ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

সূর্যগ্রহণের সময় যেসব আমল করবেন


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২-৮-২০২৬ দুপুর ১০:৫৩

সূর্য ও চন্দ্র মহান আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের অন্যতম। সূর্যগ্রহণও আল্লাহর কুদরত ও মহাশক্তির একটি নিদর্শন। তাই এটি নিছক কৌতূহল বা আনন্দের বিষয় নয়, বরং এ সময় আল্লাহকে স্মরণ করা, নামাজ আদায় করা, দোয়া করা ও তওবা-ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়া সুন্নত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি সূর্যকে তেজোদীপ্ত এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন। আর তার (পরিভ্রমণের) জন্য বিভিন্ন মনজিল নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও মাসের হিসাব জানতে পারো।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৫)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনাবলির দুটি নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। যখন তোমরা তা দেখবে, তখন বেশি বেশি আল্লাহকে ডাকবে, দোয়া করবে, তাকবির বলবে, নামাজ আদায় করবে এবং সদকা করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৪৪)।
সূর্যগ্রহণের সময় করণীয়
সূর্যগ্রহণ শুরু হলে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এ নামাজ সাধারণ নফল নামাজের মতো হলেও প্রতি রাকাতে দীর্ঘ কিরাত ও দীর্ঘ রুকু-সিজদা করা উত্তম। এর জন্য আজান ও ইকামত নেই। মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে জামাতের সঙ্গেও এ নামাজ আদায় করা যায়। নামাজের পাশাপাশি দোয়া, জিকির, তওবা-ইস্তিগফার ও দান-সদকা করা উচিত।
নারীরাও ঘরে নামাজ আদায় করতে পারেন। গ্রহণের সময় অন্যায় ও অশোভন কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
ভুল ধারণা
সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী কিছু কাটাকাটি করলে শিশুর শরীরে দাগ, ঠোঁটকাটা বা কানকাটা হওয়ার মতো ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসলামে এ বিশ্বাসের কোনো প্রমাণ নেই। তাই এমন কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা উচিত।
শিশুদের সতর্কতা
সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা বিপজ্জনক। এতে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের এ বিষয়ে সতর্ক রাখতে হবে। গ্রহণ দেখতে হলে অবশ্যই উপযুক্ত সোলার সেফটি গ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
সূর্যগ্রহণ আল্লাহর একটি নিদর্শন। তাই এ সময় কৌতূহলের বদলে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ, দোয়া ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়াই মুমিনের কর্তব্য।

Aminur / Aminur