ব্রান্ড প্রমোটার আহানা ইয়েলিন অর্পি সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়
একজন পেশাদার ব্রান্ড প্রমোটার আহানা ইয়েলিন অর্পি। তিনি দৈনিক সকালের সময়ের সাথে আলাপকালে নিজের কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন- আমাদের সমাজ নারীদের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধে বন্দী করে রেখেছে। এই বন্ধন সকল নারীর জন্য কল্যাণের নয়। যে পাখি খাঁচায় বন্দী তাকেও মাঝে মাঝে পরীক্ষামূলক মুক্ত করা হয়। যদি সেই পাখি হারিয়ে যায় তবে সে অতি স্বাধীন। অতিস্বাধীনতা যেমন মাঝে মাঝে অকল্যাণকর হতে পারে, তেমনি অতি বন্দীদশা কোন প্রাণীর জন্য হিতকর নয়। এক কথায়, আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থা নারী স্বাধীননতার অনুকূলে নয়।
আহানা ইয়েলিন অর্পি বলেছেন, "নারীরা সব অর্জন করতে পারে, তার কোনো সীমা নেই" (There is no limit to what we, as women, can accomplish)। আত্মশক্তিতে বলীয়ান নারী ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর: তিনি বিশ্বাস করেন, নারী শুধু ঘর সাজায় না, সে ভবিষ্যৎ গড়ে। ব্রান্ড প্রমোটার ইয়েলিন অর্পি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশই তার নারীদের সম্ভাবনাকে দমন করে প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারে না। নারীরা জাতীয় উন্নয়নের সহযাত্রী। সফলতার সংজ্ঞা সম্পর্কে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিজের পথ নিজেই তৈরি করা এবং সাহসের সাথে এগিয়ে যাওয়াই আসল সাফল্য। অর্পি নিজে একজন, ব্রান্ড প্রমোটার পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে নারীর সক্ষমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়।
নারীর সাফল্যের পথে প্রধান বাধা হলো পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, লিঙ্গবৈষম্য, এবং বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক বিধিনিষেধ। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, মাতৃত্বকালীন দায়িত্বের অসম বণ্টন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। লিঙ্গবৈষম্য সমাজে এখনও মনে করা হয় নারীদের মূল কাজ ঘরের কাজ সামলানো। এই বদ্ধমূল ধারণা নারীদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বড় বাধা। গ্রামাঞ্চল সহ অনেক এলাকায় এখনও মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে তাদের পড়াশোনা ও স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে যায়। রাস্তাঘাটে বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের ইভটিজিং, যৌন হয়রানি ও নিরাপত্তার অভাব তাদের অবাধ চলাচল ও কাজে মনোযোগকে ব্যাহত করে।
ঘরের যাবতীয় কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব একা নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে তারা পুরুষদের মতো সমান সময় ও মনোযোগ দিতে পারেন না।পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের মতামতকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নারীদের নিজ নামে সম্পত্তির মালিকানা বা উত্তরাধিকার না থাকা এবং সহজ শর্তে ঋণের অভাব তাদের উদ্যোক্তা বা স্বাবলম্বী হতে বাধা দেয়। অনেক কর্মক্ষেত্রে একই পদে কাজ করার পরও নারীদের পুরুষদের চেয়ে কম বেতন বা মজুরি দেওয়া হয়। ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের যেভাবে বড় করা হয়, তাতে তাদের মধ্যে একধরনের আত্মবিশ্বাসের অভাব কাজ করে। সমাজ কী বলবে বা মানুষ কী ভাববে—এই ভয় তাদের অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেয়।
বর্তমান সময়ে আমি ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে পেশাগতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই পেশার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছি, যা আমার যোগাযোগ দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্র্যান্ড প্রমোশনের এই পথচলায় প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ ও শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি কাজ আমাকে আরও দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং লক্ষ্যভিত্তিক করে তুলছে। আমি বিশ্বাস করি, এই অভিজ্ঞতাই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও সুসংহত করবে।
আমার লক্ষ্য শুধু একজন সফল প্রমোটার হওয়া নয়, বরং একদিন নিজের নামে একটি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট আছি। সম্মান, সততা এবং পরিশ্রম—এই তিনটি মূলনীতিকে ধারণ করে আমি আমার ক্যারিয়ারকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
এমএসএম / এমএসএম
মাতৃত্ব কোনো লুকোচুরির বিষয় নয়ঃ অপু বিশ্বাস
দিশা পাটানির হলিউডে অভিষেক
ইউরোভিশন এশিয়ায় বাংলাদেশের যাত্রা শুরু, জাতীয় পর্যায়ে শিল্পী খুঁজছে বঙ্গ
বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে পারফর্ম করবেন নোরা ফাতেহি
সৌদি আরব গেলে আরও ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিনব : মারিয়া মিম
তারকামুখর সন্ধ্যায় বাইফার ৫ম আসর অনুষ্ঠিত
‘মেগা এপিসোড’ দিয়ে শেষ হলো ‘এটা আমাদেরই গল্প’
অশালীন গান নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন নোরা ফাতেহি
প্রথম ভালোবাসা নিয়ে ভাইরাল হতে চাই না : মিথিলা
লুই ভিতোঁর স্টাইলে ফ্যাশন আইকন জেন্ডায়া
‘কাকের’ প্রেমে পড়েছেন ভাবনা
ব্যস্ত সময় পার করছেন সঙ্গীতশিল্পী ফরহাদ হুসাইন