জনবান্ধব নীতি ও বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে ১০০ দিন পেরিয়ে তারেক রহমানের সরকার
বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অভূতপূর্ব ও বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন দেশনায়ক তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একনায়কতান্ত্রিক শাসন, চরম অর্থনৈতিক লুণ্ঠন এবং অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশে সম্পূর্ণ জননির্বাচিত ও রাজনৈতিক সরকারের এক নতুন গৌরবময় যুগের সূচনা হয়। ২৮ মে, ২০২৬ তারিখে অত্যন্ত সফলতার সাথে পূর্ণ হলো তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ১০০ দিন। এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু নজিরবিহীন গতিশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ একশত দিনে বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন, স্থবির অর্থনীতিকে সচল এবং সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে যে বৈপ্লবিক ও উন্নয়নমুখী সাফল্য প্রদর্শন করেছে, তা দেশের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অভাবনীয় রাষ্ট্রনায়কোচিত পরিপক্বতা, গতিশীলতা এবং জনবান্ধব নীতির পরিচয় দিয়েছেন, তা সমগ্র দেশবাসীর মনে এক নতুন ও সমৃদ্ধশালী "আধুনিক বাংলাদেশ" বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ও গভীর আশার আলো সঞ্চার করেছে।
ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করতে এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক গতিশীলতা প্রদর্শন করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ও চোখধাঁধানো সাফল্য হলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (ইসিএনইসি) তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় আকারের বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন করা। এই তিনটি ইকোনমিক সেশনে বর্তমান সরকার দেশের মেগা অবকাঠামোগত রূপান্তর, পানি নিরাপত্তা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং একটি তথ্যপ্রযুক্তি-চালিত টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণের লক্ষ্যে মোট ২৮টি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই ২৮টি মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০,৬২৫ কোটি টাকা, যা প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে যেকোনো নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ড। অনুমোদিত এই বিশাল মহাপরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে ‘জেনারেল সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-২ (জিএসআইডিআইপি-২) এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত দূরদর্শী "চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪"। এই মেগা প্রকল্পগুলোর বিশাল ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৫,৩৪০ কোটি টাকা সরাসরি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর বিদেশী ঋণ সহায়তা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বর্তমান সরকারের সুশাসন ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর আস্থার এক বাস্তব বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ১৩ মে, ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত তৃতীয় একনেক বৈঠকটি ছিল সবচেয়ে ঐতিহাসিক, যেখানে একক দিনেই দেশের টেকসই অবকাঠামো খাতের রূপান্তরে ৩৬,৬৯৫.৭২ কোটি টাকার বড় বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বাস্তবায়নে শতভাগ গতিশীল।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণমূলক সংস্কারের পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে বৈস্মিক মানদণ্ডে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে মেগা প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত করেছে। একনেক সভায় দেশব্যাপী আন্তর্জাতিক মানের আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার সুফল হিসেবে দেশের লাখ লাখ প্রান্তিক ও শিক্ষিত তরুণ ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তি বাজারে প্রবেশাধিকার লাভ করবে। চিকিৎসা খাতের আমূল সংস্কার ও আধুনিকায়নে সরকার দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যন্ত আধুনিক ও বিশ্বমানের "ডায়াগনস্টিক ইমেজিং মডার্নাইজেশন" প্রজেক্ট অনুমোদন করেছে, যার ফলে দেশের সাধারণ মানুষকে আর উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ক্যানসার-কার্ডিওলজির মতো জটিল রোগের রোগনির্ণয়ের জন্য বিদেশে বা ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হবে না। একই সাথে একটি আধুনিক বিশেষায়িত ডেন্টাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের একটি অনন্য মানবিক পদক্ষেপ। এই সমস্ত বড় আকারের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল সূচনা প্রমাণ করে যে, তারেক রহমান সরকার প্রথম ১০০ দিনকে কেবল দিকনির্দেশনা নির্ধারণ বা প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার চাকা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে সচল করেছে।
সামাজিক সুরক্ষাবলয় সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার প্রথম ১০০ দিনে যে সমস্ত জনবান্ধব ও যুগান্তকারী নীতি বাস্তবায়ন করেছে, তা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে এক বিশাল "পজিটিভ ভাইবস" বা ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টি করেছে। দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে সরকার দেশব্যাপী বৈপ্লবিক "ফ্যামিলি কার্ড" এবং প্রান্তিক চাষীদের সুরক্ষায় "ফার্মার কার্ড" কর্মসূচি চালু করেছে। এই কার্ড ব্যবস্থার সফল চালুর মাধ্যমে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ ও কৃষক সরাসরি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের উপদ্বেগ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরাসরি সরকারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারছেন। এর পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে বর্তমান সরকার দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতার সুব্যবস্থা চালু করেছে, যা দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি অর্থায়নে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদী কৃষি নিরাপত্তা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ‘খাল পুনঃখনন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ সফলভাবে শুরু করা হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক নতুন সঞ্জীবনী শক্তি প্রদান করেছে।
বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তরিকতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গতিশীলতা সবচেয়ে নিখুঁতভাবে প্রমাণিত হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ফোরাম তথা ক্যাবিনেট কাউন্সিল বা মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। প্রথম ১০০ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলোতে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারে মোট ৬০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অত্যন্ত বিস্ময়কর ও ইতিবাচক বিষয় হলো, এই অল্প সময়ের মধ্যেই মন্ত্রিসভার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত (৩৭টি সিদ্ধান্ত) সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও অনন্য রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই অসাধারণ কর্মদক্ষতা ও সাফল্যের খতিয়ানকে দেশের সাধারণ মানুষের সামনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্তভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও দৃষ্টিনন্দন ৩১ পৃষ্ঠার ‘ই-বুক’আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এই ডিজিটাল দলিলে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট ১০০ দিনের কার্যক্রম, গৃহীত ২০০টিরও বেশি সংস্কারমুখী উদ্যোগ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের নিখুঁত পরিসংখ্যান ও গ্রাফিকাল ডেটা বিশদভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও আধুনিক দৃষ্টান্ত।
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন কায়েম করা সরকারের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক সাফল্য। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা আলোচিত "তনু হত্যাকাণ্ড"-এর প্রধান আসামিকে গ্রেফতার এবং রিমান্ডের মাধ্যমে সত্য উন্মোচনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সাথে, দেশের অর্থনৈতিক লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে অত্যন্ত আলোচিত এস. আলম গ্রুপের ৪,২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর ও ইম্পোর্ট সম্পদ রাষ্ট্রীয় হেফাজতে সফলভাবে ক্রোক বা ফ্রিজ করা হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণ করে সরকার প্রথম ১০০ দিনেই ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণ অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিশোধ করেছে। বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৩টি দেশের সাথে ইতিমধ্যেই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সাথে আইনি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান সরকারের এই কড়া দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং সুশাসনের প্রতি গভীর আস্থা রেখে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে এক ধাক্কায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই মেধাভিত্তিক, জনমুখী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অন্যতম আন্তর্জাতিক মহিমান্বিত স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম "টাইম ম্যাগাজিন"-এর ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায়, যেখানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয়তে তাঁকে একজন "পরিপক্ব, দূরদর্শী, সংস্কারবাদী ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যিনি ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে এই উজ্জ্বল ও পজিটিভ ভাবমূর্তির সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বহুগুণ উন্নত হয়েছে এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের এক বিশাল দুয়ার খুলে গেছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন সরকারের সামনে কিছুটা সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, তথাপিও সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনা ধরে রেখেছে।
বিগত একশত দিনে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের জোয়ার ও অভূতপূর্ব সাফল্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে, তাকে চিরস্থায়ী ও আরও বেগবান করার জন্য সরকারের সামনে এখন কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। প্রথমত, ২০২৬ সালের নভেম্বরে উন্নয়নশীল দেশে (এলডিসি) বাংলাদেশের যে চূড়ান্ত ও ঐতিহাসিক উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে, তার পরবর্তী বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে এখন থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের আলোচনা গতিশীল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় জ্বালানি খাতের অনুসন্ধান ও সবুজ নবায়নযোগ্য শক্তির মেগা প্রজেক্টগুলোকে দ্রুত উৎপাদনে নিয়ে আসতে হবে। তৃতীয়ত, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি উপজেলা স্তরে একটি ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এই সমস্ত চ্যালেঞ্জকে দূরদর্শী কূটনীতি ও কঠোর সুশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে পারলে, সকল প্রকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দেয়াল ভেঙে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শান্তিময়, উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে—এটাই আজ একশত দিনের গৌরবময় মাইলফলক শেষে সমগ্র ১৮ কোটি দেশবাসীর একমাত্র অটল বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যাশা।
Aminur / Aminur
জনবান্ধব নীতি ও বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে ১০০ দিন পেরিয়ে তারেক রহমানের সরকার
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে রোববার
শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে
হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু
হাসপাতাল বন্ধ হোক আমরা চাই না, বললেন আদ্-দ্বীনে মারা যাওয়া এক শিশুর বাবা
ক্ষতিপূরণ-চাকরি দিয়ে সেই ছয় শিশুর পরিবারের পাশে থাকতে চায় আদ্-দ্বীন
গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে রাজধানীতে দগ্ধ ৬
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪১১ জন
ঈদের ছুটির পর প্রথম শুক্রবার: বাজারে ক্রেতা কম, দাম অনেকটা স্থিতিশীল
প্রতিরক্ষা শিল্পে পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর