বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসবে মাতোয়ারা গণ বিশ্ববিদ্যালয়
আকাশজুড়ে উড়ছে ৪৮ দেশের পতাকা। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কারও হাতে ব্রাজিলের পতাকা। কোথাও মেসি না নেইমার বিতর্ক, কোথাও আবার চলেছে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে উত্তপ্ত বিশ্লেষণ। ক্লাসরুমের পাঠ শেষ হতেই দল বেঁধে জড়ো হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। চায়ের কাপের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ফুটবল উন্মাদনার গল্প। দেখে মনে হবে না এটি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস; বরং যেন বিশ্বকাপের রঙে সাজানো ক্ষুদ্র এক বিশ্বগ্রাম। ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে এমনই উৎসবমুখর রূপ নিয়েছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
চার বছর পরপর পৃথিবীকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে যে আয়োজন, তার নাম বিশ্বকাপ ফুটবল। এটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং কোটি মানুষের আবেগ, স্মৃতি, স্বপ্ন এবং পরিচয়ের অংশ। নব্বই মিনিটের একটি ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি দেশের আশা, একটি প্রজন্মের অনুভূতি এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। সেই বৈশ্বিক আবেগের ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বত্রিশ একরজুড়ে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা রূপ যেন পাল্টে গেছে। পাঠ্যবইয়ের আলোচনা ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে এখন ফুটবলের গল্প। ক্যাফেটেরিয়া, একাডেমিক ভবনের করিডোর, কেন্দ্রীয় মাঠ কিংবা শিক্ষার্থীদের আড্ডাস্থল সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিশ্বকাপ। কে জিতবে ট্রফি, কোন দলের কৌশল সবচেয়ে কার্যকর, কোন তরুণ তারকা আলো ছড়াবেন বিশ্বমঞ্চে কিংবা কোন কিংবদন্তি লিখবেন নতুন ইতিহাস, এমন নানা প্রশ্নে মুখর পুরো ক্যাম্পাস।
ফুটবলের এই মহোৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে গত রবিবার (১৪ জুন) আয়োজন করা হয়েছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। ক্যাম্পাসজুড়ে টাঙানো হয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা। বাংলাদেশের লাল সবুজের পাশাপাশি উড়ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিশ্বের নানা দেশের জাতীয় পতাকা। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নিয়েছে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
দিনভর ক্যাম্পাসে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। একদল শিক্ষার্থী প্রিয় দলের জার্সি পরে ছবি তুলছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থনের বার্তা দিচ্ছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে তর্কে ব্যস্ত। তবে এসব তর্কে নেই কোনো বিভাজন; বরং রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব আর আনন্দ। আর্জেন্টিনার সমর্থক বন্ধু ব্রাজিলের সমর্থককে খোঁচা দিচ্ছেন, আবার ম্যাচ শেষে একই টেবিলে বসেই ভাগাভাগি করছেন চায়ের কাপ। ফুটবল যেন এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে বেশি করে তৈরি করছে সম্পর্কের সেতুবন্ধন।
গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজন হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের পতাকা প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বকাপের আবহ ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই এই আয়োজন। সময়ের পার্থক্যের কারণে অধিকাংশ ম্যাচ গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হলেও নকআউট পর্বের পর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো বড় পর্দায় প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
শুধু পতাকা প্রদর্শনী নয়, উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে ড্রিবলিং প্রতিযোগিতা, পেনাল্টি কিক চ্যালেঞ্জ, জার্সি প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আনন্দঘন কর্মসূচি। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন নতুন করে খুঁজে পাচ্ছেন তারুণ্যের প্রাণশক্তি। খেলার প্রতি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন, যা মানুষকে একত্র হতে শেখায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে মানুষ যখন ক্রমেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তখন বিশ্বকাপের মতো উৎসব সবাইকে একই আবেগে যুক্ত করে। ভিন্ন বিভাগের, ভিন্ন জেলার কিংবা ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীরা একই আনন্দে শামিল হওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও এই উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সহনশীলতা, দলগত চেতনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিশ্বকাপকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ সেই ইতিবাচক সংস্কৃতিকেই আরও শক্তিশালী করছে।
দিন শেষে কোনো একটি দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, কেউ উল্লাসে ভাসবে, কেউ হয়তো হতাশ হবে। কয়েক সপ্তাহ পর বিশ্বকাপের আলোও নিভে যাবে। কিন্তু গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই সময়টুকু থেকে যাবে অন্য এক স্মৃতি হয়ে। থেকে যাবে একসঙ্গে হাসার, স্বপ্ন দেখার, তর্ক করার এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার গল্প হয়ে।
এমএসএম / এমএসএম
আন্তর্জাতিক জার্নাল র্যাঙ্কিংয়ে দেশের সেরা বাকৃবির ‘জাভার’, এশিয়ায় দশম
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসবে মাতোয়ারা গণ বিশ্ববিদ্যালয়
মালয়েশিয়াতে পড়ার সুযোগ কুবি শিক্ষার্থীদের, আবেদন শুরু আজ
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম গবি শাখার সভাপতি ইমরান, সম্পাদক তুহিন
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো মেডিকেল সেন্টার
ছয় দফা মেধাতালিকার পরও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা ১১০ আসন
ডিআইইউতে ১ম বারের মতো ব্যাবসায় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'ক্যারিয়ার লঞ্চপ্যাড ১.০'
অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের প্রত্যয় পবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্যের
নতুন বাজেটে কুবি শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু বরাদ্দ ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা
এইচএসসি-আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বাজেট পাবিপ্রবির
বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগেই উল্লাস, আকাশি-সাদায় মাতল কুবি ক্যাম্পাস