ঢাকা সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় প্রণোদনা, বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ


রিয়াজউদ্দিন আহমেদ photo রিয়াজউদ্দিন আহমেদ
প্রকাশিত: ৬-৭-২০২৬ বিকাল ৬:৪১

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একাধিক কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ উদ্যোগ দেশের সবুজ জ্বালানি রূপান্তরের প্রতি সরকারের শক্তিশালী অঙ্গীকারের প্রতিফলন হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের ওপর।

 


বাজেট অনুযায়ী, ২০৩১ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে করপোরেট আয়কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিনিয়োগ ব্যয় কমাবে, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল নিয়ে অনিশ্চয়তা দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের গতি কিছুটা শ্লথ করতে পারে। কারণ, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সংগত রূপান্তরের জন্য উন্নত দেশ ও বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। একদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা, অন্যদিকে কমে যাওয়া দেশীয় গ্যাস মজুত এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির চাপ দেশের জ্বালানি খাতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখন শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজনেও পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। আলোচনায় বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন, সবুজ শিল্প এবং জলবায়ু তহবিলের বিষয়গুলো স্থান পায়। নীতিনির্ধারকদের আশা, চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশের সবুজ জ্বালানি খাতকে আরও গতিশীল করবে।
তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এখনো এলএনজি ও কয়লার ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত কয়লা আমদানিতে কর সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, জ্বালানি রূপান্তরের এই সময়কালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনও সীমিত, যা লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের গ্রিড আধুনিকায়ন, ব্যাটারি স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধি, জমির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা না গেলে নতুন কর ও শুল্ক সুবিধার পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।
সেন্টার ফর পারটিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, অনুদানভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়নই টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের মূল ভিত্তি। নীতি ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আবিদ রহমান / আবিদ রহমান

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় প্রণোদনা, বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০৬ জন

সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন না হলে লাইসেন্স বাতিল

তারেক রহমানকে সৌ‌দি সফরের আমন্ত্রণ

দেশের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩১

কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ডাক্তার-নার্সরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন

প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গেমচেঞ্জার

ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে দীর্ঘ সারি, ‘স্লট’ নিয়ে বড় ভোগান্তি

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত