১৩ বছর পর ভালুকার দলিল লেখক মিন্টু হত্যা মামলার রায়
দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও পলাতক মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। রায়ের সময় ফরিদ খলিফা আদালতে উপস্থিত থাকলেও মামলার এক নম্বর আসামি মাসুদ মিয়া পলাতক ছিলেন।
যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল মতিন (৪৫), তার বাবা আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী (৬৮), মো. মোশারফ হোসেন (৫৮), মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮), মো. তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), মো. নজরুল মিয়া (৪৩), মো. মোকলেছুর রহমান (৫৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮), মো. আতিকুল (৩৯) এবং পলাতক মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকালে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ও ভালুকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি দেখতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন নিহতের স্ত্রী লতিফা খাতুন বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দেন।
রায়ের সময় ১২ আসামির মধ্যে দুজন পলাতক ছিলেন। বাকি ১০ আসামির উপস্থিতিতেই আদালত রায় ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন বিশেষ দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আকরাম হোসেন। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী রাশেদা তাহমিনা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএইচএম খালেকুজ্জামান।
রায় ঘোষণার পর পিপি মো. আকরাম হোসেন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে হত্যাকাণ্ড সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
নিহতের ছেলে জাহিদ হাসান তালুকদার বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর পর তাদের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, প্রায় ১৩ বছর পর আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ের সময় ১০ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
১৩ বছর পর ভালুকার দলিল লেখক মিন্টু হত্যা মামলার রায়
পুলিশ হেফাজত থেকে জব্দ জাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা
হাটহাজারীতে বন্যায় মৎস্য ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মান্দায় রাতের অন্ধকারে আবারও অর্ধশতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ
প্রেমের টানে ধর্মান্তরিত হলো অন্বেষা, মুসলিম যুবককে বিয়ে
পদ্মার তীব্র ভাঙনে দিশেহারা সদরপুরের মানুষ, নদীগর্ভে বিস্তীর্ণ জনপদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জে স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মারধরের অভিযোগ
নোয়াখালীর উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রূপরেখা নির্ধারণে গোলটেবিল বৈঠক
সাতকানিয়া পৌরসভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২হাজার পরিবারের মাঝে হাজী রফিকের ত্রাণ বিতরণ
জেলা পরিষদের উদ্যোগে কুতুবদিয়ায় ৫০০ বন্যাদুর্গত পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাঘায় বৃক্ষরোপণ
পটুয়াখালীতে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি পালন হয়নি