সাতকানিয়া-টপসয়েল কেটে বড় করা হচ্ছে সড়ক,কৃষকদের দেয়া হয়নি ক্ষতিপূরণ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে সড়ক প্রশস্তকরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের খরচ কমানোর জন্য সহজলভ্য টপসয়েল ব্যবহার করা হয়। এতে একদিকে যেমন প্রকল্প ব্যয় কমানো যাচ্ছে, অন্যদিকে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেউ নিতে রাজি না। তবে এলজিইডির দাবি, সড়কের উভয় পাশে কৃষি ও অনুর্বর জমি রয়েছে। সেখান থেকে সীমিত পরিসরে মাটি কেটে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ’ (সিডিডব্লিউএসপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সড়কটির ব্যাপ্তি সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথার এলাকা পর্যন্ত। ওই সময় ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৭ টাকার কাজটি পায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গোহোষপাড়ার আর কে রোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরা। ২০২৫ সালের জুন মাসে কাজটি শুরু করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় তিন মাস পর সড়কের কাজ শুরু করে।
উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট। বর্তমানে সেটিকে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। এতে সড়কের উভয় পাশে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ওই কৃষিজমিগুলোতে প্রায় ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত গর্ত তৈরি হয়েছে। তাই অনেক কৃষক চলতি মৌসুমে মাটি কেটে নেওয়া অংশটি বাদ দিয়ে চাষাবাদ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান গনি বলেন, সড়কের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহারের ফলে প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা কমবে। কিন্তু এক ইঞ্চি টপসয়েল তৈরি হতে দীর্ঘ বছর সময় লাগে। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দায় তো কেউ নিতে রাজি না। দিনশেষে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ঢেমশা ইউনিয়নের নাপিতের চর এলাকার কৃষক নুরুল আমিন বলেন, সড়কের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির কিছু অংশ থেকে মাটি কেটে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সেই অংশতে অনেক কৃষক চাষাবাদ করতে পারেননি। সড়কের উভয় পাশে কিন্তু অনেক অকৃষিজমি রয়েছে। সেখান থেকে অথবা বাইরে থেকে মাটি এনে ব্যবহার করলে কৃষকরা উপকৃত হতেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরার স্বত্বাধিকারী ফাগুন বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা এই প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করছি। এখানে কোনো লুকোচুরির প্রশ্নই আসে না। আপনারা চাইলে এ বিষয়ে এলজিইডি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টপসয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর। এটি কেটে ফেললে জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। তবে আমরা যতটুকু জানি সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সীমিত পরিসরে মাটি কাটা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কৃষক এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কর্মকর্তা সবুজ কুমার দে বলেন, সড়কটি ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। তাই পার্শ্ববর্তী কৃষি ও অনুর্বর জমি থেকে সীমিত পরিসরে মাটি কাটা হচ্ছে। এটি কিন্তু প্রকল্পে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই।
এমএসএম / এমএসএম
ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১ : আহত-২
রায়গঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুলাল হোসেন খানের মতবিনিময়
ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
ভাড়াটে বাহিনী নিয়ে জমি দখল করে রোপণের চেষ্টা, পুলিশ দেখে দৌড়
বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার প্রতিবাদে গজারিয়ায় সংবাদ সম্মেলন
উপজেলা পর্যায়ের গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কারের টাকা কার পকেটে?
উলিপুরে সিএনজিতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা রেখে পালিয়ে গেলো মাদক ব্যবসায়ী
যশোরে প্রতিমন্ত্রী অমিতের ব্যস্ত দিন প্রশাসনিক বৈঠক, প্রকল্প পরিদর্শন ও সহায়তা বিতরণ
বিচারক সংকটে অচল বান্দরবানের দেওয়ানি আদালত, ভোগান্তিতে হাজারো বিচারপ্রার্থী
নেত্রকোণার মদনে ৩৪০গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক
সাতকানিয়া-টপসয়েল কেটে বড় করা হচ্ছে সড়ক,কৃষকদের দেয়া হয়নি ক্ষতিপূরণ
মধুখালী বেঙ্গল ক্লাবের আয়োজনে মাসুদ উল হোসেন পলাশের স্মরণে দোয়া ও শোক সভা