ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

কাকন বাহিনী কেন এত শক্তিশালী, তাদের শক্তির উৎস কোথায়?


আবুল হাশেম, বাঘা photo আবুল হাশেম, বাঘা
প্রকাশিত: ১৬-৬-২০২৬ দুপুর ১:৫৫
রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মা চরে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও এর মধ্যে সব থেকে শক্তিশালী হলো কাকন বাহিনী। কিন্তু প্রশ্ন হলো অপরাপর বাহিনী গুলোর থেকে কাকন বাহিনী কেন এত শক্তিশালী? এর জন্য বেশ কয়েকটি কারন বিদ্যমান, সেগুলো হলো রাজনৈতিক ছত্রছায়া, চরের থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ, দুর্গম চরাঞ্চল, ভারত সীমান্তবর্তী হওয়া। এসকল কারনে প্রশাসন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও দমন করা যায়নি কাকন বাহিনীকে। 
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গম চরে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যরা চরের বালু ও জমি দখল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটান। তাঁরা এক চরে অপরাধ করে আরেক চরে গিয়ে আশ্রয় নেন। কখনো চরের বিশাল কলাবাগান, আবার একেবারে সীমান্তের শূন্যরেখায় মাঠের মধ্যে গিয়ে আস্তানা গড়ে তোলেন। ২৫ বছর আগে কাকন বাহিনীর উত্থান হলেও ২০০৫ সালে র‍্যাবের অভিযানের কারনে কয়েক বছর বন্ধ থাকে কাকন বাহিনীর দৌরাত্ম্য। ২০০৫ সালে কাকনের ডানহাত পান্না র‍্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হলে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থাকার পর ২০০৭ সালে কাকন সৌদি আরবে চলে যান। 
কয়েক বছর পর ফিরে এসে আওয়ামীলীগের নেতাদের আশ্রয়ে এলাকার বালুমহালগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই তিনি গড়ে তোলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। আধিপত্য বিস্তার, বালুমহল নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে। পদ্মার চরের বালু থেকে সবকিছুতেই কাকন বাহিনীর হিস্যা থাকতে হবে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করতে সাহস পায়নি। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে কিছু ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলত বেশ কিছু অভিযানও চালিয়েছে র‍্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী।  কিন্তু এরপরও কাকন বাহিনীকে দমন করতে পারছে না প্রশাসন। 
কারন হিসেবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, দুর্নীতিগ্রস্থ প্রশাসন, দুর্গম চরাঞ্চল, চর থেকে বালু উত্তোলন, চরের জমির হিস্যা, মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ। 
গত ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায় কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে। তখন উঠে আসে প্রশাসনের মাসোহারা বিষয়টি। অভিযান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায় প্রশাসনের নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত বিপুল অংকের মাসোহারা দেওয়ার বিষয়টি।
শুধু তাই নয় এমন প্রকাশ্য সত্য উম্মচিত হওয়ার পরে একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে দেখা যায় বাংলাভিশন টিভি চ্যানেলে কাকন বাহিনীর বৈধ্যতা তৈরির জন্য কথা বলতে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করতে। আর তিনি হলেন পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এমন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তির এধরণের বক্তব্যের কারনে স্থানীয়রা হতাশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয়রা বলেন, হাবিবের অনুসারী ফয়েজ, মালেক সহ অন্যান্যরা বালু উত্তোলনে কাকন বাহিনীকে সহায়তা করেন।
এমন রাজনৈতিক ছত্রছায়া কাকন নাটরের লালপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ পাপ্পুর থেকেও পান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। স্যোসাল মিডিয়ায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা আছে।
এছাড়াও মাসোহারার বিনিময়ে নৌ পুলিশের আইসি নিরবিচ্ছিন্ন সহায়তা পান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 
সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড ও কাকন বাহিনীর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন,  পুলিশ এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে এবং আসামীদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

এমএসএম / এমএসএম

কালীগঙ্গায় ট্রলার দুর্ঘটনায় মেয়ের পর মায়ের লাশ উদ্ধার:পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন, লিবিয়ার গানপুদা কারাগারে প্রাণ গেল নবীগঞ্জের মতব্বিরের

সিম খেতে ঘাস কাটতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোর দিনমজুরের

উলিপুরে বৃদ্ধের নৃশংস হত্যা কান্ড নিয়ে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

ধনবাড়ীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৬

মুরাদনগরে লাখ টাকার গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

পটিয়ার পূজামণ্ডপে এনসিপি নেতারা, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয়

নবীনগরে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল জমজ দুই ভাইয়ের

বিলাইছড়িতে প্রধান শিক্ষক দীপু চাকমার বিদায় সংবর্ধনা

তেঁতুলিয়ায় সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস কাউন্সিলের সেমিনার ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন-সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য’ বিষয়ক সেমিনার

বড়লেখায় চাঞ্চল্যকর চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন; স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬

ইঞ্জিনসহ ৩ বগি লাইনচ্যুত হয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ভাঙনের মুখে শত সংসারে মিলনের হাসি, নির্যাতিত নারীদের হাতে ৬৮ লাখ টাকা