জিয়ার ১৯ দফা থেকে তারেক রহমানের ৩১ দফা: ৭ নভেম্বর কি দেখাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন পথ?
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। আর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে এক গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। দিনটিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার সমর্থকেরা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে, এই দিনের ঘটনাবলি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। তবে ইতিহাসের এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটি মৌলিক সত্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন—স্বাধীনতা অর্জন যেমন একটি জাতির ঐতিহাসিক বিজয়, তেমনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত রাখা রাষ্ট্র পরিচালনার অবিরাম দায়িত্ব।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান এবং রাষ্ট্রক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং জাতীয় ঐক্যের যে ধারণা তিনি সামনে এনেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করে।
কিন্তু আজকের প্রশ্ন কেবল ১৯৭৫ সালের ইতিহাসের মূল্যায়ন নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বরে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার সেই ইতিহাস থেকে কী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে?
জাতীয় সংহতি: রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম শর্ত
জাতীয় সংহতি কোনো রাজনৈতিক দলের একক সম্পদ নয়। এটি রাষ্ট্রের সব নাগরিক, রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে জাতীয় ঐক্যের সমার্থক মনে করা। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার অর্জিত হয়; কিন্তু জনগণের আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজন ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, সহনশীলতা এবং কার্যকর সুশাসন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এখানেই ৭ নভেম্বরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা নিহিত। সরকারকে উপলব্ধি করতে হবে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা অধিক জরুরি। বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সংলাপ ও সমঝোতার পথ বন্ধ করা কোনো দায়িত্বশীল সরকারের জন্য কল্যাণকর নয়।
রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা শুধু সরকারের টিকে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার মধ্যেই তার প্রকৃত সার্থকতা।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন থেকে শিক্ষা
জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে জাতীয় স্বনির্ভরতা, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এই নীতিগুলোর সমকালীন প্রয়োগ হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
বর্তমান সরকারের সামনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো কঠিন দায়িত্ব রয়েছে।
জাতীয়তাবাদ কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার কোনো বাস্তব মূল্য থাকে না। প্রকৃত জাতীয়তাবাদ হচ্ছে এমন একটি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনশীল সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত পারস্পরিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে অযৌক্তিক বৈরিতা কিংবা একক কোনো শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা—কোনোটিই দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য কল্যাণকর নয়।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে শিক্ষা
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় নেতৃত্ব ধরে রাখার অভিজ্ঞতা বর্তমান সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস।
তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম শিক্ষা হলো—গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয় নয়; গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে রাজনৈতিক সহাবস্থান, বিরোধী মতের অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর।
আজ বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে সেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি।
বিরোধী অবস্থানে যে গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করা হয়, ক্ষমতায় গিয়ে সেই একই অধিকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্য নিশ্চিত করতে পারাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পরিচয়।
তারেক রহমানের সামনে পাঁচটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে পূর্বসূরিদের রাজনৈতিক দর্শনকে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর নীতিতে রূপান্তর করা।
প্রথমত, জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংলাপ, সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন। সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি আমদানি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন দুর্নীতির দায়মুক্তির সুযোগ না হয়।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক মুক্তি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল দৈনন্দিন জীবনে অনুভব করতে না পারলে সেই পরিবর্তনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
চতুর্থত, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব রক্ষা। ১৯৭৫ সালের ঘটনাবলি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অস্থিরতা কত গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা, পেশাদারত্ব এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের পাশাপাশি বেসামরিক গণতান্ত্রিক কর্তৃত্ব সুদৃঢ় রাখা অপরিহার্য।
পঞ্চমত, রাজনৈতিক সংস্কারের বাস্তবায়ন। জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা—এই তিনটি রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যকার প্রাসঙ্গিক নীতিগুলোকে সময়সীমাবদ্ধ, পরিমাপযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক সরকারি কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তর করতে হবে।
বিরোধী দলের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা
গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ, রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নয়। একইভাবে সরকারও কোনো রাজনৈতিক দলের একক স্বার্থরক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান নয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্ব হচ্ছে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচনব্যবস্থা কিংবা প্রশাসনিক পুনর্গঠন নিয়ে মতবিরোধ থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত সংসদীয় আলোচনা, আইনসম্মত প্রক্রিয়া এবং জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে।
অপরদিকে, রাজনৈতিক সহিংসতা, নাশকতা কিংবা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সামষ্টিক দোষারোপ গণতান্ত্রিক সংহতির পরিপন্থী।
ইসলামের পরামর্শভিত্তিক শাসননীতি এবং জাতীয় ঐক্য
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:
“তাদের কার্যাবলি তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।”
— সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৩৮ (ভাবানুবাদ)।
এই নির্দেশনার মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি গভীর নৈতিক শিক্ষা রয়েছে। শাসনব্যবস্থায় পরামর্শ, ন্যায়বিচার, আমানতদারি এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় পরামর্শ গ্রহণ দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচায়ক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে—ক্ষমতার কেন্দ্রিকতা কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী, তরুণ সমাজ এবং নাগরিক প্রতিনিধিদের মতামত গুরুত্ব পাবে।
৭ নভেম্বরের প্রকৃত রাজনৈতিক শিক্ষা
ইতিহাসকে কেবল রাজনৈতিক বিজয় বা পরাজয়ের বিবরণ হিসেবে দেখলে তার গভীর শিক্ষা অধরাই থেকে যায়।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আমাদের রাষ্ট্র দিয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি রাষ্ট্রক্ষমতা, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ খুলেছে। আর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, নাগরিক অধিকার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে।
এই ঘটনাগুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, চরিত্র ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন এক নয়। কিন্তু প্রতিটি অধ্যায় থেকেই রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
আজকের সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি শিক্ষা হচ্ছে—জনগণের আস্থা ছাড়া ক্ষমতা স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সাফল্য শুধু তাঁর পিতা জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার কিংবা মাতা বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করবে না। তাঁর সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে জনগণের জীবনমান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠার বাস্তব অর্জনের ভিত্তিতে।
ক্ষমতার সংহতি নয়, জাতির সংহতি:
৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হওয়া উচিত—জাতীয় ঐক্য কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক নীতি।
বাংলাদেশের সামনে এখন প্রয়োজন সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতা, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার, দুর্নীতির পরিবর্তে সততা, আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে উৎপাদনশীলতা এবং রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতা।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য ইতিহাস একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে রাষ্ট্রীয় সাফল্যে রূপান্তর করতে হবে।
৭ নভেম্বরের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন বাংলাদেশ হবে একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র—যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং রাষ্ট্রের মালিকানা বাস্তব অর্থেই জনগণের হাতে থাকবে।
কারণ রাষ্ট্রের চেয়ে কোনো দল বড় নয়, জনগণের অধিকারের চেয়ে কোনো ক্ষমতা বড় নয় এবং জাতীয় সংহতির চেয়ে কোনো রাজনৈতিক বিজয় অধিক মূল্যবান নয়।
লেখক পরিচিতি:
মোহাম্মদ আনোয়ার
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক, গবেষক ও কলামিস্ট।
এমএসএম / এমএসএম
৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমানের শিক্ষা দর্শন একটি জাতিকে গড়ার স্বপ্ন
জিয়ার ১৯ দফা থেকে তারেক রহমানের ৩১ দফা: ৭ নভেম্বর কি দেখাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন পথ?
রেনং থেকে মাতারবাড়ী: বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরের সম্ভাবনা
অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ
মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতন: দোষীদের বিচার নিশ্চিতকরণ ও নিরপরাধ শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসঃ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা
লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য: সমৃদ্ধির সাধনা, প্রজ্ঞার আলো ও মানবতার জয়
শুভ বিজয়া দশমী: অশুভের বিনাশ, সত্য ও মানবতার জয়
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২ বছর: ইতিহাসের গৌরব, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও আগামীর প্রত্যয়
নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ - সবার আগে বাংলাদেশ
বিমানবন্দরে নিরাপত্তাহীনতা-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা নির্মূলের বিকল্প নেই
অসুস্থ হওয়ার পরই কি স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ভাবনা শুরু হয়?