জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত আজকের এই প্রেস ব্রিফিং-এ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্হ্য বিষায়ক বিশেষ সহকারী,সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ জাহিদ রায়হান সহ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ,ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ,বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের এক আলোচনা মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাষ চন্দ্র বিশ্বাস স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। একই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে যেসব শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। প্রতিটি শিশুর জীবন আমাদের কাছে অমূল্য, এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত স্বল্প সময়ে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন সরকারের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড.জিয়াউদ্দিন হায়দার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশের ১৮টি জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী প্রতিটি এলাকায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা যায়।
DHIS২-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ইতোমধ্যে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।আমরা জানি, হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। সে কারণে আমরা আশাবাদী যে, শীঘ্রই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে। আমি সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, এমনকি যারা নিয়মিত ইপিআই-এর আওতায় দুই ডোজ হাম রুবেলা টিকা পেয়েছে, তারাও যেন এই ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম রুবেলা টিকা গ্রহণ করে।
তবে ক্যাম্পেইনের সময় আমরা লক্ষ্য করেছি যে, নির্ধারিত বয়সসীমার অনেক শিশু এখনও টিকাদানের আওতার বাইরে রয়েছে। আপনারা জানেন, হাম নির্মূল ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই লক্ষ্যে আমরা RCM অ্যাপের মাধ্যমে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশব্যাপী পোস্টার, লিফলেট, ইনফোগ্রাফিক, উদ্বুদ্ধমূলক ভিডিও বার্তা, টক শো এবং টেলিভিশন স্ক্রলিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও, বিশেষ সান্ধ্যকালীন টিকাদান সেশন, শুক্রবারভিত্তিক বিশেষ সেশন এবং সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য মোবাইল টিকাদান টিম গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে প্রদেয় হাম-রুবেলা টিকা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল টিকার সরবরাহ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইউনিসেফের সহায়তায় ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ জীবনরক্ষাকারী ভ্যাব সিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মে মাস থেকেই বড় পরিসরে এই ভ্যাকসিন দেশে আসা শুরু হয়েছে। গত ৩ মে থেকে এ পর্যন্ত দেশে পৌঁছেছে-বিসিজি ভ্যাকসিন- ২ লাখ ৭৪ হাজার ভায়াল
ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV)- ১ লাখ ৪০ হাজার ভায়াল,
হাম-রুবেলা (MR) ভ্যাকসিন- ৬ লাখ ৪৫ হাজার ভায়াল
আইপিভি (IPV)- ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৬ ভায়াল
পেনটা (Penta)- ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪৫০ ভায়াল
টিডি (Td) ভ্যাকসিন- ৩ লাখ ৫ হাজার ভায়াল
বর্তমানে টাইফয়েড ও জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন এই সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে আগামী দেশে কোনো ধরনের ভ্যাকসিন সংকট থাকবে না বলে আমরা আশাবাদী। ধারাবাহিকভাবে চলতি মাসজুড়ে আরও ভ্যাকসিন আমাদের সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবে, যা জাতীয় টিকাদান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন দেশে আনা পূর্বে কখনো সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় সরবচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারনেই এটি সম্ভব হয়েছে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সরকার নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ও হাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আমরা দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অবশ্যই হাম নিয়ন্ত্রণে সফল হবো বলে আশ্বস্ত করেন।
এমএসএম / এমএসএম
ডিএমপির নতুন কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স
কাগজে ‘পরিত্যক্ত’, বাস্তবে রমরমা বাণিজ্য: ডিএনসিসি’র ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে অবৈধ কমিটির রাজত্ব ও নির্বাচন
বিশ্ব মা দিবসে মহীয়সী মা’দের সম্মাননা দিলো উত্তরা ১২ নং সেক্টর সোসাইটি
মিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৪ জন গ্রেফতার
কর্মগুণে উত্তরাবাসীর আস্থার প্রতীক: যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম
ডিইউজের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সভা, সমবায় পুনর্গঠনের দাবি
ডেমরায় শিপু মেকওভার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর শুভ উদ্বোধন
মিরপুর জাগৃক অফিসের তিনজন অফিস সহকারীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে নেপাল ভ্রমণ
খাজা ওসমান ফারুকীর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘সুফিনামা’ ও কাব্যগ্রন্থ ‘অস্তিত্বের আদিম সুর’-এর মোড়ক উন্মোচন
খিলগাঁওয়ে উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা: ফ্রি মিটআপে নেটওয়ার্কিং ও প্রোডাক্ট ডিসপ্লের সুযোগ
একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালন ধর্ম ও বিজ্ঞান বিরোধী : বাইতুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক