ঢাকা সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামে কারখানার বর্জ্যে বিপর্যস্ত পরিবেশ, তদন্তের নির্দেশ


চট্টগ্রাম অফিস photo চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: ৬-৭-২০২৬ দুপুর ৪:৫

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার বাহির সিগনাল এলাকার রীপ লেদার, ওয়েল গ্রুপ, মা জনাব পেপার মিল, কেডিএস, ফোর এইচ গ্রুপ, পেপার মিল, রতন প্যাকেজ, মাছ ফ্যাক্টরী, ইত্তেহাব ফ্যাক্টরী, ইছা গোডেন, সিগারেট ফ্যাক্টরী, ম্যাফ সুজ শিল্প প্রতিষ্ঠানের  রাসায়নিক বর্জ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট করছে পরিবেশ। এসব কারখানা ইটিপি যথাযথভাবে পরিচালনা না করে রাসায়নিক তরল বর্জ্য উন্মুক্তভাবে নিষ্কাশন করার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে হলিডে বিল, ব্রাহ্মণ বিল ও চৌধুরী বিল সংলগ্ন এলাকা পরিবেশ বিপর্র্যয়ের মুখে পড়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুয়াইশ-চান্দগাঁও কৃষক উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অরুণ চন্দ্র বণিক সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে গত ১৬ জুন জাস্টিস অব দ্যা পিস ও চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ রক্ষায় অধিদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিএমএম আদালতের বিচারক এ. জি. এম. মনিরুল হাসান সরকার। 
গত ১ জুলাই ৭৩ নং আদেশে বলা হয়েছে, কুয়াইশ-চান্দগাঁও কৃষক উন্নয়ন পরিষদের সভাপতির লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, অভিযোগকারী ও উত্তর চান্দগাঁও এলাকার স্থানীয় জনসাধারন দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষিজমি ও জলাশয়ের সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তাদের অভিযোগ নজরে আনার চেষ্টা করেছেন এবং অভিযোগের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন পত্র ও যোগাযোগের অনুলিপি দাখিল করেছেন। অভিযোগের প্রকৃতি এবং সংযুক্ত সরকারি নথিপত্রের বিষয়বস্তু বিবেচনায় আদালত বিষয়টিকে সাধারণ ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে নয়; বরং সম্ভাব্য পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলাশয় এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে, পূর্বে সেখানে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য লোকালয়ে প্রবেশ রোধে একটি প্রতিরোধক বাঁধ বিদ্যমান ছিল। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় প্রতিরোধক বাঁধটি অপসারণের পর, কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্য কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি সিডিএ’র প্রধান ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে কৃষিজমি, জলাশয় ও লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।  ফলে ইরি ধানের আবাদকৃত বিপুল পরিমাণ জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মৎস্য খামারের মাছ মারা গেছে, জলাশয়ের পানি দূষিত হয়েছে, এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে, স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষক ও মৎস্যচাষীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পানি আইনে জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনের শাসনের স্বার্থে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়সমূহ সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্ত নিশ্চিত করা আবশ্যক মর্মে এই আদালত মনে করছে।
এর আগে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ দপ্তর ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বারবার স্মারকলিপি ও নির্দেশনা জারি হওয়া স্বত্বেও সাধারণ নাগরিক ও কৃষকেরা কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাননি বিধায়, ন্যায় বিচার প্রাপ্তীর সাংবিধানিক অধিকার ও জনস্বার্থে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা আবশ্যক বলে মনে করছে।

ফলে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয় স্বাধীন, নিরপেক্ষ, বৈজ্ঞানিক ও আইনসম্মত তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তের স্বার্থে পরিচালক তাঁর প্রশাসনিক বিবেচনায় বা উপ-পরিচালক বা তদূর্ধ্ব একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় কারিগরি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত দল মনোনীত করতে বলঅ হয়েছে। 
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, বিগত ৩ বছরে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উক্ত কারখানাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন কিনা এবং ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে পূর্বে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কিনা? না হয়ে থাকলে তার কারণ কী? অভিযোগে উল্লিখিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কিনা এবং যদি থাকে, তবে তার শর্তাবলি প্রতিপালিত হয়েছে কিনা। ইটিপি সচল ও কার্যকর অবস্থায় ছিল কিনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হয়েছে কিনা। কারখানা হতে নির্গত শিল্পবর্জ্য কোথায় নিষ্কাশন করা হচ্ছে। সরকারি ড্রেন, খাল, বিল অথবা জলাশয়ের সাথে কোনো অবৈধ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে কিনা। কৃষিজমি, মাছের খামার এবং জলাশয়ের ক্ষতির প্রকৃতি ও সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করতে হবে। এর আগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। বর্তমানে দূষণ অব্যাহত রয়েছে কিনা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি বিদ্যমান আছে কিনা। অভিযোগে বর্ণিত তথ্যসমূহ কতটুকু সত্য? আইনানুগ পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কৃষিজমি, মৎস্য সম্পদ, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে মতামত প্রদান ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোন কোন আইন, বিধি, পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত অথবা প্রযোজ্য আইনগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের বিষয় প্রতীয়মান হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে মতামত প্রদান করতে বলা হয়েছে।
আদেশের কপি চসিকের মেয়র, সিডিএ চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিএমপি কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর এবং আঞ্চলিক পরিচালক ও অভিযোগকারী অরুণ চন্দ্র বণিককে পাঠানো হয়েছে। 

এমএসএম / এমএসএম

শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনগত বাধা নেই: রুমিন ফারহানা

আদমদীঘিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ব্রাশফায়ারে ৩ জেএসএস সদস্যকে হত্যা

কম দিছো ক্যা আবার,আর এক হাজার দিলেইতো হয়

ধামরাইয়ে পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন, ঋণ ও গাছের চারা বিতরণ

মাদারীপুরে জজ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দম্পতির বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি ও লুট

মহাদেবপুরে অধ্যক্ষ আরিফ এখন ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’

ভোলায় এতিমখানার বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের সময় উচ্চমান সহকারী সুমন কে দিতে হয় চাহিদামত ঘুষ

পটুয়াখালীতে সাংবাদিক জাকির মাহমুদ সেলিমের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বারহাট্টায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের মাইকিং

রাজারহাটে চিপস এর প্রলোভন দেখিয়ে মন্দিরের সভাপতি কর্তৃক ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ