ঢাকা মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা: উৎপাদিত সরিষায় জেলার শতকরা ৭০ ভাগ ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ হবে


দেবাশীষ সাহা রায়, শেরপুর photo দেবাশীষ সাহা রায়, শেরপুর
প্রকাশিত: ১৮-১-২০২৬ দুপুর ১:৫৯

চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। শেরপুরের কৃষকেরা সরিষা আবাদ করে লাভবান হওয়ায় এই ফসল আবাদের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। শেরপুরের সদর, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার কৃষিজমি সরিষা আবাদে অত্যন্ত উপযোগী বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। অপরদিকে সরিষা আবাদে বাড়তি যোগ হয়েছে মৌচাষ। ফলে একদিকে মৌমাছির মাধ্যমে সরিষা ফুলের পরাগায়নের সহায়তায় সরিষার উৎপাদন বাড়ছে। অপরদিকে মৌচাষিরাও মধু সংগ্রহ করে বাড়তি আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। ফলে সমন্বিত চাষে লাভবান হচ্ছেন সরিষা চাষি ও মৌচাষিগণ। বাড়ছে সমন্বিত চাষ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ২৬৪ হেক্টর জমিতে সরিষা
আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে এবার সরিষার আবাদ হয়েছে।  ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি লাভজনক ফসল। সরিষা চাষের ফলে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে রোপা আমন ও বোরো ধানের মাঝে একটি বাড়তি ফসল ফলিয়ে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। তাছাড়া একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়। উর্বরতা শক্তি বাড়াতেই সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়। স্থানীয় কৃষকরাও উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের সরিষা চাষ করেন। ফসল ঘরে উঠাতে সময় লাগে মাত্র ৭০ থেকে ৯০ দিন। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় উচ্চ ফলনশীল জাতের টরি-৭, বারি সরিষা- ৯, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭’র চাষ বেশি হয়েছে। এ বছর ২৯ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য ২০৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যে সরিষা উৎপাদন হবে তা দিয়ে জেলায় শতকরা ৭০ ভাগ ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ হবে। ইতোপূর্বে কৃষকরা ধারণা করতেন, ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করলে সরিষার ক্ষতি হয়। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শে ভুল ধারণা ভেঙ্গে গেছে। ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপনে সরিষার উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি
পায়। তাই চাষিরা মৌচাষিদের বাক্স স্থাপনে সহযোগিতা করছেন। শেরপুরের নকলা উপজেলার চরবাছুর আলগা গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, চন্দ্রকোনা, নারায়ণখোলাসহ চরাঞ্চলের জমি সরিষার স্বর্গভূমি। সরিষার মৌসুমে সাতক্ষীরা ও খুলনার মৌচাষিরা শেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসে মধু সংগ্রহ করেন। শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের লক্ষিডাংগী গ্রামে মৌবাক্স বসিয়েছেন সাতক্ষীরা শ্যামনগরের ছাইফুল ইসলাম। এ মৌসুমে তিনি ২০০টি বাক্সে মৌচাষ করছেন। গত বছর তার আয় হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। এবারও তেমনি আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগিনীবাগ গ্রামের চাষি রুবেল মিয়া জানান, মাঠে সরিষা কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। জাত ভেদে সরিষা চাষে বিঘায় খরচ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। ফলন হবে ৫ থেকে ৭ মণ। মণ প্রতি সরিষার বাজারদর ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বিঘায় লাভ হবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে জেলায় সরিষার আবাদ বেড়েছে। আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ২৬৪ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ, কৃষি প্রণোদনার আওতায় জেলার প্রায় ৫০ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ প্রদান করা হয়েছে। মৌমাছি সরিষার ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে সরিষা ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। ক্ষেতের পাশেই মৌচাষের বাক্স স্থাপনের ফলে সরিষার ফলনও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

এমএসএম / এমএসএম

এসিল্যান্ডের সাথে সাটুরিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা

হাটহাজারীতে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

জনগন বিএনপির সঙ্গেই আছে : আমানউল্লাহ আমান

সান্তাহারে র‌্যাবের অভিযানে ১শ বোতল ফেয়ারডিলসহ দুই নারী আটক

মধুখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দাগনভূঞায় ভাষা শহীদ সালাম কলেজে বায়োমেট্রিক হাজিরার শুভ উদ্বোধন

শতাব্দী বাঁধন ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে ২৫০ শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়

রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত

মিরসরাইয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় অনুমোদনহীন ভবন ভাঙার কাজ শুরু

রৌমারীতে বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী পালিত

সিংড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত