, হাজারীর খালাতো ভাই আব্দুল আওয়াল সবুজ এবং জাপার সাবেক পলাতক এমপি আহসান আদেলুর রহমান এমপি সহ আরও কয়েকজনকে আসামী করা হয়। উক্ত মামলায় নিজাম হাজারী ও জিনাতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, কিডন্যাপ ও টাকা আত্মসাৎ, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। জামিন অযোগ্য মামলায় আদালত থেকে সুকৌশলে জামিন নিয়ে বর্তমানে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসা আত্মগোপন করে আছেন জিনাত।
খোঁজ নিয়ে যানা যায়, জিনাত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নং-১৬/এ, ফ্ল্যাট ৬/সি, রোড ২-এ, বাসায় আত্মগোপনে আছেন। রিজওয়ানার সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে এখন প্রতারণার শিকার অনেকই বাধ্য হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মামলা দায়ের করছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ৪৬ টি মামলা চলমান রয়েছে, এমনকি অনেক মামলায় ইতিমধ্যে তিনি গোপনে জামিনও নিয়েছেন। আবার অনেক মামলায় আদালত জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানার জারি করেছে। ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জিনাত রিজওয়ানার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অনেককে তিনি ধর্ষণের চেষ্টার মামলা দিয়ে হয়রানীও করেছেন। এমনকি একজন ভূক্তভোগী টাকা চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে জিনাত রিজওয়ান ধর্ষনের শিকার হয়েছেন বলে মামলাও করেন। এমন মিথ্যা অভিযোগেও মিথ্যা মামলা টাকা পাওনাধারকে জেল খাটানোর অসংখ্য তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখনও কেউ পাওনা টাকার জন্য তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ধর্ষন মামলা দিয় হয়রানীর ভয় দেখান। চতুর জিনাত রিজওয়ানা আর্থিক স্বচ্ছল ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কৌশলে প্রথমে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক তৈরি করেন। ব্যবসার সূত্র ধরে জড়িয়ে পড়েন অনৈতিক সম্পর্কে। এরপর ধনকুবেরদেরকে ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে গোপনে সেই ভিডিও ধারণ করেন। এরপর শুরু হয় তার ব্ল্যাকমেইল। সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে অনেকই মুখ বন্ধ রেখে তার দাবি মতো টাকা পয়সা সহ নিজের ব্যবসা পর্যন্ত তাকে দিয়ে দিতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ। বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকির অভিযোগে জোন-৯, সার্কেল ১৮১ জিনাতের উপর কোটি টাকা আয়কর ধার্য করে। কিন্তু তিনি সেই করও সুকৌশলে ফাঁকি দিয়েছেন।
এদিকে ফেনীর সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর ভাইয়ের নির্মাণাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিনাতের বিপুল পরিমানে বিনিয়োগ রয়েছে। যা জিনাত রেজওয়ানার আয়কর নথিতে গোপন রাখে। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদেরকে জিনাত রিজওয়ানার মাধ্যমে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে গোপনে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও ধারণ করে তাকে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতেন। এমনকি নিজাম হাজারীর নামে যে সকল চাঁদা উঠত তার একটি বড় অংশ যেত রিজওয়ানার একাউন্টে। প্রায় সময় তিনি বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্সের মাধ্যমে রিজওয়ানার ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দিয়ে এই একাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন।
জিনাত রিজওয়নার প্রতারণার অন্যতম হাতিয়ার ছিল আদম ব্যবসা। তিনি প্রবাসী আধ্যুসিত এলাকা বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজে এবং এজেন্ট নিয়োগ করে মানুষকে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, পর্তুগাল সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নাম করে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এমনকি কোন কোন এজেন্টের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকার কর্তৃক অবৈধ ভাবে বিদেশে পাচারের মাধ্যমে সম্পদ এর খোঁজ খবর নিতে দেখে চতুর জিনাত রিজওয়ান অবৈধভাবে পাচার করা টাকায় আমেরিকার ক্রয়কৃত বাড়ি গত ২৩শে ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিক্রয় করে দেয়।
জিনাতের আয়ের উৎস কি? আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ৫ হাজার টাকা বেতন জিএমজি এরয়ারলাইনস এ চাকরি করতেন জিনাত রিজওয়ানা, এখন দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক, ঢাকা পূর্বাচলে ১০ কাটার প্লট, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে তিন হাজার বিঘার ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লট, আমেরিকায় একাধিক বাড়ি, সন্তান আমেরিকায় পড়ালেখা করাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ট সূত্রমতে, চতুর জিনাত রিজওয়ানা, তার শশুর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ছিদ্দিকুর রহমানের দুটি সিএসডি প্রতিষ্ঠান সুকৌশলে দখল করে নেন। এরপর শশুরের নামে ত্রিশটির অধিক মামলা করে তাকে দেশ ছাড়া করেন। তার শশুর বিগত ৫ই অগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার চেকের প্রতারণার মামালা দায়ের করেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রতারণার শিকার অন্তত ৭/৮ জন ভূক্তভোগীরা। প্রতারণার শিকার পাবেল আহমদ বলেন, আমি আমার কয়েকজন আত্মীয় স্বজনের বৃটেনে কেয়ার ভিসার যাওয়ার জন্য কস ইস্যু বাবত টাকা দিয়েছি। টাকার বিপরীতে তিনি আমাকে একটি চেকও দিয়েছেন। কস ইস্যু হয়নি, এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। ফলে আমি এখন বিপদে পড়েছি। প্রতারিত ইমরান আহমদ বলেন, আমার ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে লন্ডনের কস ইস্যুর জন্য এবং কানাডার ইনভাইটেশন দিয়ে ভিজিট ভিসার জন্য তাকে টাকা দিয়েছিলাম। তিনি টাকার বিপরিতে আমাকে চেকও দিয়েছিলেন। এখন তিনি কোন যাত্রীরই কস ও ইনভাইটেশন ইস্যু করে দেন নি। যাত্রীরা আমাকে চাপ দিচ্ছেন। এখন তার বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে জিনাত রিজওয়ানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এমএসএম / এমএসএম
কাশিয়ানীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৭
নান্দনিক রূপে নজর কাড়ছে ভিক্টোরিয়া কলেজের ‘স্বাধীনতা সৌধ’
জাতীয় হকি তারকা মিন্টু ও শামীম স্মরণে শোক র্যালি
রামপালে ইতু হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই সহোদরসহ গ্রেপ্তার ৩, রিমান্ড আবেদন
দেবীগঞ্জে হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনকে ২২শ তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার
টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি-যুবদলের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল
নেছারাবাদে নতুন ইউএনও আশিক আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রথম মতবিনিময়
রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন আব্দুস সবুর
কুড়িগ্রামে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রতন পোদ্দার গ্রেপ্তার
"রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)" পাচ্ছেন ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের এএসআই ইকলাচুর রহমান
অভয়নগরে বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণ
শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম, পণ্য খালাসে জটিলতার আশঙ্কা