রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা জালিয়াতিতে প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ এক অধ্যাপকের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে গবেষণা প্রবন্ধ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনে বিলম্ব ও প্রশাসনের নিবর ভূমিকার অভিযোগ করেছেন তাঁরই এক সহকর্মী। গতকাল সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম।
এর আগেও গত বছরের ২৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আটটি গবেষণা প্রকাশনার সবকটিতেই জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন অধ্যাপক মোর্শেদুল। আজ এ বিষয়ে তিনি প্লেজারিজম চেকসংক্রান্ত প্রমাণপত্র দেখান।
অধ্যাপক সাহাল আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে প্রেষণে কর্মরত আছেন এবং গত বছরের ১৭ নভেম্বর ওই বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি আইন বিভাগে অধ্যাপনা করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি অধ্যাপক মো. সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। তিনি সহকারী অধ্যাপক থাকাকালে তিনটি গবেষণা প্রকাশনা উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে দুটি প্রকাশনাতেই জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। একটি প্রকাশনায় ৫৬% এবং অপরটিতে ৮৫% জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে—যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী গবেষণার গুণমান ও সততার পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন সহকারী অধ্যাপক ও পরে অধ্যাপক পদে যেভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন, তা সম্পূর্ণভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত। সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সময় তিনি যে তিনটি গবেষণা প্রকাশ করেন, তার মধ্যে দুটি প্রকাশনায় যথাক্রমে ৫৬% ও ৮৫% প্লেজারিজমের প্রমাণ পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সময় তিনি ছয়টি গবেষণা প্রকাশ করেন, যার প্রতিটিতেই জালিয়াতি রয়েছে। এসব প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লেজারিজম চেকিংয়ের পেইড সফটওয়্যারে বারবার যাচাই করে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর বিষয়টি ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা আমলে না নিয়ে উল্টো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিভাগের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়, যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারের ৬১, ৬২, ৬৩ ও ৬৪ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।
অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীন দেশে এই ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকলে তাঁদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। জালিয়াতির বিষয়ে ভিসি স্যার বলেছেন 'এটা নমিনাল কেজ'। প্রকাশনা জালিয়াতি যদি তুচ্ছ বিষয় হয় তাহলে কেন প্রতিটা বিভাগে প্রথম বর্ষ থেকেই গবেষণা করানো হয়?আমি আমার নৈতিকতা জায়গা থেকে এই প্রতিবাদ করছি। একজন শিক্ষক যদি গবেষণা জালিয়াতি করে শিক্ষা দিতে আসেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে ছুরি, জালিয়াতি ছাড়া কী শিখবে?
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটি এখনো কাজ করছে। খুব দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে। আর নমিনাল কেজের বিষয়টি অসত্য। এ রকম কথা তিনি বলেননি।
এমএসএম / এমএসএম
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিত বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিউচার রেডি ফার্মাসিস্ট’ শীর্ষক সেমিনার
গবির মাইক্রোবায়োলজি শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি পরিদর্শন
নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে কুবি ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল
গবিসাস ও ব্লাড কালেক্টরসের সৌজন্য সাক্ষাৎ, সহযোগিতার প্রত্যয়
বিশ্বকাপে ঢাবিতে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
ইউট্যাব ও জিয়া পরিষদের আয়োজনে পবিপ্রবি ও ববি উপাচার্যকে সংবর্ধনা
দুধ থেকে স্বপ্নের স্বাদ: ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের এক মিষ্টিময় পাঠশালা
কুবির ৬ কর্মচারীর শাস্তিকে অবৈধ ঘোষণা আদালতের
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুসভার ৩০০ গাছ রোপণ
পবিপ্রবির সৃজনী বিদ্যানিকেতনে দায়িত্ব হস্তান্তর, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে সংবর্ধনা