ঢাকা শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৬ বছর বয়সেই যেভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে দক্ষ হয়ে ওঠেন ইবনে সিনা


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬-৮-২০২৬ দুপুর ১:৪৯

মধ্যযুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও দার্শনিক ছিলেন আবু আলী হুসাইন ইবনে সিনা। কয়েক শতাব্দী ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার রচনাগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স। বুখারায় বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবন কাটানো ইবনে সিনা ২০ বছর বয়সেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি সমসাময়িক আলেম ও জ্ঞানীদের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেন এবং তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। রাজনীতিতেও যুক্ত হন, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্বাসিত ও কারাবন্দি হতে হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগও আনা হয়েছিল।

ইবনে সিনা বিপুলসংখ্যক গ্রন্থ রচনা করে গেছেন, তার অনেক গ্রন্থ আজও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত। কিছু গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছে, কিছু এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। তার অনেক রচনা কোনো চিহ্ন ছাড়াই হারিয়ে গেছে। তার জীবদ্দশাতেই কিছু বই লাতিন ভাষায় অনূদিত হয়। আধুনিক সময়ে তার রচনা ফরাসি, চীনা, আইরিশসহ আরও বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

প্রাচ্যে এবং তার ছাত্র ও অনুসারীদের কাছে তিনি শায়খুর রইস ও ইসলামের অ্যারিস্টটল নামে পরিচিত। আর পাশ্চাত্যে তাকে চিকিৎসকদের যুবরাজ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। ইতিহাসবিদেরা তার বুদ্ধিমত্তাকে জার্মান কবি ও চিন্তাবিদ ইয়োহান ভলফগাং ফন গ্যোটের মতো তীক্ষ্ণ এবং তার প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মতো অসাধারণ বলে বর্ণনা করেছেন। তার অসাধারণ জ্ঞান ও দক্ষতা ইসলামী সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি এমন বৈজ্ঞানিক জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন, যার ওপর আজও বিশ্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়।

এমএসএম / এমএসএম