সুইডেনের 'ইউনিভার্সিটি অব গাভলে' সফরে ইবি প্রতিনিধি দল
ফিনল্যান্ড ও সুইডেনে চলমান একাডেমিক ও গবেষণা সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ২০২৬ সালের ৪ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গাভলে সফর করছে। আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্লোবাল সাউথ ও গ্লোবাল নর্থের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্থবহ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত RESHAPE প্রকল্পের আওতায় এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সফরের প্রথম দিন, ৪ জুন ২০২৬ তারিখে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ইউনিভার্সিটি অব গাভলে আয়োজিত একাধিক একাডেমিক সভা, উপস্থাপনা এবং আন্তঃক্রিয়ামূলক সেশনে অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচির শুরুতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে বিশেষভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষাগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মুতিনুর রহমান বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং RESHAPE প্রকল্পের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একাডেমিক বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষণ-পদ্ধতিতে উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথ ও গ্লোবাল নর্থের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন, শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততা এবং টেকসই একাডেমিক অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সফরকালে উপাচার্য ইউনিভার্সিটি অব গাভলের সমাজকর্ম অনুষদের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সমাজকর্ম, টেকসই উন্নয়ন, প্ল্যানেটারি হেলথ, তরুণদের কল্যাণ, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো গুরুত্ব পায়।
উপাচার্য RESHAPE প্রকল্পের সমন্বয়কারী ইউনিভার্সিটি অব গাভলের অধ্যাপক ড. মার্ক হোল্টার এবং অধ্যাপক ড. পাইভি তুরুনেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে তাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়। বৈঠকে RESHAPE প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে একাডেমিক সহযোগিতা অব্যাহত ও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান RESHAPE প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরেন এবং প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি গ্লোবাল সাউথ ও গ্লোবাল নর্থের বর্তমান একাডেমিক ও গবেষণা প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি সহযোগিতামূলক গবেষণা নেটওয়ার্ক গঠন, শিক্ষণ-শেখন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং সমসাময়িক সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকল্পটির ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কাঠামো, একাডেমিক কর্মসূচি, গবেষণার অগ্রাধিকার এবং জাতীয় উচ্চশিক্ষায় এর অবদান তুলে ধরা হয়। সেশনে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এসব শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন কীভাবে প্ল্যানেটারি হেলথ, পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক কল্যাণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। তার উপস্থাপনায় টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থাপনাগুলোর পাশাপাশি প্রতিনিধি দল সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষণ-পদ্ধতি, শেখার কৌশল এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন আন্তঃক্রিয়ামূলক সেশনে অংশগ্রহণ করে। এসব সেশন থেকে তারা শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা, অংশগ্রহণমূলক শিক্ষণ, আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা এবং শ্রেণিকক্ষে গবেষণার সমন্বয় সম্পর্কে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। একই সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব গাভলের সমাজকর্মবিষয়ক চলমান গবেষণা এবং তা কীভাবে টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কল্যাণে অবদান রাখতে পারে সে সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেন।
ইউনিভার্সিটি অব গাভলের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. স্টেফান শোবের্গ সমাজকর্ম অনুষদের বর্তমান গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। তিনি বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্র, চলমান একাডেমিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন, প্ল্যানেটারি ওয়েলবিয়িং এবং গ্লোবাল সাউথ ও গ্লোবাল নর্থের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য একাডেমিক ও গবেষণা সুবিধা অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেমিনার, গবেষণা উপস্থাপনা, শিক্ষণ-পদ্ধতি বিষয়ক সেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিধি দল সুইডেনের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, ডক্টরাল শিক্ষা এবং আন্তঃবিষয়ক গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষণ-পদ্ধতির উন্নয়ন, গবেষণা সংস্কৃতি শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক গঠন এবং যৌথ প্রকাশনা, গবেষণা প্রকল্প, শিক্ষক বিনিময় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন, ৫ জুন ২০২৬ তারিখে, উপাচার্য ও তার প্রতিনিধি দল ইউনিভার্সিটি অব গাভলের ফ্যাকাল্টি অব হেলথ অ্যান্ড অকুপেশনাল স্টাডিজে পিএইচডি গবেষক এলভি চ্যাংয়ের উন্মুক্ত পিএইচডি থিসিস ডিফেন্সে অংশগ্রহণ করেন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী এ ডিফেন্সে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণা অভিসন্দর্ভটির শিরোনাম ছিল “A Call for Ecosocial Work: Local Opportunities for Promoting Youth Well-being”। এতে ইকোসোশ্যাল ওয়ার্ক, তরুণদের কল্যাণ, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সুযোগ-সুবিধা এবং সমাজকর্ম, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিনিধি দল সুইডেনের ডক্টরাল গবেষণা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, মানদণ্ড এবং গবেষণা সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করে।
ডিফেন্স শেষে উপাচার্য ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সমাজকর্মবিষয়ক অধ্যাপক ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ভবিষ্যৎ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। যৌথ গবেষণা, শিক্ষক বিনিময়, গবেষণা প্রকাশনা, ডক্টরাল তত্ত্বাবধান, গবেষণা সেমিনার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব গাভলে সফরটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউরোপীয় অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থাপনা, একাডেমিক সংলাপ, গবেষণা আলোচনা, শিক্ষণ-পদ্ধতিবিষয়ক সেশন এবং ডক্টরাল পর্যায়ের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে RESHAPE প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফর শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল আন্তরিক আতিথেয়তা, একাডেমিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতির জন্য ইউনিভার্সিটি অব গাভলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। উভয় প্রতিষ্ঠান গবেষণা, শিক্ষা, সমাজকর্ম, প্ল্যানেটারি ওয়েলবিয়িং এবং উচ্চশিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
এমএসএম / এমএসএম
সুইডেনের 'ইউনিভার্সিটি অব গাভলে' সফরে ইবি প্রতিনিধি দল
শেকৃবিতে সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিযোগ প্রক্টর ও ট্রেজারারের বিরুদ্ধে
পাবলিক বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে বিতর্ক কতটুকু যৌক্তিক?
টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে ৭ জুন খুলছে স্কুল-কলেজ
ন্যাচার ইনডেক্স র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা পায়নি পাবিপ্রবি
ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো পবিপ্রবি: শিক্ষার্থীদের আনন্দ-অনুভূতির গল্প
ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন গবির ১৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থী
ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন উপলক্ষে ১৬ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পাবিপ্রবি
পোষা প্রাণী পালনে কেন আগ্রহী হচ্ছে নতুন প্রজন্ম?
সহকারী অধ্যাপক আমির হোসেন ডিআইইউ'র বর্ষসেরা শিক্ষক নির্বাচিত
পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হেমায়েত জাহানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষনা করে মানববন্ধন
গবির ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন
টানা ১৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পবিপ্রবি
Link Copied