বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধ ও মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় জেলেদের বিক্ষোভ
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার অপসারণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় হাজারো জেলে ও মৎস্যজীবী। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটা অঞ্চলের শত শত জেলে, ট্রলার শ্রমিক ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা ব্যানার-ফেস্টুনসহ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ছয় দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপিতে জেলেরা উল্লেখ করেন, গভীর সমুদ্রে কাঠের তৈরি ট্রলিং বোট, বটম ট্রলিং এবং বেহুন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ সরঞ্জামের অবাধ ব্যবহারে সামুদ্রিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। নির্বিচারে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে পরিবার আজ জীবিকার চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বঙ্গোপসাগরে ৭ লাখ ৬ হাজার টন মাছ আহরণ হলেও, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৬ লাখ ২৮ হাজার টনে নেমে এসেছে। এই বিপর্যয় রোধে জেলেরা ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—বঙ্গোপসাগরে সব প্রকার অবৈধ ট্রলিং অবিলম্বে বন্ধ করা, বেহুন্দি জালসহ সব নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত ও কঠোর কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান পরিচালনা, অবৈধ ট্রলিংয়ের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার কার্যক্রম তদন্তপূর্বক তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দ্রুত অপসারণ করা।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি এখানে প্রায় পাঁচ বছর কর্মরত আছেন। অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় তার বদলির জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই সুপারিশ পাঠিয়েছি।” কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, “জেলেদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। আমি সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় পৌঁছে দেব।” তবে বিক্ষুব্ধ জেলেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামীতে তাদের এই যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সমুদ্রগামী সব জেলেদের নিয়ে বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। দেশের ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন উপকূলের খেটে খাওয়া সাধারণ জেলেদের শেষ ভরসা।
এমএসএম / এমএসএম
ময়মনসিংহে সিএনজিকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৭
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঘরের ভেতর থেকে সাবেক ইউপি সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার
ঘিওরে শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিমার রুপ ও সৌন্দর্য্য ফুঁটিয়ে তুলতে মহাব্যস্ত শিল্পীরা
শার্শা সীমান্তে আখের বাম্পার ফলন
ভূরুঙ্গামারীতে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
লেখালিখি হোক সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার: লেখক এস এম মাসুদ রানা
বিলাইছড়িতে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত সংসদীয় ককাসের সদস্য হলেন আবুল হোসেন খান
রায়গঞ্জে র্যালি-আলোচনায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত
আত্রাইয়ে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
তারুণ্যের উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী
বড়লেখায় দৈনিক "মৌলভীবাজার প্রতিদিন" প্রত্রিকার আনুষ্ঠানিক শুভযাত্রা