কৃষক মরছে কীটনাশকে
বাংলাদেশের আবাদি জমির প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক সারা বছরই প্রয়োগ করতে হয়। অথচ প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষক মাস্ক, গ্লাভস কিংবা অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করেই এ কাজ করেন। অনেকেই লেবেলের নির্দেশনা পড়েন না, সঠিক মাত্রাও মানেন না। ফলে ফসল রক্ষার জন্য ব্যবহৃত কীটনাশকই আজ কৃষকের জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কীটনাশকের প্রভাবে প্রথমে মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি রক্ত, খাদ্যনালী, ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ কীটনাশকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষক ও কৃষি শ্রমিক।
কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত না থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ এখন সময়ের দাবি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “আমরা সবাই কৃষক হবো।” আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বলেছেন, “আমরা সবাই স্মার্ট কৃষক হবো।” সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃষি টেক হাব সেন্টার স্থাপন করা জরুরি।
কৃষি টেক হাব হবে কৃষকদের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থাকে একত্রে নিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ড্রোন ভাড়া নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের সরাসরি বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে হবে না, ফলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমবে।
ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকরভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা যায়। এতে উৎপাদন খরচ কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং ফলনও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং কৃষিকাজ আরও আধুনিক ও টেকসই হবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে স্মার্ট কৃষি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে কাজ করি এবং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
“কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ,
সবার আগে বাংলাদেশ।”
এমএসএম / এমএসএম
সীমান্তে রক্তপাত ও পুশইন আর মুখে বন্ধুত্বের বুলি: এই দ্বিচারিতার শেষ কোথায়?
বিশ্ব খাদ্য দিবস: খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিই হোক অগ্রাধিকার
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে ভেঙে গেল আ’লীগের পুরোনো বয়ান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার আজীবন যোদ্ধা: অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য বীমা: কভারেজ সুবিধা ও বীমা বহির্ভূত ব্যয় পরিশোধের দায়
বিশ্ব শিক্ষক দিবস: পেছনের গল্প এবং শিক্ষক সমাজের না বলা কথা
কিশোর গ্যাং: বাংলাদেশের তারুণ্য কোন পথে?
প্রবীণদের সুরক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা
কন্যা শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা
আমি,আমরা কী পড়াচ্ছি, আর শিক্ষার্থীরা কী শিখছে?
লেখকের কষ্ট