ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

যে দোয়া পাঠে রহমতের দরজা খুলে যায়


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪-৮-২০২৬ দুপুর ১১:২৬

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, সংকট, অনিশ্চয়তা কিংবা বিপদের মুহূর্ত আসতেই পারে। এসব সময়ে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো আল্লাহর ওপর ভরসা ও তার কাছে দোয়া করা।
দোয়া শুধু প্রয়োজন পূরণের আবেদন নয়; এটি বান্দার সঙ্গে তার রবের সম্পর্ক গভীর করার অন্যতম মাধ্যম। তাই দোয়া মুমিনের জীবনে ইবাদত, আশা ও আত্মিক প্রশান্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আমরা নবীজির (সা.) সঙ্গে নামাজ আদায় করছিলাম। এ সময় একজন সাহাবি বললেন, 
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবারু কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।
অর্থ : ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, মহান। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা।
আর সকাল-সন্ধ্যায় আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’
নামাজ শেষে মহানবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই কথাগুলো কে বলেছে?’ সাহাবি নিজের পরিচয় দিলে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, এ কথাগুলোর কারণে তার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।’
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’—(সূরা গাফির, ৪০:৬০)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে দোয়া করা বান্দার জন্য তার রহমত ও অনুগ্রহ কামনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
দোয়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
দোয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এতে অহংকার কমে এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ে। সুখের সময় যেমন আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত, তেমনি বিপদের সময়ও হতাশ না হয়ে তার কাছেই ফিরে আসার শিক্ষা ইসলামে দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া-ই ইবাদত।’ (সুনান আবু দাউদ, ১৪৭৯)
অর্থাৎ দোয়া কেবল কোনো কিছু পাওয়ার উপায় নয়; আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করাও দোয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘রহমতের দরজা’ বলতে কী বোঝায়
‘দোয়া পাঠে রহমতের দরজা খুলে যায়’—এ কথাটি মূলত আল্লাহর দয়া, সাহায্য ও অনুগ্রহের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি আধ্যাত্মিক তাৎপর্য প্রকাশ করে। এর অর্থ এমন নয় যে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়লেই অবশ্যই নির্দিষ্ট একটি ফল পাওয়া যাবে। বরং বান্দা যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ডাকে, তখন সে তার ওপর ভরসা করে এবং তার রহমতের প্রত্যাশা করে।
দোয়ার জবাব কীভাবে আসবে, সেটিও আল্লাহর হিকমতের বিষয়। কখনো বান্দার চাওয়া পূরণ হয়, কখনো কোনো বিপদ দূর হয়, আবার কখনো দোয়ার প্রতিদান আখিরাতের জন্য রাখা হয়-ইসলামী শিক্ষায় এমন ধারণাই পাওয়া যায়।
দোয়া মানুষকে হতাশা থেকে রক্ষা করে
বিপদের সময় মানুষ অনেক সময় নিজেকে একা মনে করে। দোয়া তাকে মনে করিয়ে দেয়-সে একা নয়; তার একজন সর্বশক্তিমান রব আছেন। এ বিশ্বাস মানুষের মনে ধৈর্য ও আশা তৈরি করে।
তবে দোয়ার সঙ্গে চেষ্টা করাও জরুরি। ইসলাম শুধু প্রার্থনা করে বসে থাকার শিক্ষা দেয় না। প্রয়োজনীয় বৈধ চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়াই মুমিনের ভারসাম্যপূর্ণ পথ।
দোয়ার আদবও গুরুত্বপূর্ণ
দোয়ার সময় আন্তরিকতা থাকা, আল্লাহর প্রশংসা করা, নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা, বিনয়ী হওয়া এবং হালাল জীবনযাপনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। দোয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরতেও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য বড় কোনো ভাষা বা জটিল শব্দের প্রয়োজন নেই। নিজের ভাষায়ও বান্দা তার প্রয়োজন, কষ্ট ও আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে পারে। আল্লাহ মানুষের অন্তরের কথাও জানেন।
দোয়া শুধু বিপদের সময়ের জন্য নয়
অনেকেই কেবল বিপদে পড়লে দোয়া করেন। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে দোয়া হওয়া উচিত নিয়মিত আমল। সুস্থতা, পরিবার, জ্ঞান, হেদায়েত, রিজিক, ক্ষমা এবং নেক পথে অটল থাকার জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।
দোয়া মুমিনের দুর্বলতার প্রকাশ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রকাশ। দোয়া মানুষের হৃদয়ে আশা জাগায়, আত্মাকে প্রশান্ত করে এবং তাকে তার স্রষ্টার আরও কাছে নিয়ে যায়। তাই জীবনের প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা, বৈধ চেষ্টা করা এবং তার রহমতের প্রত্যাশায় দোয়া করা একজন মুমিনের সুন্দর জীবনযাপনের অংশ।

 

Aminur / Aminur