নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ - সবার আগে বাংলাদেশ
সড়ক যোগাযোগ একটি দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই সড়কই যখন মানুষের অকালমৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও পরিবারে স্থায়ী শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন উন্নয়নের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একটি দেশের সড়ক কত প্রশস্ত, কতটি সেতু নির্মিত হয়েছে কিংবা যানবাহনের গতি কত বেড়েছে, শুধু তা দিয়ে উন্নয়ন পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মানদণ্ড হলো, মানুষ কতটা নিরাপদে চলাচল করতে পারছে এবং তার জীবন কতটা সুরক্ষিত। ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ আমাদের সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এখন প্রয়োজন প্রতিপাদ্যের বক্তব্যকে বাস্তব জীবনের নিরাপত্তায় রূপান্তর করা। এ জন্য চাই কার্যকর আইন, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জবাবদিহি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বেদনাবিধুর ইতিহাস। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের দাবিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলন দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, জনসম্পৃক্ততা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তার দাবি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৭ সালে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে দিবসটির দশমবারের মতো পালন করা হচ্ছে। এই দিবস আমাদেরকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে।
জাতীয় নিরাপদ দিবস পালন, আলোচনা সভা, র্যালি, ব্যানার ও স্লোগানের পরও সড়কে মানুষের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কেন যথেষ্ট কমছে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সড়ক দুর্ঘটনাকে কেবল চালকের ভুল কিংবা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক নকশা, অনিরাপদ ওভারটেকিং, চালকের ক্লান্তি, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার মতো একাধিক কারণ কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি একসঙ্গে উপস্থিত থাকে। ফলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু একজন চালককে দায়ী করা, জরিমানা বাড়ানো কিংবা বিশেষ দিবসকেন্দ্রিক প্রচার চালানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত, ধারাবাহিক ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ১১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশবিষয়ক একই বছরের প্রতিবেদনে দেশে সরকারি হিসাবে ৫ হাজার ৮৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মডেলভিত্তিক অনুমান ছিল প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জন। সরকারি হিসাব ও আন্তর্জাতিক অনুমানের এই বড় ব্যবধান দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, সংজ্ঞা, মৃত্যুর হিসাব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। তবে এসব সংখ্যা ২০২১ সালের তথ্য, ২০২৬ সালের বর্তমান মৃত্যুসংখ্যা নয়। এই পার্থক্য আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়: সড়ক নিরাপত্তার কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য, সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যব্যবস্থা অপরিহার্য। প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা কঠিন।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিরাপদ সড়ক শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নাগরিক অধিকার, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসনের অংশ। সরকার সড়ক নির্মাণ করবে, যানবাহন চলাচলের নিয়ম নির্ধারণ করবে, চালকের যোগ্যতা যাচাই করবে, পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করবে এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে যাত্রী, পথচারী, সাইকেলচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক নির্মাণের পর সেটি কতটা নিরাপদ থাকছে, পরিবহন আইন কতটা মানা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো কত দ্রুত সংশোধন করা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিরা সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, এসব বিষয়ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এবং তাদের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেবে না।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর কার্যকর ও ধারাবাহিক প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্যের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু আইন থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আইন প্রয়োগে শিথিলতা, অনিয়ম, পক্ষপাত কিংবা দায়িত্বহীনতা থাকলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। কোনো বিশেষ দুর্ঘটনার পর কয়েক দিন অভিযান জোরদার করে পরে তৎপরতা কমিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। আইন প্রয়োগ হতে হবে নিয়মিত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সব শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর। পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি, কেউই যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ না পান। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা, অযৌক্তিক জরিমানা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগও বন্ধ করতে হবে।
শুধু বিদ্যমান আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বর্তমান বাস্তবতার আলোকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এমন আইনে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নিরাপত্তামান, যানবাহনের কারিগরি নিরাপত্তা, চালকের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা, গতিসীমা, পথচারীর অধিকার, জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা, দুর্ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ, তদন্ত, মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আইন প্রণয়নের আগে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ, বিশেষজ্ঞদের মতামত, গবেষণালব্ধ ফলাফল এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক, নাগরিক সমাজ ও সড়ক নিরাপত্তা সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। আইনটি যেন শুধু অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের দলিল না হয়, বরং দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা গঠন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কার্যকর কাঠামো হয়ে ওঠে।
নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ পরস্পরের বিকল্প নয়। নতুন আইন তৈরি করতে সময় লাগলেও বর্তমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ থেমে থাকতে পারে না। আবার বিদ্যমান আইনে কোনো ঘাটতি থাকলে সেটি চিহ্নিত করে সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আইন প্রণয়নের পর বিধিমালা, দায়িত্ব বণ্টন, প্রয়োজনীয় জনবল, প্রযুক্তি, বাজেট এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভালো আইনও কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে। আইনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাস্তবায়নের জন্য কে দায়িত্ব পালন করবে, কীভাবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। আইন প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কার্যকর মনিটরিং এবং স্থায়ী জবাবদিহি। আমাদের দেশে অনেক সময় কোনো বড় দুর্ঘটনা বা জনদাবির পর তৎপরতা বাড়ে, অভিযান চলে, সভা হয়, নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর সেই তৎপরতা কমে গেলে আগের অনিয়ম আবার ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়। এভাবে চলতে থাকলে কোনো আইন, নির্দেশনা কিংবা কর্মসূচিই স্থায়ী ফল দিতে পারবে না। তাই সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে সাময়িক অভিযাননির্ভর না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রতিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাজ, সময়সীমা, লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি মূল্যায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। নিয়মিত পর্যালোচনা সভা, মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন, ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রকাশ্য অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের অবস্থা যাচাই করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত দায়িত্ব বণ্টন থাকা প্রয়োজন। কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত হওয়ার পর সেটি নিরাপদ করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কোনো যানবাহন বারবার আইন লঙ্ঘন করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসা পৌঁছাতে কত সময় লাগছে এবং গৃহীত পদক্ষেপে দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঝুঁকি কমেছে কি না, এসব বিষয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু কতটি অভিযান পরিচালিত হলো কিংবা কত টাকা জরিমানা আদায় হলো, সেটিই সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। প্রকৃত সাফল্য হলো দুর্ঘটনা ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমানো এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা।
সড়ক দুর্ঘটনারোধে মনিটরিং ব্যবস্থা যেন ব্যক্তিনির্ভর না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কর্মকর্তা বদলি হলে, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হলে কিংবা কোনো বড় দুর্ঘটনা সংবাদমাধ্যমের আলোচনার বাইরে চলে গেলে সড়ক নিরাপত্তার কার্যক্রম যেন থেমে না যায়। এ জন্য আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে স্থায়ী দায়িত্ব নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোথাও নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হলে তার কারণ জানতে হবে এবং সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে সড়ক নিরাপত্তা দিবসের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সারা বছর ধরে বাস্তবায়িত হবে।
চালকদের দক্ষতা ও কর্মপরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। পেশাদার চালকের হাতে বহু মানুষের জীবন নির্ভর করে। তাই লাইসেন্স দেওয়ার আগে যথাযথ প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। চালকের কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, ঘুমের সুযোগ এবং দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানো, ক্লান্ত অবস্থায় স্টিয়ারিং ধরা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর অযৌক্তিক চাপ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শুধু চালকের ওপর সব দায় চাপিয়ে পরিবহন মালিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। চালক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত দক্ষতা যাচাই, পেশাগত আচরণ উন্নয়ন এবং পরিবহন পরিচালনায় নিরাপত্তানীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চালকের ভুলের জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ভূমিকা রাখা অন্যান্য কারণও তদন্ত করতে হবে।
সড়কের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সড়কে পর্যাপ্ত ফুটপাত নেই, কোথাও ফুটপাত দখল হয়ে আছে, কোথাও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, শিল্পাঞ্চল এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পথচারীর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সড়ক পরিকল্পনা করতে হবে। বিপজ্জনক বাঁক, দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হওয়া স্থান, অপর্যাপ্ত সড়কবাতি, ত্রুটিপূর্ণ সাইন ও মার্কিং, অরক্ষিত সড়ক বিভাজক এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথ চিহ্নিত করে সংশোধন করতে হবে। মহাসড়কে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নিরাপদ পারাপার, সার্ভিস লেন, সঠিক বাসস্টপ, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কের নিরাপত্তা নিরীক্ষা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দ্রুত সংশোধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্যে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বা নিরাপদ সড়কব্যবস্থা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ধারণার মূল কথা হলো, মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল যেন অনিবার্যভাবে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের কারণ না হয়, সে অনুযায়ী পুরো পরিবহনব্যবস্থাকে সাজাতে হবে। নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা, এই উপাদানগুলোকে সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সচেতনতার প্রচার কিংবা শুধু শাস্তি দিয়ে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। অবকাঠামো, আইন, যানবাহন, চালকের প্রশিক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমানোর জাতিসংঘের বৈশ্বিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকেও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ এবং অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে।
দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট অনেক আহত মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী পাওয়া, আহত ব্যক্তিকে সঠিকভাবে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং উপযুক্ত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তাই জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কার্যকর জরুরি সাড়া ব্যবস্থা, সমন্বিত অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, হাসপাতালের মধ্যে রেফারেল ব্যবস্থা, ট্রমা চিকিৎসার সক্ষমতা এবং প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা জরুরি। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তিকে অদক্ষভাবে টানাহেঁচড়া না করে প্রশিক্ষিত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর জীবন রক্ষার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
সড়ক দুর্ঘটনারোধে আরেকটি বড় সমস্যা হলো দুর্ঘটনার তথ্যের বিচ্ছিন্নতা। পুলিশ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তথ্য এক জায়গায় সমন্বিত না হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, মৃত্যুর কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ণয় কঠিন হয়। তাই একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দুর্ঘটনার স্থান, সময়, যানবাহনের ধরন, সড়কের অবস্থা, হতাহত, চিকিৎসা এবং তদন্তের ফলাফল নিয়মিত নথিভুক্ত করতে হবে। তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এবং অগ্রগতি মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পদ্ধতি ও সংজ্ঞার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান তুলনা ও বিশ্লেষণ করা যায়।
সড়ক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জনগণের দায়িত্বও অনস্বীকার্য। চালককে গতিসীমা মানতে হবে, বৈধ লাইসেন্স ও ফিটনেস নিশ্চিত করতে হবে, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। মোটরসাইকেলে চালক ও যাত্রী উভয়ের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার জরুরি। পথচারীদের নির্ধারিত স্থানে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ব্যবহার এবং ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে দায়িত্বশীল আচরণ, চালকের প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে জনসচেতনতার নামে রাষ্ট্র ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আড়াল করা যাবে না। নিরাপদ আচরণের সুযোগ তৈরি করতে হবে নিরাপদ অবকাঠামো, কার্যকর আইন এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যক্রমে বয়সোপযোগী সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়াতে হবে। গণমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ, প্রতিরোধের উপায়, আইনের প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন থাকা প্রয়োজন। কোনো বড় দুর্ঘটনার পর সাময়িক আলোচনা করে থেমে না গিয়ে সড়ক নিরাপত্তার অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। জনমত ও গণমাধ্যমের নজরদারি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
নিরাপদ সড়ক চাই ( নিসচা) দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও নীতিগত পরিবর্তনের দাবিতে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির প্রায় ১২০টি শাখার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, চালক প্রশিক্ষণ এবং সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে উদ্যোগগুলো আরও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নাগরিক সংগঠনগুলোর মতামত গ্রহণ করা উচিত। সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের জনসম্পৃক্ততা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক সংস্থার কাজ নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের তাৎপর্য তাই শুধু শোক স্মরণ বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এই দিন হতে হবে সড়ক নিরাপত্তার অগ্রগতি পর্যালোচনা, ব্যর্থতার কারণ শনাক্ত এবং বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের অঙ্গীকারের দিন। সরকারকে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সমন্বিত আইন প্রণয়ন করতে হবে, নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, দক্ষ চালক তৈরি করতে হবে, জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা দিবসকেন্দ্রিক তৎপরতা যেন কিছুদিন পর থেমে না যায়, সে জন্য সড়ক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থের অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন, একজন শিক্ষার্থী নিশ্চিন্তে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে এবং একজন শ্রমজীবী মানুষ জীবিকার সন্ধানে বের হয়ে সুস্থভাবে পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন। সড়কে মৃত্যু যেন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া না হয়, প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হয় এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা মানুষের জীবন রক্ষায়। তাই জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির বাইরে এসে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন, আইনের নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিক প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, স্বচ্ছতা এবং স্থায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রণয়ন করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না, আবার আইন প্রয়োগের নামে সাময়িক তৎপরতা দেখিয়েও থেমে থাকা যাবে না। নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ - সবার আগে বাংলাদেশ, এই প্রত্যয়কে শুধু স্লোগানে নয়, বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সড়ক দুর্ঘটনার্যধে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন, নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
( শিক্ষক, কবি,কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি), কেন্দ্রীয় কমিটি
যুগ্মমহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)
এমএসএম / এমএসএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২ বছর: ইতিহাসের গৌরব, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও আগামীর প্রত্যয়
নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ - সবার আগে বাংলাদেশ
বিমানবন্দরে নিরাপত্তাহীনতা-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা নির্মূলের বিকল্প নেই
অসুস্থ হওয়ার পরই কি স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ভাবনা শুরু হয়?
শিক্ষিত বেকার বাড়ছে: কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি
শারদীয় দুর্গোৎসব: ইতিহাস, সত্যের জয়গান ও আবহমান বাংলার সম্প্রীতি
সীমান্তে রক্তপাত ও পুশইন আর মুখে বন্ধুত্বের বুলি: এই দ্বিচারিতার শেষ কোথায়?
বিশ্ব খাদ্য দিবস: খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিই হোক অগ্রাধিকার
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে ভেঙে গেল আ’লীগের পুরোনো বয়ান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার আজীবন যোদ্ধা: অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য বীমা: কভারেজ সুবিধা ও বীমা বহির্ভূত ব্যয় পরিশোধের দায়