ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাহীনতা-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা নির্মূলের বিকল্প নেই


আহসান হাবিব বরুন photo আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: ১৯-১০-২০২৬ দুপুর ১২:২

একজন প্রবাসী শ্রমিক বছরের পর বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে যখন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন বিমানবন্দরের দরজা পেরিয়ে তাঁর মনে জাগে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার আবেগ। একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী যখন নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে বাংলাদেশে আসেন, কিংবা কোনো পর্যটক ও কূটনীতিক যখন এ দেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে কাছ থেকে দেখতে পৌঁছান, তখন বিমানবন্দরই হয়ে ওঠে তাঁদের সামনে বাংলাদেশের প্রথম দৃশ্যমান পরিচয়। সেই প্রবেশদ্বার যদি নিরাপত্তাহীনতা, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম কিংবা অসাধু সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য দৌরাত্ম্যের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে ক্ষুণ্ন হয় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নয়, বরং গোটা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর মানুষের আস্থাও। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাই কেবল আকাশযান ওঠানামার স্থান নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রাচারের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার, যার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার চিত্র দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেকাংশে দেশকে মূল্যায়ন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের এই প্রধান প্রবেশদ্বারটি বারবার সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে অগ্নিকাণ্ড, নিরাপত্তার দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের অভিযোগের কারণে। এই পরিস্থিতি কেবল একটি স্থাপনার সংকট নয়; বরং রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক আস্থার ওপর এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন।

আমরা যদি সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকাই, তবে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ও কুরিয়ার শেড এলাকায় একাধিকবার আগুন ও ধোঁয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনাকে নিছক বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। গত বছরের ১৮ অক্টোবরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনো দেশের মানুষের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সেদিন কার্গো ভিলেজে বিপুল পরিমাণ আমদানি করা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমান চলাচল কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে এবং একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের বহু ইউনিটকে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়, যা বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি বছরের ৫ জুন বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার শেডে আবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো এলাকার পাশে ফের ধোঁয়া ও আগুনের ঘটনা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও মানুষের মনে জমে থাকা আশঙ্কা দূর হয়নি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও সুরক্ষিত এলাকায় বারবার এমন ঘটনা কেন ঘটছে, সেই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আজ অত্যন্ত জরুরি।

কোনো নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, ফরেনসিক প্রমাণ কিংবা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া কারও ওপর তড়িঘড়ি করে নাশকতার দায় চাপিয়ে দেওয়া দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা বিশ্লেষণের পরিচায়ক নয়। গত বছরের বড় অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, অনিরাপদভাবে পণ্য স্তূপ করে রাখা এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উঠে এসেছিল। কিছু তদন্তে সরাসরি নাশকতার প্রমাণ না পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো অনুমান বা গুজবের ভিত্তিতে নয়, বরং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশ ও প্রস্থানের নির্ভুল তথ্য এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করা। তবে বিষয়টির অন্য দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো কায়েমি স্বার্থান্বেষী চক্র, অসাধু ব্যবসায়ী কিংবা অপরাধী সিন্ডিকেট মূল্যবান পণ্য চুরির ঘটনা আড়াল করতে, বীমা জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতে, গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস করতে কিংবা অন্য কোনো অবৈধ সুবিধা নিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাহলে তা হবে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিমানবন্দরের কার্গো এলাকা সাধারণ কোনো গুদাম নয়। এখানে থাকে বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাকের নমুনা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সামগ্রী। এখানে অগ্নিকাণ্ডের অর্থ শুধু সম্পদের ক্ষতি নয়; বরং দেশের সরবরাহব্যবস্থা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আস্থার ওপরও আঘাত।

শাহজালাল বিমানবন্দরের সংকট তাই কেবল আগুন লাগার ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা, অনিয়মের ঝুঁকি, দায়িত্বহীনতা, জবাবদিহির ঘাটতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিমানবন্দরে প্রবেশাধিকার যেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নজরদারির আওতায় থাকার কথা, সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; সেগুলো সচল আছে কি না, সার্বক্ষণিক নজরদারি হচ্ছে কি না এবং সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কাস্টমসের কার্যক্রম, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কার্গো খালাসে দালালচক্রের সম্ভাব্য তৎপরতার মতো অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। যাত্রী থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বিমানবন্দরের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির শিকার হলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানে অবহেলা ও দুর্নীতির সংস্কৃতি শিকড় গাড়লে সেখানে নিরাপত্তার দুর্বলতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এমন এক ঘনীভূত সংকটের মধ্যে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ গ্রহণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক। মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সুপারিশ পেশ করতে বলা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগ কেবল একটি দাপ্তরিক আদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে। বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থার পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এখানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কার্গো ও কুরিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারলে তা হবে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার এই উদ্যোগ তাই প্রশংসার দাবি রাখে।

তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়, শুধু কমিটি গঠন কিংবা সুপারিশ প্রণয়নই শেষ কথা নয়; প্রকৃত পরীক্ষা হলো সেই সুপারিশের কার্যকর বাস্তবায়ন। অতীতে বিভিন্ন ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমান উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে দ্রুত কিছু মৌলিক বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের সুপারিশ করতে হবে। প্রথমত, শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। আধুনিক আগুন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, উপযুক্ত সেন্সর এবং কার্যকর জরুরি সতর্কীকরণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দরের বিভিন্ন বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সিন্ডিকেটের তৎপরতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, কার্গো ও কুরিয়ার শেডের ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও দাহ্য পদার্থের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পৃথক সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা অঞ্চল নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, প্রতিটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং পর্যটনের সঙ্গে দেশের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শাহজালালে যখন বারবার আগুন বা ধোঁয়ার ঘটনা ঘটে, তখন তার প্রভাব শুধু বিমানবন্দরের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, তৈরি পোশাক খাত, সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরও পড়তে পারে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা, পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তাই নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন কোনো বিলাসিতা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।

এখন আর কালক্ষেপণ কিংবা সাময়িক ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। সরকারের গঠিত আট সদস্যের কমিটিকে অতীতের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করতে হবে। অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকলে কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে এবং অপরাধ বা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে পর্যায়েরই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কাউকে রাখা যাবে না।

পরিশেষে বলতে চাই, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই প্রবেশদ্বারে বারবার নিরাপত্তার ঘাটতি প্রকাশ পেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের ভাবমূর্তি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক আস্থার ওপর। তাই বিমানবন্দরকে আধুনিক, নিরাপদ, স্বচ্ছ, দক্ষ ও সিন্ডিকেটমুক্ত করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সরকারের নতুন উদ্যোগ সেই পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সংস্কারের পথ প্রশস্ত করে। কারণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কেবল একটি স্থাপনার সুরক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, নাগরিকের আস্থা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই পরীক্ষায় সফল হতে হলে নিরাপত্তাহীনতা, সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য প্রভাব এবং অব্যবস্থাপনা নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ সুবাহানাতালা আমাদের সহায় হোন।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

এমএসএম / এমএসএম

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাহীনতা-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা নির্মূলের বিকল্প নেই

অসুস্থ হওয়ার পরই কি স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ভাবনা শুরু হয়?

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে: কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

​শারদীয় দুর্গোৎসব: ইতিহাস, সত্যের জয়গান ও আবহমান বাংলার সম্প্রীতি

সীমান্তে রক্তপাত ও পুশইন আর মুখে বন্ধুত্বের বুলি: এই দ্বিচারিতার শেষ কোথায়?

বিশ্ব খাদ্য দিবস: খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিই হোক অগ্রাধিকার

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে ভেঙে গেল আ’লীগের পুরোনো বয়ান

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার আজীবন যোদ্ধা: অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য বীমা: কভারেজ সুবিধা ও বীমা বহির্ভূত ব্যয় পরিশোধের দায়

​বিশ্ব শিক্ষক দিবস: পেছনের গল্প এবং শিক্ষক সমাজের না বলা কথা

কিশোর গ্যাং: বাংলাদেশের তারুণ্য কোন পথে?

প্রবীণদের সুরক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা