ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

সীমান্তে রক্তপাত ও পুশইন আর মুখে বন্ধুত্বের বুলি: এই দ্বিচারিতার শেষ কোথায়?


আহসান হাবিব বরুন photo আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: ১৫-১০-২০২৬ দুপুর ২:২২

উপমহাদেশের ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের চর্চা সব সময়ই একটি স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত গুরুত্ববহ অধ্যায়। ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের তিন দিকে পরিবেষ্টিত প্রতিবেশীর নাম ভারত। কিন্তু দীর্ঘ ইতিহাস, সামাজিক মেলবন্ধন ও ভৌগোলিক নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কতটা সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততার ওপর দাঁড়িয়ে—এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বারবার উত্থাপিত হচ্ছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও স্বকীয়তা রক্ষা করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম কূটনৈতিক চর্চার সূচনা করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক মর্যাদা এবং অখণ্ডতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের একটি নতুন, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতার দিগন্ত উন্মোচন করা। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে কি সেই সমমর্যাদা ও শ্রদ্ধাবোধের ইতিবাচক প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি?
 
বাস্তবতা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক। ভারত যেন তার সেই সনাতন চাণক্যনীতির কুটিল চাল থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না অথবা বের হতে চাইছে না। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে এবং ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক টেবিলে ভারত বন্ধুত্বের যে প্যাকেজিং উপস্থাপন করছে, তা কার্যত একটি কৌশলগত ছদ্মবেশমাত্র। তারা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁদের দেশ সফরের জন্য এমন ভান করছে এবং এমন আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, যেন বাংলাদেশের চেয়ে ভালো বন্ধু রাষ্ট্র তাদের আর একটিও নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, মুখে মুখে তাদের এই বন্ধুত্বের ভাব, লোভ দেখানো কথামালা ও ফুলঝুরি এ দেশের মানুষ দেখতে দেখতে বড্ড ক্লান্ত। 

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রায়ই অত্যন্ত সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, যেখানে বন্ধুত্বের অনাবিল ও নির্ভেজাল আহ্বান থাকে, তখন কূটনৈতিক শিষ্টাচারের এক চমৎকার দৃশ্য তৈরি হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, সীমান্তে রক্তপাত আর লাশের মিছিল কিছুতেই থামছে না। শুধু তা-ই নয়, সীমান্তে বেআইনিভাবে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা বা পুশইন কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। যদিও আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির দৃঢ়তা ও সাহসিকতায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ অনেক ক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে, প্রশ্ন হলো—ভারতের এই লজ্জাজনক দ্বিচারিতার শেষ কোথায়?
 
ভারতের এই কৃষিম বন্ধুত্বের বোলচালের আড়ালে সীমান্তসংলগ্ন বাস্তবতা ঠিক কতটা নির্মম, তার সাম্প্রতিক প্রমাণ মিলল সিলেট জেলার কানাইঘাট সীমান্তে। কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কেউটি হাওর গ্রামের আবদুল লতিফের ২৫ বছর বয়সী তরুণ পুত্র শাহিন আহমদ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর এবং তাঁর ঘরে রয়েছে এক বিমর্ষ স্ত্রী ও দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান। শুক্রবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন শনিবার বিকেলবেলা কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী সোনারখেওড় এলাকার কৃষিজমিতে, আন্তর্জাতিক ১৩২৮ নম্বর পিলারের সংলগ্ন স্থানে, শাহিনের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। নিহতের বড় ভাই জসিম উদ্দিন কানাইঘাট থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।  

একজন সাধারণ দিনমজুর, যিনি পরিবারকে দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাতে ঘাম ঝরান, সীমান্তে তাঁর রক্তে ভেসে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিএসএফের অমানবিক ও বেআইনি গুলির শিকার হয়ে এভাবে শত শত বাংলাদেশি যুবকের প্রাণপ্রদীপ নিভে গেছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ভুলবশত কিংবা যেকোনো কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেও ফেলেন, তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বিএসএফের ক্ষেত্রে দেখামাত্র গুলি করার যে অমানবিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের শতভাগ পরিপন্থী। ভারতের এই বুলেটভিত্তিক আচরণ প্রমাণ করে—মুখে যতই বন্ধুত্বের বুলি ফুটুক না কেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বা মানবাধিকার দিল্লির কাছে কতটা অর্থহীন।
 
কেবল সীমান্ত হত্যাই ভারতের একক অপকর্ম নয়, এর সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন করার চক্রান্ত। সম্প্রতি মেহেরপুর জেলার গাংনী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ সদস্যদের মাধ্যমে নারীসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। ভোরবেলা মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের রংমহল এলাকায় ভারতের দিঘলকান্দি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন নারী ও দুজন পুরুষকে অস্ত্রের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত করে। তবে ভারতের এই অবৈধ চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেয় বিজিবির টহল দল। বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান রনি জানান, বিজিবির রংমহল ক্যাম্পের টহল দল শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া দলটিকে ফেরত নিতে বাধ্য হয়। বিজিবির এই বীরত্ব ও শক্ত অবস্থান আমাদের সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড় ভরসার নাম। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, ভারত কেন সার্বিক আন্তর্জাতিক সীমান্তনীতি ও চুক্তি উপেক্ষা করে এভাবে পুশইনের মতো ন্যক্কারজনক প্ররোচনায় লিপ্ত হচ্ছে?
 
আরেকটি নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পতিত ও পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আশ্রয়-প্রশ্রয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ভারতের সেই সনাতন চাণক্যনীতির স্পষ্ট ছাপ আমরা লক্ষ্য করছি। দিল্লি শেখ হাসিনাকে নিজ দেশে পরম নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়বিচারের চাহিদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। যদিও সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ভারতে আশ্রয় লাভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে অনেক নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তথাপি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি ভারত তার চাণক্য কূটনীতির অংশ হিসেবেই অনেকটা ঝুলিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি করার জন্য অপরাধীদের ফেরত চাওয়া ঢাকার আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু ভারত এই ইস্যুটিকে অমীমাংসিত রেখে বাংলাদেশের ওপর রাজনৈতিক চাতুরীর এক মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে চাইছে, যা দুটি স্বাধীন দেশের সুস্থ সম্পর্কের পথে সবচেয়ে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
সীমান্তে রক্তপাত আর রাজনৈতিক চক্রান্তের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বাণিজ্যবৈষম্যের বিষয়গুলো তো দীর্ঘকাল ধরেই ঝুলে আছে। গঙ্গা ও তিস্তাসহ যৌথ নদীগুলোর ন্যায্য পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে ভারত ভাটির দেশকে প্রতিনিয়ত মরুকরণ ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে ফেলছে। বাণিজ্যক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সব সময় এক বিশাল বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বস্তুতপক্ষে, শেখ হাসিনার আমলে ভারত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করিয়ে নিয়েছিল। দেশপ্রেমিক বিশ্লেষকদের পর্যালোচনায় স্পষ্ট দেখা যায়, এসব চুক্তির বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভারত একচেটিয়া লাভবান হয়েছে এবং বাংলাদেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অসম বিদ্যুৎ চুক্তিটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কোনো প্রকার প্রতিযোগিতা ছাড়া, চড়া দামে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের যে শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা মূলত স্বৈরাচারী হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে ভারতকে দেওয়া এক ধরনের অর্থনৈতিক উপঢৌকন ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
 
আন্তর্জাতিক আইনশাস্ত্র ও ভিয়েনা কনভেনশনের মূলকথা হলো, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো এবং নিজ ভূমির আইনশৃঙ্খলা অন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া। কিন্তু ভারত সরকারের আচরণে চাণক্যনীতির কৌশলগত মনস্তত্ত্ব ফুটে ওঠে। দিল্লি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বুলি উগরে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে মহৎ প্রতিবেশী হিসেবে জাহির করে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তাদের আচরণে ফুটে ওঠে চরম আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। সীমান্তে রক্তপাত ঘটিয়ে, অবৈধ পুশইন চালিয়ে এবং শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ঝুলিয়ে রেখে তারা বাংলাদেশকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতে চায়। সীমান্ত সংঘাত এড়ানোর বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েও শাহিন আহমদের মতো নিরীহ মানুষের বুকের তাজা রক্ত ঝরানো প্রমাণ করে যে, ভারতের প্রতিশ্রুতিগুলো শুধুই কাগজের টুকরো। আগের ১০১টি চুক্তির মতো এখনো ভারত কেবল তাদের নিরাপত্তা ও ট্রানজিট স্বার্থ বুঝে নিতে চায়, কিন্তু পানির হিস্যা কিংবা সীমান্ত হত্যার মতো মৌলিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান বদলাতে নারাজ।
 
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বিরাট গুণগত পরিবর্তন এনেছে। বিগত যুগের একপাক্ষিক নমনীয়তা ও দাসের মতো আনুগত্যের পররাষ্ট্রনীতিকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে বাংলাদেশ এখন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব হলেও তা জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদার বিনিময়ে নয়। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কোনো বৈরিতা চায় না, কিন্তু নিজেদের নাগরিকদের প্রাণ ও সার্বভৌমত্বের মূল্যে সেই বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে পারে না। ভারতের নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি করার সময় এসেছে যে, চাণক্য কৌশলের মারপ্যাঁচ বা পুরোনো আধিপত্যবাদী মানসিকতা দিয়ে আজকের জাগ্রত বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
 
ভারতকে যদি সত্যিই একটি বিশ্বস্ত প্রতিবেশীর মর্যাদা ধরে রাখতে হয়, তবে তাদের অবিলম্বে বিএসএফকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নীতি থেকে সরিয়ে আনতে হবে এবং শাহিন আহমদের মতো নিরীহ নাগরিকদের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে সীমান্তে শূন্য মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে। গাংনী সীমান্তের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইনের চক্রান্ত বন্ধ করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত কনভেনশন হুবহু মেনে চলা দিল্লির জন্য জরুরি। পাশাপাশি, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার হাতে তুলে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আদানির বিদ্যুৎ চুক্তিসহ শেখ হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত অসম চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা এবং যৌথ নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করা প্রয়োজন। দিল্লির মেকি কূটনৈতিক মিষ্টভাষার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিএসএফ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিতে প্রকৃত শ্রদ্ধাবোধ ফুটিয়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
 
পরিশেষে বলা যায়, সম্পর্কের উন্নয়ন কখনো একতরফা হতে পারে না, তা সব সময়ই একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ সমমর্যাদা ও স্বাধীন কূটনৈতিক নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বের যে হাত বাড়িয়েছে, ভারত যদি তার বিপরীতে চাণক্যীয় চাল, সীমান্ত হামলা, পুশইন ও স্বৈরাচারের আশ্রয়দাতার ভূমিকা চালু রাখে—তবে সেই বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দিল্লির নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, একটি শান্ত, আত্মমর্যাদাশীল ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে সমমর্যাদার বন্ধু হিসেবে পাওয়া ভারতের নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। সুতরাং দ্বিচারিতা ও ছদ্মবেশী বন্ধুত্বের এই বিষাক্ত সংস্কৃতি থেকে ভারত কবে বের হয়ে আসবে—তা জানতে চান বাংলাদেশের প্রতিটি  জনগণ। মহান আল্লাহ সুবাহানাতালা আমাদের সহায় হোন।
 
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com  
 

এমএসএম / এমএসএম

অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতন: দোষীদের বিচার নিশ্চিতকরণ ও নিরপরাধ শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসঃ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা

​লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য: সমৃদ্ধির সাধনা, প্রজ্ঞার আলো ও মানবতার জয়

শুভ বিজয়া দশমী: অশুভের বিনাশ, সত্য ও মানবতার জয়

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২ বছর: ইতিহাসের গৌরব, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও আগামীর প্রত্যয়

নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ - সবার আগে বাংলাদেশ

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাহীনতা-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা নির্মূলের বিকল্প নেই

অসুস্থ হওয়ার পরই কি স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ভাবনা শুরু হয়?

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে: কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

​শারদীয় দুর্গোৎসব: ইতিহাস, সত্যের জয়গান ও আবহমান বাংলার সম্প্রীতি

সীমান্তে রক্তপাত ও পুশইন আর মুখে বন্ধুত্বের বুলি: এই দ্বিচারিতার শেষ কোথায়?

বিশ্ব খাদ্য দিবস: খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন