কুতুবদিয়ায় ১৫ মাসেও পৌঁছায়নি বরাদ্দকৃত ভেটেরিনারি মোবাইল ক্লিনিক, অবহেলায় খামারিরা
প্রাণিসম্পদ খাতে সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কুতুবদিয়া উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভেটেরিনারি মোবাইল ক্লিনিক ১৫ মাস পেরিয়েও উপজেলায় পৌঁছেনি। বরাদ্দকৃত গাড়িটি বর্তমানে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ব্যবহৃত হলেও কুতুবদিয়ার জন্য নির্মিত গ্যারেজ ও অবকাঠামো পড়ে আছে ব্যবহারহীন অবস্থায়। এতে সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং বরাদ্দ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর আওতায় ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কুতুবদিয়া উপজেলার জন্য একটি আধুনিক ভেটেরিনারি মোবাইল ক্লিনিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই মোবাইল ক্লিনিকের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা, টিকাদান, রোগ নির্ণয় এবং জরুরি সেবা দেওয়ার কথা ছিল। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়ে আসছিল।
কিন্তু বরাদ্দ ঘোষণার দীর্ঘ সময় পরও মোবাইল ক্লিনিকটি কুতুবদিয়ায় হস্তান্তর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারি ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, পশু অসুস্থ হলে এখনো সীমিত চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বড়ঘোপ প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। জরুরি পরিস্থিতিতে হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে গিয়ে অনেক খামারি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বড়ঘোপ এলাকার খামারি আবদুল করিম বলেন, “কুতুবদিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া গাড়ি যদি জেলা শহরে ব্যবহার হয়, তাহলে আমাদের জন্য বরাদ্দের অর্থ কী? আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না।” ধুরুং ইউনিয়নের খামারি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “সরকার সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলায় আমরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।” আলী আকবর ডেইল এলাকার খামারি জসিম উদ্দিন বলেন, “পশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যায় না। অনেক সময় অপচিকিৎসার কারণে পশু মারা যায়। মোবাইল ক্লিনিক থাকলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যেত।”
এদিকে মোবাইল ক্লিনিক সংরক্ষণের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় চত্বরে সরকারি অর্থ ব্যয়ে একটি বড় আকারের গ্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু গাড়ি না আসায় স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মতে, মোবাইল ক্লিনিকটি চালু হলে দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকায় পশুচিকিৎসা সেবা সহজলভ্য হতো, প্রাণিসম্পদের রোগব্যাধি দ্রুত শনাক্ত করা যেত এবং খামারিরা সরাসরি উপকৃত হতেন। অথচ বরাদ্দের এতদিন পরও সেবাটি চালু না হওয়ায় প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো খামারি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভেটেরিনারি মোবাইল ক্লিনিকটি বর্তমানে জেলা কার্যালয়ে রয়েছে এবং সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে। গাড়িটি কুতুবদিয়ায় আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।” তিনি আরও জানান, যে প্রকল্পের আওতায় গাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেই প্রকল্পের মেয়াদ চলতি জুন (২০২৬) মাসে শেষ হওয়ার কথা। এ অবস্থায় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কুতুবদিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত ভেটেরিনারি মোবাইল ক্লিনিক উপজেলায় হস্তান্তর করে কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।
এমএসএম / এমএসএম
বরগুনায় জি,টিভির প্রাইভেটকারও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত -২
পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কুয়াকাটায় তারুণ্যের উৎসব
পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই,চাল আসবাবপত্র সব পুড়ে ছাই
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে শালিখা থানা পুলিশের মোটরসাইকেল মহড়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের চেক বিতরণ
এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো এসআর পরিবহনের দুই এসি বাস
কুমিল্লা কবি পরিষদের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
গোপালগঞ্জে সাইফুর রহমান নান্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
নড়াইলে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে নড়াগাতী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে বৈষম্যের অভিযোগ