হুমকিতে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ: জলবায়ু সংকট ও মানবসৃষ্ট আগ্রাসনে ধুঁকছে সুন্দরবন
বিশ্বের বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবন আজ বহুমুখী সংকটের সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট অন্তত আট ধরনের আগ্রাসনের শিকার হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে এই বিশ্ব ঐতিহ্য। একদিকে লোনাপানির দাপটে বিপন্ন হচ্ছে স্বাদুপানি-সহিষ্ণু প্রজাতি, অন্যদিকে শিল্পায়ন, প্লাস্টিক দূষণ ও অবৈধ শিকারের কারণে কমছে বনের প্রাণপ্রাচুর্য। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মাঝেই গতকাল ২৬ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস’।
পৃথিবীর বেশির ভাগ ম্যানগ্রোভ বনে দুই-তিন প্রজাতির শ্বাসমূল থাকলেও সুন্দরবনে রয়েছে ছয় ধরনের, যা বনটিকে অনন্য করেছে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক ফুট ওপরে অবস্থিত হওয়ায় জলবায়ু সংকটের ঝুঁকি এখানে প্রকট। গত চার দশকে উত্তর দিক থেকে স্বাদুপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লোনাপানির তীব্রতা বেড়েছে। এতে লোনাপানি-সহিষ্ণু প্রজাতি টিকলেও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে স্বাদুপানি-সহিষ্ণু উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম।
সরকার সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকাকে ‘অভয়ারণ্য’ এবং চারপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষণা করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এখানে শিল্প-কারখানা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরীর মতে, গত এক দশকে বনের কাছেই রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপি গ্যাস প্লান্ট ও অয়েল রিফাইনারিসহ প্রায় ৫০টি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এমনকি খাদ্য বিভাগও বিশালাকৃতির গুদাম নির্মাণ করেছে।
অধ্যাপক হারুন জানান, কারখানাগুলোর অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষিত পানি মইদারা ও পশুর নদ হয়ে ছোট খালের মাধ্যমে বনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। নদীর পানিতে তেলের পরিমাণ বাড়ায় হুমকিতে পড়েছে জলজ প্রাণী এবং অনেক স্থানে নতুন চারা গজাচ্ছে না।
সুন্দরবন ঘিরে দূষণের নতুন অনুষঙ্গ প্লাস্টিক ও অপরিকল্পিত পর্যটন। বন বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বছর দুই লাখেরও বেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। বনের কোলঘেঁষে দাকোপ, মোংলা ও শ্যামনগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ৩০টি কটেজ-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। জেনারেটরের বিকট শব্দ ও উচ্চশব্দের গান বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।
এর পাশাপাশি বনের ভেতরের নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের হাইড্রোলিক হর্ন, নিঃসৃত তেল ও বর্জ্য বনের মাটি ও পানি দূষিত করছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বনের পানিতে প্রতি লিটারে গড়ে ২.২২টি এবং মাটিতে প্রতি কেজিতে ৭৩৪টি মাইক্রো প্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে।
১৯৭০-এর দশকে গেজেটিয়ারে বনসম্পদ লুটের কারণে সুন্দরবন প্রাণহীন হয়ে পড়ার যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা আজ অনেকটাই দৃশ্যমান। আইইউসিএনের ২০১৫ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ অংশ থেকে ইতোমধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি, ১১ ধরনের স্তন্যপায়ী এবং ১ প্রজাতির সরীসৃপ আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে।
বর্তমানে বনের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের প্রবণতা বেড়েছে, যা শুধু জলজ প্রাণীই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। এছাড়া চক্রবদ্ধভাবে বাঘ, হরিণ, কুমির, সাপ ও তক্ষক শিকার এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনাও ঘটছে।
নানা উদ্বেগজনক খবরের মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছে বন বিভাগ। প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরীর দাবি, গত পাঁচ বছরে বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর পরিমাণ সার্বিকভাবে বেড়েছে। বাঘ এবং এর খাদ্যতালিকায় থাকা প্রাণীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, সুন্দরবনকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে বন বিভাগ, র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে। নদী-খালের মুখে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিকারিরা মাংস ও ফাঁদসহ ধরা পড়ছে। আগামীতে বন সুরক্ষায় কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় তৈরি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে বন কর্তৃপক্ষ।
ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস পালিত হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনকে রক্ষায় কেবল সচেতনতাই যথেষ্ট নয়; বনের ভেতর ও চারপাশে চলমান সব ধরনের আগ্রাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।
এমএসএম / এমএসএম
বাকেরগঞ্জ গ্রিন লাইভ ক্লিনিকের ব্যবসার অদৃশ্য সিন্ডিকেট :সেবার নামে ক্লিনিকে চলছে ব্যবসা বাণিজ্য
শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ,মরদেহ উদ্ধার
হুমকিতে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ: জলবায়ু সংকট ও মানবসৃষ্ট আগ্রাসনে ধুঁকছে সুন্দরবন
কাপ্তাইয়ের আস্থা প্রকল্পের যুব ফোরাম ও স্থানীয় কমিউনিটির উদ্যোগে প্রকল্পের সমাপনী মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সিডিএ’র বিতর্কিত ইমারত পরিদর্শকদের রক্ষায় মরিয়া সিন্ডিকেট
চাঁদপুরে সংস্কার শেষ না হতেই ধসে পড়ছে বাঁধের মাটি
আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয় ভাংচুর! সিসি ক্যামেরা অচল থাকায় মিলছেনা তথ্য!
বাগমারায় ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবুল গ্রেপ্তার
দৌলতপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, দুর্ভোগে গ্রামবাসী
সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল
অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করা চলবে না: বিমানমন্ত্রী